মনিরামপুরে গাছের ক্ষতি করে পেরেক ঠুকে লাগানো হচ্ছে পোস্টার-ব্যানার

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাট-বাজারে বিভিন্ন গাছে লোহার পেরেক ঠুকে লাগানো হচ্ছে নানান ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। এর ফলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য গাছ মরেও যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তার পাশে গাছে গাছে ঝুলে আছে স্কুল কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন, কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন, হারবাল কোম্পানির বিজ্ঞাপন, ডিগ্রিধারি চিকিৎসকের প্রচার সংক্রান্ত পোস্টার ও ফেস্টুন। দীর্ঘদিন ধরে গাছে এসব পোস্টার ও ফেস্টুন লোহার পেরেক দিয়ে সাঁটানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারও কোনপ্রকার ভ্রুক্ষেপ নেই।
চালুয়াহাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ আলী খানদ বলছেন, লোহার পেরেক ঠুকে পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর কারণে প্রতিনিয়তই জীবন্ত এ সব গাছের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। গাছগুলো মরে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ফলে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রাজগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন এ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কসহ গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নানা প্রজাতির অসংখ্য ছোট বড় গাছ রয়েছে। এসব গাছে লোহার পেরেক দিয়ে সাঁটানো হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির পোস্টার ফেস্টুন, স্কুল কলেজের ভর্তি বা কোচিং সেন্টারের পোস্টার ও ফেস্টুন। সেই সাথে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যক্তিগত পোস্টার বা ফেস্টুন।
ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা বলেন, গাছে গাছে এসব পোস্টার বা ফেস্টুন সাঁটাতে ব্যবহার করা হচ্ছে লোহার তৈরি বড় বড় পেরেক। এতে করে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে জীবন্ত এ গাছগুলোর। এছাড়া ছোট ছোট গাছে পেরেক ঢুকানো ওই গাছগুলো আস্তে আস্তে শুকিয়ে মরে যায়। ফলে যে কোনও গাছে লোহার পেরেক ঠুকানো বা আঘাত করা কারও কাম্য নয়। এ বিষয়ে সবাইকে একটু সচেতন হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, এ উপজেলার প্রধান সড়ক ও মোড়ের গাছগুলোতে লোহার পেরেক ঠুকে নানা ধরনের পোস্টার ও ফেস্টুন যারা মারছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান উপজেলার শীর্ষ এ কর্মকর্তা।