প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের কষ্টের জীবন

0

শিপলু জামান ,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)॥ বাবা কোলে নিয়েছেন। কিন্তু বাবার হাত ধরে হাঁটা হয়নি দুই ভাই- বোনের। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আবার এ তিনজনের মধ্যে দুইজন হাঁটতেই পারেন না। লিপি দাস (২৬) ও শিমুল দাসের (২২) এতগুলো বছর কেটে গেছে একটা খুপড়ি ঘরের বারান্দায়।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিংগি গ্রামে বাবা-মা হারা লিপি দাস ও শিমুল দাসের জীবন এভাবেই কাটছে আরেক প্রতিবন্ধী (ডান পায়ে শক্তি কম) বড় ভাই লিপন (৩৮) দাসের ঘরের বারান্দায়। সরেজমিনে দেখা যায়,একটা পাটির ওপর শিমুল দাস বসে ও লিপি দাস শুয়ে আছেন। এ সময় কথা হয় বড় ভাই লিপন দাসের সাথে। তিনি জানান, তার বাবা মনোরঞ্জন দাস মনো মারা গেছে ১৩ বছর আগে। মা মারা গেছেন ৭ বছর আগে। নিজের এক ছেলে এক মেয়ে আবার দুই ভাই-বোনের এ অবস্থা।তাই কষ্ট করে হলেও আমাকে ভ্যানগাড়ি চালাতে হয়। লিপন দাসের ৪ শতক ভিটার জমি ছাড়া আর কোন জমি নেই। কথা বলার এক পর্যায়ে লিপন দাস জানান,আমার এতবড় সংসারে এত ছোট আয়ে জীবন চলা বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবন্ধী কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে লিপন দাস জানান,আমার দুই ভাই-বোনের প্রতিবন্ধী কার্ড আছে।সরকারি বা অন্য কোন জায়গা থেকে কোন সাহায্য পান কিনা জানতে চাইলে লিপন দাস জানান, ১৫ টাকা কেজি দরের চাল পাই। তবে নিজের পায়ের শক্তি ঠিক রাখতে আমাকে প্রতিদিন পারকিনিল ২০ এমজি ট্যাবলেট খেতে হয় ৪টি করে। তিনি আরো জানান,আমার দুই প্রতিবন্ধী ভাই-বোন একই ট্যাবলেট খায় প্রতিদিন দুটো করে।
এই পারকিনিল ট্যাবলেট সম্পর্কে জানতে চাইলে,কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার আব্দুস সাত্তার রিপন জানান, পারকিনিল ট্যাবলেট স্নায়ু রোগের জন্যে কাজ করে যা মানবদেহকে সচল রাখতে সাহায্য করে।