কালীগঞ্জে নদীর বুকে পুকুর, চলে ধান চাষ, মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

0

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের চিত্রা নদীর মধ্যে পুকুর কাটা হয়েছে। নদীর মধ্য থেকে মাটি কেটে ইটের ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কোথাও নদীর পাড়, কোথাও তলদেশ দখল হয়ে গেছে। পাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় ভবন। তলদেশে চলছে চাষাবাদ। দখলদাররা এভাবে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে চিত্রা নদীটি। এখন নদীটিকে দেখলে সরু খাল মনে হবে। অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকায় দখল হিসেবে নদীর ঝিনাইদহ অংশে আটটি পুকুরের কথা উল্লেখ আছে। তবে ‘চিত্রা বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতারা একে হাস্যকর বলছেন। নদীর জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গাছ লাগানো হয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন ‘চিত্রা বাঁচাও’ নেতারা। স্থানীয়রা বলছেন, একসময় নদীতে লঞ্চ-স্টিমার চলত। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে ব্যবহার হতো। নদীর ঘাটকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে কালীগঞ্জ শহর। নদীপাড়ে আরও গড়ে উঠেছে গান্না, চাপরাইল, মঙ্গলপোতাসহ ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বাজার। অথচ নদীটি দখল হয়ে অনেক স্থানে এখন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ভূমি কার্যালয়ের কাগজপত্র অনুযায়ী, নদীর প্রশস্ততা ১০০ থেকে ১৫০ ফুট। কিন্তু বাস্তবে কোথাও ৩০-৪০ ফুটের বেশি নেই বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, বর্ষায় জোয়ারের পানি যতটুকু ওঠে, তার থেকে আরও ১০ মিটার পর্যন্ত নদীর জায়গা। সে স্থান দখল বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের খরস্্েরাত এসব নদী। প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় তলদেশ ও নদীর দু’পাড় ভরাট হয়ে গভীরতা কমে নদী খালে পরিণত হয়েছে। ফলে নদীর তীরে চলছে ধান ও সবজি চাষাবাদ।
সূত্র মতে ও সরে জমিনে দেখা যায়, স্থানীয় নদীপাড়ের প্রভাবশালীরা নদী দখলের মহোৎসবে ব্যস্ত। অনেকেই নদীর ভেতরেই গড়ে তুলেছেন দোকান, ঘর-বাড়ি। আবার এ জেলার যে সমস্থ শহরের উপর দিয়ে এসব নদী প্রবাহিত হয়েছে সেগুলোর দু’পাশের জমির মালিকরা বাসা-বাড়িসহ তৈরি করছে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন ধরনের মার্কেট। তালসার থেকে কালীগঞ্জের শালিখা পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে অসংখ্য পুকুর। যেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ শহরের এখানে নদীটি খালে পরিণত হয়েছে। সেতুর পূর্ব পাশে ও দুই পাড়ে অসংখ্য পাকা ভবন। দখলদারের একজন মহিউদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিনিময়সূত্রে এই জমি পেয়েছেন। কিছু জমি কেনাও আছে। এগুলো নদীর জায়গা না। অবশ্য রওশন আলীর দাবি, এগুলো তাদের মালিকানার জায়গা। ইকড়া সেতুর কাছে পুকুর কেটেছেন আবদুল হামিদ। কাশিমপুর ও জালালপুর এলাকায় নদীর মধ্যে কয়েকটি পুকুর আছে। সদর উপজেলার সুতি গ্রামের টিপু মন্ডলের একটি পুকুর রয়েছে নদীর পাড়ে। পাউবোর তালিকা অনুযায়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার সিংদহ গ্রামের মতিয়ার রহমান, ইসাহক আলী, সিরাজুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, মিজানুর রহমান, মফিজ উদ্দিন, আফসার আলী ও মো. আবদুলের আটটি পুকুর আছে নদীর জায়গায়। চিত্রা বাচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শিবুপদ বিশ্বাস জানান, চিত্রায় অসংখ্য পুকুর আর ভবন রয়েছে। অথচ সরকারের দখলের তালিকায় এসেছে মাত্র আটটি পুকুর। এখন শুরু হয়েছে ধান চাষ। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, চিত্রা নদীর অবৈধ দখলদারের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। এগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য এতদিন করা সম্ভব হয়নি। দ্রতই উচ্ছেদ অভিযানে নামবেনতারা।