যশোরে এসির তার চোরচক্রের উৎপাত, দিশেহারা গ্রাহক

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরজুড়ে এসির মূল্যবান তামার তার ও পাইপ চুরির ঘটনা চরম আকার ধারণ করেছে। একের পর এক বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান থেকে এসি অকেজো করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রকে দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন ভাঙারি দোকানকে কেন্দ্র করেই এই চোরচক্রের তৎপরতা চলছে। গভীর রাতে এরা এসির বাইরের অংশ থেকে তামার তার ও পাইপ কেটে নিয়ে যায় এবং পরদিন তা বিভিন্ন ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে। বিশেষ করে যশোর রেল রোড এলাকার ‘আশরাফ এন্টারপ্রাইজ’সহ কয়েকটি দোকানে এই চোরাই মাল কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে।

চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখহাটি, জেস্ট টাওয়ার মার্কেট, গণপূর্ত বিভাগের বাংলো এলাকা, বারান্দিপাড়া ফুলতলা, নলডাঙ্গা রোড, লোন অফিস পাড়া, কুইন্স হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, হুসতলা, মিশনপাড়া, জেল রোড, পোস্ট অফিস পাড়া, আরএন রোড, গাজী হাসপাতাল এলাকা, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের বাড়ি, শেখহাটি বাবলাতলা নদীর পাড়সহ আরও বহু এলাকা। কিছু ক্ষেত্রে একই বাসায় একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও এসির সম্পূর্ণ চেম্বার খুলে নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের মতে, এই তার চুরির ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। উপশহর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, তার বাসার পাঁচটি এসির তার চুরি হওয়ায় পুনরায় সচল করতে তাকে অন্তত ৮০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, চোরেরা একটি এসি থেকে তামার তার খুলে নিয়ে ভাঙারিতে বিক্রি করে মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা পায়। কিন্তু আমাদের গুনতে হচ্ছে ১৫-১৬ হাজার টাকা।

রাশিদুল ইসলাম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৩ হাজার টাকার তার, ২৭০০ টাকার গ্যাস, ১৫০০ টাকার আনুষঙ্গিক খরচ ও ২ হাজার টাকা মিস্ত্রি খরচসহ প্রায় ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে।

এসি মেরামত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর তামার পাইপ চুরির ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কেশব লাল রোডের একটি মেরামত দোকানের কর্মচারী বলেন, এক বাসায় মেরামত করার পরপরই আবার চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তবে কারা এ চুরির সঙ্গে জড়িত, এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মাদকাসক্তদের দায়ী করলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগীর দাবি, এর পেছনে বড় ধরনের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে, শতাধিক বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান এ চক্রের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একটি এসির তামার পাইপের বাজারমূল্য যেখানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, সেখানে চোরেরা সেগুলো অতি কম দামে বিক্রি করছে। এতে চোরদের লাভ কম হলেও ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো চোর চক্রকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মাসুদ খান বলেন,এসির তামার তার চুরির ঘটনায় প্রায়ই থানায় অভিযোগ আসে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্তে ১০ মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং ১৫ জন চোর চক্রের সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এসি চুরি নয়, যেকোনো অপরাধ দমনে যশোর পুলিশ সব সময় সচেতন রয়েছে।