ভবদহের জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুর বিস্তার

0

বিএম আসাদ ॥ জমে থাকা পানির কারণে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় সর্বমোট ৪শ ৩১ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অভয়নগর উপজেলায় ৩শ ৩১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে নওয়াপাড়া নৌ বন্দরে জাহাজে থাকা লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছেন। কেশবপুর উপজেলায়ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। চৌগাছা উপজেলায় ৫ জন, মণিরামপুরে ৫ জন ও বাঘারপাড়া উপজেলায় ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অভয়নগর ও কেশবপুর নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ এসব এলাকা দুর্যোগ প্রবণ ভবদহ সংলগ্ন। ভবদহের উপচে পড়া স্বচ্ছ পানি পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাড়ি পাশে খানা-খাদে জমে আছে। এ পানিতে জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এ মশা যাদের কামড়াচ্ছে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক নরনারী আক্রান্ত হওয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করছেন এবং চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু এডিস মশা থেকে তাদের রক্ষা করা যাচ্ছে না। এডিস মশার বংশ ধ্বংস না হওয়ায় কমছে না জ্বরের প্রবণতা।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্প কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. মো. মাহমুদুর রহমান রিজভী জানিয়েছেন, অভয়নগর উপজেলার অংশ বিশেষ হচ্ছে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশপ্ত ভবদহ এলাকা সংলগ্ন। ভবদহের পানি এলাকায় ওভার ফ্লো হয়ে খানা-খন্দকে জমে থাকা ওই পানিতে এডিস মশা ব্যাপক হারে ডিম পাড়ে এবং হাজার হাজার মশা জন্ম দেয়। মশার লার্ভা ২/৩ দিনের মধ্যে বড় হয়। এদের মধ্যে যে সকল মশা স্ত্রী জাতীয় তা ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে। এ মশায় কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়।
ডা. মো. মাহমুদুর রহমান আরো জানিয়েছেন, পানিতেও এডিস মশার জন্ম হয়। তবে তার সংখ্যা কম। জমে থাকা পানিতে লার্ভার জন্ম হয় বেশি। এছাড়া নওয়াপাড়া পৌরসভার আংশিক ড্রেনের পানিতে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। যারা নওয়াপাড়া বন্দরে জাহাজে অবস্থান নিচ্ছে তাদের মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের দু’জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এসি, বাসা-বাড়ির ঝুলন্ত ফুলের টব, ছাদের উপর ফুলের টবে তারা এডিস মশার লার্ভা পেয়েছেন। অভয়নগরের চলিশিয়া, সুন্দলী, বাঘুটিয়া ও পৌরসভায় কিছু অংশে ডেঙ্গু ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, সেখানে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর ভেতর ৮ জন মনিরামপুরের। তারা মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে যাতায়াত সুবিধার ফলে নিকটস্থ কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মণিরামপুর ও কেশবপুরের অনেক এলাকা হচ্ছে ভবদহ সংলগ্ন। এসব এলাকার লোক বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভবদহ সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভবদহের পানি যখন ওভার ফ্লো হয়েছে তখন বিভিন্ন স্থানে পানি জমেছে। জমে থাকা ওই পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। এতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ওইসব এলাকায়। তবে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসহ মানুষের বৃদ্ধির জন্যে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে।