ফুলতলা সরকারি খাদ্য গুদামের চাল চুরি : তদন্ত কমিটির কাজ শুরু, দুই শ্রমিক কারাগারে থাকলেও নির্দেশদাতা শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ

0

শামসুল আলম খোকন, ফুলতলা (খুলনা) ফুলতলা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চুরি ও বিক্রির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। এ সময় খাদ্য গুদামে নিয়োজিত ৫ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পৃথকভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তবে চাল বিক্রির ঘটনায় দুই শ্রমিক কারাগারে গেলেও যার বা যাদের নির্দেশনায় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে শনাক্ত করা যায়নি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সকালে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ফুলতলা সদর ইউনিয়নে সরকারি কর্মসূচির আওতায় ৫১২ বস্তা ভিজিডি চাল বের করার সময় রহস্যজনকভাবে গুদাম শ্রমিকেরা অতিরিক্ত ২ মেট্্িরক টন চাল চুরি করে বিক্রির জন্য বের করে। পরে চুরিকৃত ওই চাল অভয়নগরে বিক্রির জন্যে নেওয়ার সময় যুগ্নিপাশা এলাকায় জনতার হাতে আটক হয়। পরে পুলিশ সে চাল জব্দ এবং মামলা করে। ওই মামলায় নসিমন চালক শহিদুল জমাদ্দার, গুদাম শ্রমিক আইয়ুব আলী এবং অভয়নগরের চাল ব্যবসায়ী আল আমিনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে শহিদুল ও আইয়ুব আলীকে আটক, আদালতের জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। তবে এর সাথে জড়িত ঊর্ধ্বতন কাউকে শনাক্ত না করতে পারায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শ্রমিকরা। গুদামে কর্মরত শ্রমিকেরা জানান, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ছাড়া একদানা শস্য লোড বা আনলোড হয় না। তারই নির্দেশনায় ওই দিন ৫১২ বস্তা ভিজিডির সাথে সরকারি চাল অতিরিক্ত ২ মেট্্িরক টন গুদাম থেকে বের করা হয় বলেও তাদের দাবি। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক জানান, দুইজন লেবার হাজতে অথচ নির্দেশ দাতা এখনো বাইরে। তারা চাল পাচারের নির্দেশদাতা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের নাম উল্লেখ করেন।
এদিকে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন বলেন, গুদামের চাল চুরি ঘটনা জানতে পেরে জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মো. নোমান এবং ফুলতলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান। তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে । তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। প্রথম দিনের তদন্ত শেষে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয় গতকাল সকালে খাদ্য গুদাম পরিদর্শন ও স্টক লেজার মেলানো হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নিরাপত্তা প্রহরী মো. জাকারিয়া, মোজাম্মেল হক, আমিনুল ইসলাম এবং শ্রমিক সরদার আব্দুল মান্নানের লিখিত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, খাদ্য গুদামের নিরাপত্তায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় আটটি ভ্যানে ভিজিডির ৫১২ বস্তা চালের সাথে এক নসিমনে প্লাষ্টিকের বস্তায় ৪০ বস্তা চাল গুদাম থেকে বের হতে দেখা যায়। তবে বিষয়টি তদন্তধীন বিধায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পূর্বে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এক হাজার মেট্্িরক টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য গুদাম এখন তিন হাজার মেট্্িরক টন গুদামে রুপান্তরিত হয়েছে, ফলে চাপ একটু বেশি। তাছাড়া বিষয়টি যেহেতু এখন তদন্তধীন। সেহেতু এ বিষয়ে এখন মন্তব্য করা যাবে না।