চৌগাছার হোটেল রেস্তোরা গুলোতে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার হোটেল রোস্তোরা গুলোতে অনিয়ম যেন বাসা বেধেছে। নিন্মমানের খাবার পরিবেশন, হোটেল বয়দের শরীরে নোংরা পোষাক এবং অপরিস্কার স্থানে খাবার তৈরী করা হোটেল মালিকদের কাছে নিয়মে রুপ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও থামানো যাচ্ছেনা অনিয়ম।
চৌগাছা বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রবিবার দুপুরে হোটেলে খাবার খেতে যান। কোটচাঁদপুর সড়কে অবস্থিত একটি হোটেলে তিনি খাবার খেতে বসেন। ভাত খাওয়ার একপর্যায়ে টমোটের সালাত খেতে যেয়ে দেখেন তাকে টমেটোর যে সালাত দেয়া হয়েছে তার পুরোটাই পচাগলা। সঙ্গে সঙ্গে হোটেল মালিককে বিষয়টি অবহীত করা হলে হোটেল মালিক খাবার গ্রহনকারী ব্যক্তির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর হোটেল বয়দের ধমক দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। খাবারের এই পরিস্থিতি দেখে তিনি পুরো খাবার না খেয়ে বিল পরিশোধ করে হোটেল ত্যাগ করেন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই হোটেল মালিক তার খুব কাছের মানুষ, তাই কিছুই বলতে পারেনি, তবে এ ধরনের খাবার মানুষকে যেন আর না খাওয়ায় সেটি বলেই চলে এসেছি। হোটেল মালিক যার নামের প্রথম অক্ষর ’আ’ তিনি বলেন, তরি তরকারী ও সালাত যে মহিলা কেটেছে সেই এই ভুলটি করেছে। এমন ভুল আর কখনও হবেনা বলে স্বীকার করেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চৌগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত হোটেল রেস্তোরা গড়ে উঠেছে। বাাহরি সব নাম দিয়ে রমরমা ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ। অনেক হোটেল মালিক রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন এমন অভিযোগও কম নেই। অনেক ব্যবসায়ীর প্রশ্ন সৎ পথে ব্যবসা করে এত দ্রুত লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়া সম্ভবনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌগাছার প্রতিটি হোটেল রেস্তোরায় নিন্মমানের খাবার পরিবেশন এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, আটা, ময়দা, তেল একথায় হোটেলের কাজে ব্যবহৃত সব কিছুই নিন্মমানের। কম টাকায় ক্রয় করে বেশিদামে বিক্রি করা হোটেল মালিকদের নেশায় রুপ নিয়েছে। অভিযোগ আছে, ভাতের হোটেল মালিকরা বাজারের সব থেকে নিন্মমানের শাক সবজি, পেঁপে, গাজর, টমেটো, মিঠকুমড়া ক্রয় করেন। তারা হাটের শেষ ভাগে বাজারে ঢোকে এবং দেখে দেখে পচাগলা মালামাল ক্রয় করে। হোটেলে ফিরে এসব কিছু ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করে রান্না করেন। যে সব খাদ্য কাঁচা পরিবেশ করে তাতে অনেক সময় বাধে বিপত্তি। তবে চালাক হোটেল মালিকরা দ্রুতই সেই সমস্যা সমাধান করেন বলে অভিযোগ আছে।
বাজারের প্রায় হোটেল রোস্তোরায় রান্না বা খাবার তৈরীর নেই কোন সুন্দর পরিবেশ। ময়লা আবর্জনা, তেলাপোকা, ব্যাঙ আর ইঁদুরের বসবাস এমন স্থানে তারা খাবার তৈরী করে। এসব খাবার কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত এ নিয়ে প্রশ্ন অনেকের মাঝে।এবিষয়ে চৌগাছা পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সেপেক্টর মেহেবুব হুসাইন বলেন, প্রায় সময় হোটেল গুলো পরিদর্শন করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার জন্য এমন জঘন্য কাজ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যহত আছে। এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।