ফাইল হারানো নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুরোধ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফাইল না পাওয়াসহ আইনজীবীদের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনজীবীরা ফাইল পান না, হারিয়ে যায়, সেটা খুঁজে আনতে হয়। এই বিষয়গুলো যদি একটা সিস্টেমে নিয়ে আসা যায়, তাহলে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ওনাকে (প্রধান বিচারপতি) অনুরোধ করবো, এখান থেকে আমাদের রেহাই দেন। শনিবার (১ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে আয়োজিত আবদুল বাসেত মজুমদারের ৮৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার গরীবের আইনজীবী ছিলেন। তবে, আমি বলবো তিনি আইনজীবীদেরও আইনজীবী। এমন কোনো আইনজীবী নেই যিনি তার কাছ থেকে সাহায্য পাননি। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, এখানে তার (বাসেত মজুমদারের) সন্তান রাজা আছেন, তিনি তার ছেলে হিসেবে যতটা না সহযোগিতা পেয়েছেন, আমার মনে হয় আমরা তারচেয়ে বেশি পেয়েছি। তিনি বলেন, কোনো মামলা যখন আদালতে আসতো, আমরা যদি বলতাম স্যার আপনাকে আমার এই মামলায় দাঁড়াতে হবে, তখনই বলতেন- ‘চলো দেখি কী হয়’। কখনো বলতো না আমরা পারবো না। এ এম আমিন উদ্দিন আরও বলেন, আবদুল বাসেত মজুমদার কখনো কোনো আদালতের সঙ্গে বা আইনজীবীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি, রাগও করেননি। স্যারের (বাসেত মজুমদার) নিশ্চয় রাগ হতো, কিন্তু সব সহ্য করে যেতেন। খুব রাগ হলেও চুপ থাকতেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো বার নেই যারা সহায়তা পায়নি। কোভিডের সময়ে আমাকে মাঝেমধ্যে ফোন দিতেন, বলতেন- ‘এখান থেকে ফোন করেছে, দেখোতো কী করা যায়’। দেশের প্রতিটি বারের আইনজীবীদের এভাবে তিনি সহায়তা করতেন। জীবনের উপার্জনের একটি অংশ অন্যের কল্যাণে ব্যয় করতেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শাহ মঞ্জুরুল হক সমস্যার কথা বলছিলেন, আমি তার সঙ্গে একমত। আমাদের কিছু সমস্যা আছে। যেমন ফাইল পাই না। ফাইল হারিয়ে যায়, সেটা খুঁজে আনতে হয়। আমি আশা করছি কাল (রোববার) প্রধান বিচারপতির (নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী) কাছে আবেদন করবো, এই বিষয়গুলো যেন একটা সিস্টেমে নিয়ে আসেন। এতে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ওনাকে (প্রধান বিচারপতি) অনুরোধ করবো। এখান থেকে আমাদের রেহাই দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা তারার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সবেক সম্পাদক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শেখ (এসকে) মো. মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মোখলেসুর রহমান বাদল, আবু সাঈদ সাগর, শাহ মঞ্জুরুল হক, মো. মোতাহার হোসেন (সাজু), ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ-আল মামুন, অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা, ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী শাহীন আরা, অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাউসার প্রমুখ। এ ছাড়াও আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের ছেলে ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইদ আহমেদ রাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাসেত মজুমদার ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহুবুবে আলমসহ অন্যান্যদের জন্যে দোয়া করা হয়।