খুলনা আযম খান কমার্স কলেজ : র‌্যাগ-ডে’র চাঁদা দিতে বাধ্য করছে ছাত্র নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা॥ র‌্যাগ-ডে (শিক্ষা সমাপনী) আয়োজনে শিক্ষার্থী পিছু চারশ টাকা আদায়ের দাবিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের ফরমপূরণ কার্যক্রম। শর্তসাপেক্ষে দাবি মেনে নেওয়ার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নি¤œআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরমপূরণ শুরু হয়েছে। এবছর সর্বনি¤œ ফি রাখা হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫ টাকা। কয়েকদিন ধরে এর সঙ্গে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বাড়তি আরও ৪০০ টাকা আদায়ের দাবি জানিয়েছে আসছিলো অতি উৎসাহী কিছু শিক্ষার্থী। নেপথ্যে যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ নেতারা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টা থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টাকা জমা নেওয়া কার্যক্রম চলে। এরপরই টাকা গ্রহণ ও ফরমপূরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। র‌্যাগ-ডে আয়োজনের পক্ষের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে যান। চূড়ান্ত বর্ষে এবার সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই নি¤œবিত্ত পরিবারের। ফরমপূরণের টাকা জোগাড় করতেই অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন। করোনাকালে অভিভাবকদের আর্থিক সঙ্গতি কমেছে বলে দাবি তাদের। অভিযোগ রয়েছে প্রতি বছর শিক্ষাসমাপনী অনুষ্ঠানের নামে অন্তত চার লাখ টাকা আদায় হয়। যার মধ্যে নামমাত্র টাকা ব্যয় হওয়ার পর বাকি টাকা চলে যায় নেতাদের পকেটে।
অভিযোগে জানা গেছে, চাপের মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন শর্তে বাড়তি টাকা আদায়ের অনুমতি দেন। শর্তগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনায় টাকা আদায় করতে হবে, এর সাথে কলেজের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবেনা এবং কোনো শিক্ষার্থীকে টাকা দিতে বাধ্য করা যাবেনা। নিজেদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এমনিতেই অত টাকা ফি দিতে অভিভাকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর উপর বাড়তি ৪শ টাকা। শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায় তাই কিছু করার নেই, মেনে নিতে হচ্ছে। কলেজ প্রশাসন যখন থামাতে পারছে না আমরা শিক্ষার্থীরা আর কী করতে পারি। এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহানারা বলেন, সেশন চার্জ কমানো এবং শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের দাবি নিয়ে কিছুু শিক্ষার্থী এসেছিলো। সেশন চার্জ বোর্ড নির্ধারিত। আমাদের কিছু করণীয় নেই। করোনা মহামারীর এই সময়ে র‌্যাগ-ডে পালনকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছি। তারা জোরালো দাবি করলেও এক পর্যায়ে মেনে নিয়ে চলে গেছে। ওদের সাথে আলোচনার সময় ফরমপূরণ সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরে সবাই ফরমপূরণ করেছে। কারো কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করা হয়নি। কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। তবে কলেজের শিক্ষার্থী ও মহানগর ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মশিউর রহমান বাদশা বলেন, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা সেশন চার্জের সাথে শিক্ষা সফরের টাকা জমা দেয়। এই খাতে বিপুল টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হয়, যা তাদের জন্য ব্যয় করা হয় না। এজন্য শিক্ষা সমাপনীর মাধ্যমে ওই টাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্যই ব্যয় করা হয়। দীর্ঘ বছর যাবত এই প্রথা চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট সেশনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর আয়োজক। এখানে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভাগ