মনিরামপুরে রাস্তার পাশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর) ॥ মনিরামপুর উপজেলার দোদাড়িয়ায় রাস্তার পাশ থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) আকতারুল ইসলাম (৩৫) নামে এব যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ওই যুবকের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। নিহত আকতারুল ইসলাম (৩৫) পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের চাদআলী গোলদারের ছেলে।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর আকতারুলকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ জন্য দোষারোপ করছেন আকতারুলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে। আবার স্থানীয়দের ধারনা হয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, আকতারুলকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে তা জানা যাবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ।
নিহতের বড়ভাই নজরুল ইসলাম জানান, আকতারুল ইসলামের সাথে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে নাসরিন খাতুনের সাথে। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটা ছেলে সন্তান আছে। সম্প্রতি সংসারের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিমান করে স্ত্রী নাসরিন সন্তান নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে যায়। নাসরিনের পিতা রুহুল আমিন জানান, আকতারুল তার মেয়েকে কারণে-অকারণে মারধর করত।
এসব কারণে নাসরিনের মা সুফিয়া খাতুন গত মাসে আকতারুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে যশোরের পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। আকতারুলের চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন জানান, বুধবার আকতারুল ও তার বড়ভাই নজরুল ইসলাম এবং দুলাভাই আবদুল আজিজ যশোর শহরে পিবিআই অফিসে যান। সেখান থেকে কাজ শেষে রাত নয়টার দিকে আকতারুল একা মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। অপরদিকে আকতারুলের ভাই নজরুল ও দুলাভাই একসাথে বাড়িতে যান। কিন্তু রাতে আকতারুল বাড়িতে না যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে মনিরামপুরের দোদাড়িয়ায় রাস্তার পাশে আকতারুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ মরদেহ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটসাইকেলটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ দুপুরে আকতারুলের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই ফারুক হোসেনসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করছেন আকতারুলের শ্বশুর ও তার লোকজন প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে। তবে আকতারুলের শ্বশুর রুহুল আমিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচাজ(ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, আকতারুলকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে তা জানা যাবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ।