বাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরায় ভেসে গেছে মাছ, লাখো মানুষ পানিবন্দি

0

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা॥ সাতক্ষীরার উপকুলীয় উপজেলার আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে।  সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পানিবন্দি রয়েছে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বর্তমানে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা, কুড়িকাউনিয়া, হরিশখালী ও শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী ও কোলা দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্থীর্ণ প্লাবিত হয়েছে। জোয়ার-ভাটা বইছে লোকালয়ে ও বাড়ির উঠানে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব।এদিকে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারর‌্যানের নেতৃত্বে হাজার হাজার এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ লেবুবুনিয়া গ্রামের যে ৬টি স্থানের রিংবাধ ভেঙে গিয়েছিল, তা কোন রকমে মেরামত করেছেন। তবে পরবর্তী জোয়ারে কী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের প্রবল জোয়ারে এই আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তারা আরও জানান, এখনই যদি বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হয়, তাহলে পরবর্তী জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে।  আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, তার গোটা ইউনিয়ন এখন পানিতে নিমজ্জিত। সাধারণ মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নে লেবুবুনিয়া, গানুরা ও খলসিখালী তিনটি গ্রাম এখনও প্লাবিত। তবে, হাজার হাজার এলাকাবাসীকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কোন রকমে রিংবাধ দিয়ে পানি বন্ধ করা হয়েছে। তবে, পরবর্তী জোয়ারে কি হবে তা বলা যাচ্ছে না। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়োরম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, প্রতাপনগর ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০টি গ্রামে পানি আরও বেড়েছে। ফলে ওই এলাকার ৪০ হাজার মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরন চক্রবর্তী জানান, বর্তমানে তার উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ কুমার সরকার আরও জানান, কয়েকটি স্থানে রিংবাধ দিয়ে পানি বন্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা ও কুড়িকাউনিয়া এবং শ্রীউলা ইউনয়নের হাজরাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে এতই গভীর হয়েছে যে, সেখানে এখন বেড়িবাঁধ সংস্কার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।