খেলার খবর

0

লটারিতে মাশরাফীকে পেল খুলনা
স্পোর্টস ডেস্ক॥ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে পাওয়া লড়াইয়ে লটারিতে জয় হয়েছে জেমকন খুলনার। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে এই দলের হয়ে খেলবেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। যে দলে আছেন সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা মাশরাফীকে পেতে আসরের পাঁচ দলের মধ্যে চারটিই আগ্রহ প্রকাশ করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিসিবি লটারি পদ্ধতি বেছে নেয়। রবিবার বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেই লটারিতে খুলনা পেয়েছে মাশরাফীকে। এর আগে ফিটনেস পরীায় উতরে যান মাশরাফী। করোনা পরীার জন্য নমুনা দিয়েছেন। যার ফল নেগেটিভ এলেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন নড়াইল এক্সেপ্রেস। জেমকন স্পোর্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী ইনাম আহমেদ মাশরাফীকে পেয়ে উৎফুল্ল। বলছিলেন, ‘আমরা জেমকন খুলনা খুবই এক্সাইটেড অ্যান্ড ডিলাইটেডৃ। মাশরাফী এর আগে বিপিএলেও কখনো খুলনার কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেনি। এটা আমাদের জন্য বিশাল পাওয়া যে মাশরাফী খুলনা বিভাগের, নড়াইলের। এখন মাননীয় সংসদ সদস্য। আমরা তাকে পেয়ে খুবই আনন্দিত। আশা করি তার অন্তর্ভুক্তি পুরো দলের জন্য মোটিভেশন হবে।’ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে আসরের ড্রাফটে ছিলেন না মাশরাফী। চোট কাটিয়ে মঙ্গলবার মিরপুরে প্রথম অনুশীলন করেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এরপরই তাকে পেতে উন্মুখ হয়ে উঠে দলগুলো। বিসিবি থেকে আগেই বলা হয়েছিল, মাশরাফী ফিট হয়ে উঠলে যে কোনো দল চাইলে তাকে নিতে পারবে। আর একাধিক দল নিতে চাইলে সে েেত্র লটারি হবে। খুলনা ছাড়াও মাশরাফীকে পেতে আগ্রহী ছিল ফরচুন বরিশাল, মিনিস্টার রাজশাহী ও বেক্সিমকো ঢাকা।

পিএসজির সহজ জয়ের দিন এমবাপের ‘সেঞ্চুরি’
স্পোর্টস ডেস্ক॥ মোঁপেলিয়ের বিপে ৩-১ গোলে জয়ের দিন পিএসজির হয়ে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রতিপরে মাঠে কুলাঁ দেগবা পিএসজিকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা টানেন স্টেফি। মোইজে কিনের গোলে সফরকারীরা আবার এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। গত রাউন্ডে ঘরের মাঠে বোর্দোর সঙ্গে ২-২ ড্রয়ের আগে মোনাকোর বিপে হেরেছিল পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত বুধবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপে ৩-১ গোলে জেতা ম্যাচের দলে আটটি পরিবর্তন আনেন পিএসজি কোচ। নেইমারকে দিয়েছিলেন বিশ্রাম, এমবাপেকে শুরুতে রাখেন বেঞ্চে। ৩৩তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন দেগবা। ডি মারিয়ার বাড়ানো বলে ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার। সমতা ফেরাতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি স্বাগতিকদের। ৪১তম মিনিটে কাছ থেকে স্টেফির শট ব্লকড হওয়ার পর তার ফিরতি শটে বল গোলরক কেইলর নাভাসের হাতে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়। ৭৭তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন কিন। রাফিনিয়ার পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সে একজনকে কাটিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ল্যভেদ করেন এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটে কিনের বদলি নামা এমবাপে যোগ করা সময়ে পান জালের দেখা। লেইভিন কুরজাওয়ার পাস থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান অরতি ফরাসি ফরোয়ার্ড। ১৩ ম্যাচে ৯ জয় ও এক ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে দুই ম্যাচ কম খেলা মার্সেই। ১৩ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে আছে মোঁপেলিয়ে।

মেয়েদের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা
স্পোর্টস ডেস্ক॥ এক ম্যাচ হাতে রেখেই মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে শিরোপা নিশ্চিত করল বসুন্ধরা কিংস। রবিবার জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশকে ১৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা উৎসব করেছে বসুন্ধরার মেয়েরা। দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর মাঠে গড়িয়েছিল মেয়েদের লিগ। দেশের ফুটবলের নতুন শক্তি বসুন্ধরা এবারই প্রথম অংশ নেয় লিগটিতে। শক্তিশালী দলটি প্রথম আসরেই বাজিমাত করল। আগের ১০ ম্যাচে সব কটিতে জেতা বসুন্ধরার শিরোপার জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। ১১ ম্যাচের সবগুলো জিতে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ল দলটি। বুধবার এফসি উত্তর বঙ্গের বিপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এদিন বসুন্ধরার বড় জয়ে সর্বাধিক ৫ গোল করেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ২টি করে গোল করেন সিরাত জাহান স্বপ্না ও সারাবন তহুরা। ১টি করে গোল করেছেন নার্গিস খাতুন, মারিয়া মান্ডা ও শিউলি আজিম। অন্য গোলটি তারা পেয়েছে আত্মঘাতী থেকে। কাচারিপাড়া একাদশের আশা ৮ মিনিটে নিজেদের জালে বল ঠেলে দেন। ব্যবধান কমানো একমাত্র গোলটিও করেছেন তিনি। লিগের শুরু থেকে পয়েন্ট টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের পেছনে ছোটা নাসরিন একাডেমি ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। আসরে এখন পর্যন্ত ৩৩ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন বসুন্ধরা অধিনায়ক সাবিনা। ১৯ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তারই কাব সতীর্থ কৃষ্ণা রানি সরকার।

ঢাকায় হোঁচট খেলো চট্টগ্রাম
স্পোর্টস ডেস্ক॥ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে অবশেষে থামালো বেক্সিমকো ঢাকা। টানা চার ম্যাচ জেতার পর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি প্রথম হারের মুখ দেখলো মোহাম্মদ মিঠুনরা। প্রথম লেগে ঢাকা ১০ রানে হেরেছিল চট্টগ্রামের কাছে। আজ (রবিবার) ৭ রানের জয়ে মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সঙ্গে চট্টগ্রামের জয়রথও থামালো মুশফিকুর রহিমরা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রবিবার দিনের প্রথম খেলায় মুশফিকুর রহিমের হার না মানা ৭৩ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ঢাকা স্কোরে জমা করে ৪ উইকেটে ১৪৫ রান। এই ল্েয খেলতে নেমে মুক্তার আলী ও রুবেল হোসেনের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে চট্টগ্রাম ৯ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৩৮ রান। ১৪৬ রানের ল্েয চট্টগ্রামের ওপেনিং জুটি শুরুতেই ধাক্কা খায়। কোনও রান না করতেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। এরপর লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয় জুটি ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারা ৪৭ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুরুর কিছু ম্যাচ খেলতে না পারা মাহমুদুল প্রথম ম্যাচে খেলেছেন ২৬ রানের ইনিংস। ২৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় যুব বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এরপর মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের দিকেই ছুটছিলেন লিটন। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। শর্ট থার্ডম্যানে দাঁড়ানো শফিকুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন লিটন ৩৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করে। তার আউটের পর মোসাদ্দেক হোসেন (১৩), মিঠুন (২১), শামসুর রহমানের (১০) চেষ্টা বিফলে যায়। শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের ছক্কায় ম্যাচ জমে উঠেছিল। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে থামতে হয় গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রিকেট খেলে চলা চট্টগ্রামকে। মুক্তার আলী ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার। এছাড়া রুবেল ২৪ রানে ২টি ও রবিউল ইসলাম ২৩ রানে নেন ২ উইকেট। এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা ঢাকার টপ অর্ডার আবারও ব্যর্থ। ২৩ রানে তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে ঢাকা। সেই বিপদ থেকে দলকে রা করেন মুশফিক-ইয়াসির জুটি। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। ইয়াসির ৩৪ রানে আউট হলেও উইকেট আঁকড়ে ব্যাটিং করেন মুশফিক। অধিনায়ক মুশফিক পেয়েছেন টুর্নামেন্টের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। দারুণ সব শটে খেলেছেন অপরাজিত ৭৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ৫০ বলের ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ৩ ছক্কায়। আকবর আলী ৯ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের নাহিদুল, শরিফুল, রাকিবুল ও মোস্তাফিজ প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।