বড় দুর্ঘটনায় মারাত্মক অঘটন থেকে রক্ষা অর্ধশতাধিক বাসযাত্রীর

0

 

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় বৃহস্পতিবার একটি বাস রাস্তার পাশে পানিশূন্য একটি জলাশয়ে উল্টে গেলেও বড় ধরণের কোন অঘটন থেকে রক্ষা পেয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। তবে দুর্ঘটনার কারণে বেশ কয়েকজন স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। আহতদের সিংহভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে এক শিশুসহ ভর্তি হয়েছেন ৪ জন এবং দুই জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাঘারপাড়া থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে দশটায় বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া থেকে একটি বাস ( যশোর জ ১১-০০৮০) যশোর অভিমুখে ছেড়ে আসে। বাসে ৭০/৭৫ জন যাত্রি ছিলেন। বেলা ১১ টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে বোলদেঘাটা নামক স্থানে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি পানি শুস্ক পুকুরের মধ্যে উল্টে পড়ে। স্থানটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আশেপাশের অনেক মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কাছে হওয়ায় সেখানকার কর্মীরাও দ্রুত ছুটে আসেন। খুব অল্প সময়ে আহতদের উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া নির্মাণ শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) জানান, দ্রুত গতির বাসটি ফাকা রাস্তায় মোড় ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। বাঘারপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সৈনিক আব্দুর রহমান জানান, যে পুকুরের মধ্যে বাসটি উল্টে গেছে সেখানে খুব অল্প পানি ছিলো। যে কারণে সকল যাত্রীরা বড় ধরনের অঘটন থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্য চিকিৎসক সুবির কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, একই সাথে অনেক রোগীর চাপ পড়ায় চিকিৎসা দিতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। আহতদের সবাই আগে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করে। যে কারণে সময়টা আরো বেশি লেগেছে। বেলা এগোরাটা দশ মিনিটের দিকে আহতরা হাসপাতালে আসা শুরু করে। বেলা একটা পর্যন্ত তাদের জরুরি বিভাগে সেবা দেওয়া হয়। প্রচুর ভিড় থাকায় আহতদের নাম রেজিস্ট্রারভুক্ত করাও সম্ভব হয়নি। এমনকি দুইজনকে যশোর স্থানান্তর করা হয়েছে তাদের নামও এন্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে আনুমানিক চল্লিশজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরচারজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন বাঘারপাড়া উপজেলার শেখেরবাতান গ্রামের সুহান আলীর মেয়ে রুপালী (২০), অন্তারামপুরের আব্দুর রহমানের মেয়ে ১১ মাস বয়সের শিশু লামিয়া, নারিকেলবাড়িয়ার আলীমের স্ত্রী রোজিনা (৩৫) ও দোহাকুলার মৃত বারিক মোল্যার ছেলে কুদ্দস মোল্লা (৫০)। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া উপজেলার ক্ষেত্রপালা গ্রামের শহীদ মোল্যার ছেলে আলী হোসেন যশোর সরকারি এমএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, তার ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো। ওই বাসে তার মতো প্রায় ২৫/৩০ জন ছিলেন যারা সকলেই অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরিক্ষার্থী। কেউ কেউ আহত অবস্থায় বিকল্প বাহনে পরীক্ষা দিতে চলে গেছেন। ওসি ফিরোজ উদ্দিন আরও জানান, বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়েছে।