চিরকুট লিখে অভয়নগরে যুবকের আত্মহত্যা

0

স্টাফ রিপোর্টার,অভয়নগর (যশোর)॥ অভয়নগরে পরীক্ষায় ফেল করে ও জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে সোহানুর রহমান প্রান্ত (২৭) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকালে নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে অভয়নগর থানা পুলিশ। পুলিশের ধারণা সে ২/৩ দিন আগে আত্মহত্যা করতে পারে। নিহত প্রান্ত উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের সমশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান সরদারের ছেলে। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র প্রান্ত লেখাপড়ার পাশাপাশি নওয়াপাড়ায় রঞ্জনা টেলিকম নামের একটি মোবাইল ফোনের শো রুমে স্বল্প বেতনে চাকরি করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি তিন পাতার চিরকুট লিখে রেখে গেছেন। সেটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে প্রান্তর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে নওয়াপাড়া বাজারের সব মোবাইল ফোনের শো রুম শনিবার বন্ধ রাখা হয়।
নিহত প্রান্তর পরিবারের সাথে কথা বলে ও চিরকুট থেকে জানা যায়, সংসারে অনটনের জন্যে হাতাশাগ্রস্ত ছিলেন প্রান্ত। পড়ালেখার পাশাপাশি সামান্য বেতনের ছোট একটি চাকরি খুঁজে নেন তিনি। পরে ঋণগ্রস্ত হয়ে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। সেই ঋণ তাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছিলো। সেই সাথে সম্প্রতি তার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সেখানেও ফেল করেন তিনি। ফলে সে চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। গত বৃহস্পতিবার মা-বাবাসহ পরিবারের সকলে বেড়াতে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে ঘরে দরজা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
গত দুই দিন যাবত দোকানে না যাওয়ায় সহকর্মীরা তাকে অব্যাহতভাবে ফোন দেয়। ফোনে না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাড়িতে যায় সহকর্মীরা। এ সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া না মেলায় তার মা বাবাকে খবর পাঠানো হয়। তারা এসে দরজা খুলে দেখেন প্রান্ত আড়ার সাথে ঝুলছে। পরে পুলিশ প্রান্তর অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে।
পরিবারের কারও অভিযোগ না থাকায় এবং চিরকুটে লেখা প্রান্তর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পোস্টমর্টেম ছাড়াই তার লাশ দাফনের অনুমতি দেয় থানা পুলিশ। অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।