চেষ্টা থাকলেও পূরণ হচ্ছে না করোনা টিকার ১ম ডোজের লক্ষ্যমাত্রা যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের # উপসর্গে মৃত্যু ২ নতুন শনাক্ত ১৪

0

বিএম আসাদ ॥ করোনা উপসর্গে নিয়ে যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় দু’ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদিকে জেলায় নতুন করে আরো ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। চেষ্টা থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না ধরে নিচ্ছে। জেলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখনো দেড় লক্ষাধিক মানুষকে ১ম ডোজ টিকা দিতে হবে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. দিপাঞ্জন সাহা জানিয়েছেন, হাপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমান হোসেন (৭০) ও আব্দুল আহাদ (৪০) নামে দু’ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোলায়মান হোসেনের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গাংড়া গ্রামে। নিজ বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে এ হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিনগত রাত ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল আহাদ। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবআলী গ্রামে। তিনি নিজ বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওই রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের কোভিড-১৯ দৈনন্দিন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় যশোরে ১শ ৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করার পর আরো ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর ভেতর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার থেকে ১শ ১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। অ্যাপিড অ্যান্টিজেনে ৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৪ জনের শরীরে। শনাক্তের শতকরা হার ১২ শতাংশ। এ নিয়ে যশোরে সর্বমোট ২৪ হাজার ৯শ ৪০জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থতা লাভ করেছেন ২৪ হাজার ৩৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫শ ৩২জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ১২ জন হাসপাতালে এবং শ ৬০ জন করোনা রোগী হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
এদিকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি করোনা থেকে সুরক্ষার জন্যে করোনা প্রতিরোধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হতে এটিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী যশোর মোট জন সংখ্যা ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৬শ ৬০ জন। এর ভেতর ২২ লাখ ৫০ হাজার লোককে করোনা টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ভেতরে ২১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫ জনকে গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি করোনা টিকার প্রথম ডোজ প্রদান করা হয়। এখনো ১ লাখ ৫০ হাজার লোককে টিকার প্রথম ডোজ দিতে বাকী রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির পর আর টিকা প্রথম ডোজ দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে। নির্ধারিত সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ণ হতে বাকী মাত্র ৫ দিন। প্রতিদিন ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার ব্যক্তিকে প্রথম ডোজ করোনা টিকা দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। যে মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডোজ টিকা দিতে পারবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বাকী থাকবে ৮০ হাজার ডোজ টিকা। এতে করে শেষদিন পর্যন্ত যশোরে প্রথম ডোজ করোনা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে সময় আরো বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবে। এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করোনা টিকার প্রথম ডোজ শেষ করতে হবে। এ পর্যন্ত তারা ২১ লাখ ৬১ হাজার জনকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দিতে পেরেছেন। প্রতিদিন তারা ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার ডোজ (প্রথম) করোনা টিকা দিতে পারবেন। এখনো দেড়লাখ প্রথম ডোজ টিকা দিতে বাকী রয়েছে।