ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজের ৩১ চিকিৎসক বদলী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজের ৩১ চিকিৎসককে নড়াইল-মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোভিড-১৯ সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে সংযুক্তি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব জাকিয়া পারভীন স্বাক্ষরিত এমন প্রজ্ঞাপনের কপি হাতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহিদুর রহমান। অখচ যশোরের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির সামলে দিতে মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে ৩১ জন চিকিৎসক চলে যাওয়ার ফলে জেলার করোনা মোকাবেলা কার্যক্রম অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে নড়াইল, জেলা হাসপাতালে, ১২ জন, মাগুরা জেলা হাসপাতালের ৫ জন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালে ১৪ জনকে সংযুক্তি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কোভিড-১৯ অতিমহামারি সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকে নতুন কর্মস্থরে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হলো। এই সকল চিকিৎসক করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। আজ বুধবার ৭ তারিখের মধ্যে তাদের কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ৮ তারিখে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হঠাৎ এমন প্রজ্ঞাপনে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগে বিনা মেঘে বর্জ্যপাতের মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ যশোরে বর্তমানে করোনার ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শহর থেকে গ্রামে ব্যাপক আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আক্রান্তের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। স্বাস্থ্যকর্মীরাও কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে যশোর-১৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০ জন চিকিৎসক চেয়ে আবেদন করেছেন। অথচ পাল্টা ৩১ জন চিকিৎসক অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হলো। এ খবরে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ৩১ জন চিকিৎসক যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এ জেলায় একদিকে, তাদের চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্যে আলাদা পরিচিতি আছে। তেমনি তাদের অনেক পুরাতন রোগী আছেন যারা তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন। হঠাৎ করে এই চিকিৎসকরা অন্যত্রে চলে গেলে এই সকল রোগীরা বিপাকে পড়বেন। আবার এই চিকিৎসকদের মধ্যে অধিকাংশ করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।
এদিকে, যশোর থেকে ৩১ জন চিকিৎসক নিয়ে যাওয়া হলেও যশোর ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ থেকে ২৪ জন চিকিৎসক যশোর জেলা হাসপাতালে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজের ১৪ এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ১০ জন রয়েছেন। তবে, স্বাস্থ্যবিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল করেজের ১০ চিকিৎসক যশোরে আসতে অনীহা প্রকাশ করার কারণে তাদের বদলি আদেশ স্থগিত হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহিদুল রহমান বলেন, বদলি না করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। হঠাৎ করে ৩১ জন চিকিৎসক অন্যত্র চলে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যে যেমন ক্ষতির কারণ হবে, তেমনি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যেও অনেক ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যাহাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আক্তরুজ্জামান বলেন, তাদের বদলি ঠেকাতে আমি তাৎক্ষণিক পল্লী উনন্য়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে জানিয়েছি। যেখানে নতুন করে ২০ জন চিকিৎসক চেয়েছি, যেখানে এ জেলা থেকে ৩১ জন চিকিৎসক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ায় আমাদে রজন্যে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক কঠিন হবে।

ভাগ