লাখ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কওে নড়াইলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

0

নড়াইল অফিস ॥ ‘অন্ধকার থেকে ম্ক্তু করুক একুশের আলো’ এই শ্লে¬াগান নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেরও নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠে ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ। স্কয়ার’র আর্থিক সহযোগিতায় নড়াইল একুশের আলো উদযাপন পর্ষদ-২০২২ একুশের ভাষা শহীদদের স্মরণে সোমবার ২১শে’র সন্ধ্যায় এই মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৯৯৮ সাল থেকে নড়াইলে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হচ্ছে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবারের লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়।
নড়াইল একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রবিউল ইসলাম, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় পিপিএম, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার পিতা গোলাম মুর্তজা স্বপন, উদ্যাপন পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মলয় কুন্ডু, আব্দুর রশিদ মন্নু প্রমুখ। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ২১ শে’র সন্ধ্যায় শুরু হয় এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। সন্ধ্যা ঠিক ছয়টার সময় নড়াইলের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান পরিবেশনের সাথে সাথে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতি সৌধ, বাংলা বর্ণমালা, আল্পনাসহ গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। সেই সাথে ভাষা দিবসের ৭১তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ৭১টি ফানুষ উড়িয়ে দেন। প্রতি বছরের মতো এবারও নড়াইলবাসী, রাজধানী ঢাকাসহ নড়াইলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেন। একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই মঙ্গল প্রদীপের আলো পৃথিবীর সমস্ত ভাষা ও সংস্কৃতিকে আলোকিত করবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কোথাও এ ধরনের ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান হয় না। তাই অনুষ্ঠানটির মূল্যায়ন করে এটি ওয়ার্ল্ড গিনেস বুকে নাম অন্তর্ভূক্তির আবেদন জানান তিনি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। একুশের এই মঙ্গল প্রদীপের আলোয় দূর হবে সকল অন্ধকার। এ উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।’