কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনঃ গণনার দাবী ইউপি সদস্য প্রার্থী শামসুর রহমানের

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছায় ভোট কারচুপির অভিযোগে পুনরায় ভোট গণনার দাবী করে নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাঁকড়া ইউনিয়নের ৯নং (খোশালনগর) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী শামসুর রহমান। লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী সামছুর রহমান উল্লেখ করেন, উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে (খোশালনগর) ইউপি সদস্য টিউবওয়েল প্রতিক নিয়ে তিনি গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও মোসলেম আলী মোরগ প্রতীক ও মফিজুর রহমান ফুটবল প্রতীক নিয়ে একই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ওয়ার্ডের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন ঝিকরগাছা সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম। অভিযোগকারীর দাবী, তার প্রতীকে ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও প্রিজাইডিং অফিসার কারচুপি করে তাকে পরাজিত করেছেন। এসময় প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম কোন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট গণনার কোন সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মৌখিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে তিনি পুলিশ নিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করেন। টিউবওয়েল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ইমামুল হোসেন জানান, ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম এসে শুধুমাত্র টিউবওয়েল মার্কার ব্যালটগুলো নিয়ে একটা একটা করে ৭৯ টা ভোট বাতিল করেন। কারণ জানতে চাইলে তাকে গ্রেফতার করার হুমকি প্রদান করা হয় এবং তার কাছে পুলিশ বসিয়ে রাখা হয়েছিল। কয়েকজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মিলে এই কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়। ইউপি সদস্য প্রার্থী সামছুর রহমান জানান, শুনেছি ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। জনগণ তাকে ভোট দিয়েছেন। প্রিজাইডিং অফিসার কারচুপি করে তাকে পরাজিত ঘোষণা করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পুনরায ভোট গণনার দাবী জানান। এ ব্যাপারে রিটানিং অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, বিষয়টি শুনেছি এবং অভিযোগকারী এসেছিল কিন্তু ভোট পুনরায় গণনা করতে হলে তাকে আদালতের আশ্রয় নিয়ে হবে। কারণ ভোট গণনা শেষে সবকিছু বস্তাভরে সিলগালা করা হয়। যা আমাদের খোলার কোন আইন নেই। আদালত যদি ভোট পুনরায় গণনার নির্দেশ দেন তাহলে আমরা সেটা খুলে গননা করতে পারব। লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হক ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানাগেছে। তবে যশোরের আদালতে এখনো পর্যন্ত ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত ট্রাইব্যূনাল গঠন না হওয়ায় মামলাটি করতে কিছুটা বিল্ব হচ্ছে বলে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী শামসুর রহমান জানিয়েছেন।