মহম্মদপুরে কালিগাং খালের ওপর ব্রিজটির দু পাশে রেলিং ভাঙা

0

 

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা ॥ মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া বাজারের উত্তর পাশে কালিগাং খালের ওপরের জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্রিজটি ১৫ গ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই পাড়ের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চলাচল করেন ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে। প্রায় ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রায়ই। দুর্ঘটনা থেকে বাদ পড়ছে না গবাদিপশুও।
কিন্তু এই ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং নেই কয়েক বছর ধরে। শুধু তাই নয়, ব্রিজের মধ্যবর্তী এক জায়গা বেশ খানিকটা অংশ খসে পড়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ বা সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা য়ায়, সাড়ে ৬ ফুট প্রস্থ এবং ১৩৫ ফুট দৈর্ঘের ব্রিজটির দুই পাশের পুরো রেলিং ভেঙে গেছে কয়েক বছর আগেই এবং মধ্যবর্তী স্থানে বেশ খানিকটা অংশ খসে পড়ে গেছে। উপজেলার বালিদিয়া বাজারের উত্তর পাশে কালিগাং খালের ওপরের জনগুরুত্বপূর্ণ রেলিংবিহীন এই ব্রিজটির দুই পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া ব্রিজের দুই পাড়ের বালিদিয়া, নিখড়হাটা, শ্রীপুর, কলমধারি, চরবড়রিয়া, গোবরনাদা, মৌশা, জোকা, রামপুর, বলরামপুর ও লক্ষিপুরসহ অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ ও যানাবাহন যাতায়াত করে। রেলিং না থাকায় ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। সঙ্গতকারণেই একটু অসতর্ক হয়ে চললেই পড়ে যেতে হবে ২০/২৫ ফুট নিচে খালের পানিতে।
জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ অথচ ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি সরকারি কলেজ, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। উত্তরে রয়েছে একটি করে হাফেজি ও কওমী মাদ্রাসা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিজটি খুবই গুরুত্ব বহন করে। এছাড়াও ১৫ গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চলাচল করে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে। খালের গভীরতা অনেক এবং সব সময় পানি থাকায় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।
স্থানীয় সবুর মোল্যা, জাফর ও সাঈদ মোল্যাসহ কয়েকজন বলেন, ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে ভয় করে। এটি জরুরিভাবে সংস্কার প্রয়োজন। ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় আমাদের। বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা বলেন, ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি এলজিইডিতে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাদ্দাম হুসাইন বলেন, আমরা ব্রিজটির নতুন ডিজাইন ও প্যানের তথ্যাদি সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।