কোটচাঁদপুরের রেজাউল পাঠানসহ ৩ জনের ২৪ বছর কারাদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অস্ত্র মামলায় রেজাউল পাঠানসহ তিনজনের প্রত্যেককে ২৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  রোববার (৩০ এপ্রিল) ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ড প্রাপ্তরা হলেন কোটচাঁদপুর শহরের আদর্শপাড়ার মোমিন পাঠানের ছেলে রেজাউল ইসলাম পাঠান, কালীগঞ্জ উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে মিলন ও চুয়াডাঙ্গাার জীবননগর উপজেলার কন্দবপুর গ্রামের নিয়ামত মল্লিকের ছেলে মধু মল্লিক। তাদের মধ্যে রেজাউল পাঠান পলাতক।
আদালতের পিপি ইসমাইল হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ২৭ জুন রাতে র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, আসামি রেজাউল ইসলাম পাঠানের কোটচাঁদপুর শহরের আদর্শপাড়ার বাড়িতে কয়েকজন সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। ওই রাতেই র‌্যাবের একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি রিভলবার, ৪০ রাউন্ড গুলি, ৫টি দেশি অস্ত্র, এক সেট পুলিশের পোশাক, ১টি ছোরা ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করে। ও তিন জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তেতে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় আসামিদের প্রত্যেককে ২৪ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন। মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম পাঠান জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, রেজাউল পাঠান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সোনা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেটের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি। ধীর্ঘ দিন ধরে তিনি এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে নিজেই পুলিশের পোশাক পরে অভিযান পরিচালনা করতেন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন। অল্প দিনে তার কোটিপতি হওয়ার পেছনে রয়েছে চমকে দেওয়ার মতো সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর এ সব করতেন তিনি র‌্যাব ও পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে। ফলে ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে ফেনসিডিল দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হতো।