১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্নে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম ভারত। এরই মধ্যে সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। সংক্রমণ এড়াতে টানা লকডাউনে ধস নেমেছে ভারতীয় অর্থনীতিতে। সব মিলিয়ে খুব একটা সুখকর সময় পার করছে না দেশটি। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের স্বর্ণের চাহিদায়। লকডাউন উঠে গেলেও মহামারীকালে আয় কমেছে ভারতীয়দের। ফলে স্বর্ণ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন তারা। এর জের ধরে চলতি বছর দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির সম্মিলিত চাহিদা কমে ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকোনমিক টাইমস।
ডব্লিউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) ভারতে স্বর্ণের সম্মিলিত চাহিদা ছিল সাকল্যে ২৫২ টন। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ছিল ৪৯৬ টন। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কমেছে ২৪৪ টন। উৎসবের মৌসুম চলমান থাকায় চলতি বছরের বাকি দুই মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও তা ২০১৯ সালের বার্ষিক চাহিদা ৬৯৬ টনের ধারেকাছেও যাবে না।
এর মধ্য দিয়ে ভারতের বাজারে স্বর্ণের সম্মিলিত চাহিদা ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসার সম্ভাবনা দেখছে ডব্লিউজিসি। ওই বছর ভারতে মূল্যবান ধাতুটির সম্মিলিত চাহিদা ৪৬২ টনে নেমে এসেছিল। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই স্বর্ণের সর্বনিম্ন বার্ষিক চাহিদা। তবে মন্দা ভাব কাটিয়ে ১৯৯৬ সালেই দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১১ টনে। আর ২০০২ ও ২০০৯ সালে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির সম্মিলিত চাহিদার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৪৭ ও ৬৪২ টন। এছাড়া প্রতি বছরই দেশটিতে স্বর্ণের চাহিদা ৬৫০ টনের ওপরে ছিল।
ডব্লিউজিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারীর ধাক্কায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ভারতে স্বর্ণের চাহিদা ৮৬ দশমিক ৬ টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ছিল ১২৩ দশমিক ৯ টন। সেই হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমেছে ৩৭ দশমিক ৩ টন।
ডব্লিউজিসি ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোমাসুন্দরম পিআর বলেন, ভারতের স্বর্ণ শিল্পের জন্য ২০২০ সাল একটি মহামন্দার বছর। করোনা মহামারীর কারণে ২৫ বছরের মধ্যে এবারই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা সবচেয়ে কমে আসছে। এ ধাক্কা সামলানো খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে ভারতজুড়ে চলা লকডাউনে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মন্দার মুখে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। আয় কমেছে ভারতীয়দের। মূলত এ কারণে বিলাসদ্রব্য স্বর্ণ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন সাধারণ ভারতীয়রা। সোমাসুন্দরম বলেন, অন্যান্য বছর উৎসবের মৌসুমে (দুর্গা পূজা, দীপাবলি ও দশেরা উৎসব) ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। মানুষ উপহার হিসেবে স্বর্ণালংকার কেনে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মানুষের হাতে অর্থ নেই। আয় কমেছে। মহামারীতে অনেকেই জীবিকা হারিয়েছেন। ফলে চলতি বছর উৎসবের মৌসুমেও ভারতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। ভিড় নেই জুয়েলারি দোকানগুলোয়। সব মিলিয়ে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে ভারতীয় স্বর্ণ শিল্প।