‘সবার ঘর হয় আমার হয় না,একটা ঘরের জন্যি হাঁটতে হাঁটতে আজ আমি ক্লান্ত’

0

জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ ‘একটা ঘরের জন্যি হাঁটতে হাঁটতে আজ আমি ক্লান্ত, খোলা আকাশ আমার ঠিকানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান, মেম্বার আর নায়েব সাহেব সবাই আমারে চিনে ফেলেছে, কিন্তু জোটেনি আমার ঘর। শুনলাম সরকার ভূমিহীন গৃহহীনদের জন্যি ঘর বানায়ে দেচ্ছে তাও জোটেনি। চেযারম্যান মেম্বারগে দোষ দেব না তারা আমারে ভূমিহীন বলে বহুবার লিখে দেছে, কিন্তু কনে যেনো সমস্যা বুঝলাম না। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর এটটু নজর চাই।’ এ রকম হাজারো আকুতি দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত সুভাষ বিশ^াসের।
কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের চিত্ত বিশ^াসের ছেলে সুভাষ বিশ^াস। বসবাস করছে ওই গ্রামের অনিল বিশ^াসের বাড়িতে। বৃদ্ধ বাবা চিত্ত বিশ^াস, মা বাক প্রতিবন্ধী আর স্ত্রী সন্তান নিয়ে পরের বাড়িতে মাথা গুঁজে আছে। অনিল বিশ^াস তার দাদু হলেও জমিতে ঘর বাঁধার সুযোগ দিতে চান না। জমিও লিখে দেবে না এমন রকমের নানা সমস্যায় জড়িয়ে সুভাষ বিশ^াস অনেক কষ্টে আছেন। নিজে মৌসুমি জাল দিয়ে মাছ ধরে কিছু টাকা আয় করেন ,তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। সুভাষ জানান, ‘যখনই জানতে পারি সরকার ঘর দেবে আর অমনি ছুটে ছুটে চলি কোন লাভ হয়নি। আজ আমি ক্লান্ত। কী অপরাধ আমার বুঝলাম না।’ বিষয়টি নিয়ে অনেক কষ্ট করে সুরাহা না হওয়ায় ক্লান্ত সুভাষ প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। সুভাষের সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁজিয়া ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান,সবেমাত্র নুতন দায়িত্ব পেয়েছেন, সুযোগ পেলে অবশ্যই তার বিষয়টি দেখা হবে গুরুত্বের সাথে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, সে ভূমিহীন জেনেছি, সে একটা ঘর যাতে পায় সে ব্যবস্থা করা হবে।