এমন নিরুত্তাপ ফাইনাল দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নেপালি ট্যাক্সি ড্রাইভারের সরল প্রশ্ন-‘আজ মাঠে কি হচ্ছে? উত্তরে বিশ্বকাপের ফাইনাল শুনতেই তার চোখে বিস্ময়। পরক্ষণেই জানতে চাইলো কোন দুই দল খেলছে? দলের নাম শুনেই কিছুক্ষণ নীরব তিনি। জানতে চাইলেন ট্রফির মূল্য কি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হবে? ব্যাস এরপর থেমে তার মাঠে খেলা নিয়ে উচ্ছ্বাস আলোচনা। আমরা নীরব বসে রইলাম। কিই বা বলার আছে! বিশ্বকাপ ফাইনাল! দ্রুত মাঠে পৌঁছে যেতে হবে। নয়তো যানজট, প্রবেশ পথে প্রচণ্ড ভিড় আর প্রেসবক্সে সিট না পাওয়ার ভয় কতো কিছুই না থাকে মনে। কিন্তু হোটেল থেকে মাঠে যাওয়ার পথে এমন কোনো কিছুই নজরে পড়লো না। নেই পথে পথে পতাকা মিছিল! দুবাই স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে নেই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের দর্শকদের স্লোগানে স্লোগানে মুখর হওয়ার কোনো দৃশ্য। দেখা গেল না ভক্তদের উন্মুত্ত অপেক্ষা। কে জানতো আরব বিশ্ববাসী আরব আমিরাতে এমন এক অদ্ভুত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল উপহার পাবে! শেষ কবে এমন ফাইনাল দেখেছেন তা মনে করতে পারলেন না ভারতের আজকাল পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার অগনী পাণ্ডে। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৬ থেকে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু আমার মনে পড়ে না কোনো বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন উত্তাপহীন দেখেছি!’
হ্যাঁ, শিরোপার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড মাঠে নামার আগেই এমনটাই দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকার পরিবেশ। যদিও ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছেই বলে জানা গেছে। অথচ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ম্যাচে চিত্রটা ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। যানজট এতটাই তীব্র ছিল যে মাঠে প্রবেশ করতেই সময় লেগেছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। মূলত বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের বিদায়ে যেন নিথর হয়ে গেছে আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টানা চার হারের পর দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল নিজেদের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ খেলতে এসেছিল। টাইগারদের এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু বড় একটি অংশ ঠিক এসেছে দলকে সমর্থন জানাতে। তাদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল দুই স্টেডিয়াম এলাকা। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে এই স্টেডিয়ামের জনস্রোত ঠেকাতে নেয়া হয়েছিল কঠোর ব্যবস্থা। রাস্তায় রাস্তায় রাখা করা হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোটর বাইক ও ঘোড়াতে চড়ে দর্শকদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছে আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেষ কবে এমন নিরুত্তাপ বিশ্বকাপ দেখেন তা অগনী পাণ্ডের মনে না পড়লেও কেন এমন সেটাই জানালেন। তিনি বলেন, দেখে হিসাবটা খুব সহজ, বিশ্বের যেকোনো জায়গাতে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার দর্শকের সংখ্যাই বেশি। কারণ তারা ক্রিকেটকে দারুণ ভালোবাসে। এই চার দলই যে নেই শেষ পর্যন্ত। তুমি আরব আমিরাতের দিকে তাকাও, এখানে সবচেয়ে বেশি লোক এশিয়া থেকে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। তাই নিজেদের দল নেই বলেই এই ফাইনাল নিয়ে বেশির ভাগেরই আগ্রহ নেই। আর গুটিকয়েক যারা এসেছেন তারাও এই তিন দেশের ক্রিকেট পাগল মানুষ। যারা ক্রিকেট দেখতেই ভালোবাসে।’
হ্যাঁ, করোনার কারণে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের দেশ থেকে বের হওয়া ভীষণ কঠিন। যে কারণে তাদের ভক্তদের বড় একটি অংশের আশার সুযোগ হয়নি। তার ওপর যারা এসেছেন তারা হারিয়েছেন দুবাইয়ে আনন্দ উল্লাসে। মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল যারা দেখতে এসেছেন তাদের বেশির ভাগই ভারতীয়। বাংলাদেশেরও আছেন কয়েকজন। শুধুমাত্র ফাইনালের টিকিট কিনে ফেলাতে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী মাঠে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ভাবছিলাম এশিয়ার কোনো দল থাকবে কিন্তু হলো না। টিকিট কিনেছিলাম কি করবো তাই চলে এলাম।’