আদালতে বরকতের স্বীকারোক্তি, স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে খুন হয় রিপন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জের ধরেই যশোরের বাঘারপাড়ায় যুবলীগ নেতা বরকতের হাতে খুন হয়েছেন মাইক্রোচালক রিপন হোসেন। এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনেরা বলছেন, ভাড়া নিয়ে বচসার জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে আটক যুবলীগ নেতা বরকতকে গতকাল সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গত রোববার রাতে তার বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের পিতা মনিরুল ইসলাম। এদিকে যশোর শহর যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বরকতকে।
বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, উপজেলার মহিরন মধ্যপাড়ার বাসিন্দা রিপন হোসেন খুনের ঘটনায় রাতে তার পিতা মনিরুল ইসলাম থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক বরকতুল্লাহ ওরফে বরকতকে আসামি করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনার সাথে বরকতের স্ত্রী বিউটি খাতুন পিংকি জড়িত নন, সে কারণে তাকে মামলায় আসামি করেননি নিহতের পিতা মনিরুল ইসলাম। মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, গাড়ি ভাড়া নিয়ে বচসার জের ধরে আটক বরকত তার ছেলে রিপন হোসেনকে হত্যা করেছেন। ফলে বরকত একমাত্র আসামি হওয়ায় তারা তার স্ত্রী বিউটি খাতুন পিংকিকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, সোমবার বরকতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত রোববার দুপুরে বাঘারপাড়ায় যাওয়ার সময় বরকতের মোটরসাইকেলের চেইন ছিড়ে গিয়েছিল। এ কারণে তিনি মোটরসাইকেল মেরামত করতে দেন বাঘারপাড়া হাসপাতাল এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ডের বিপরীতে জনৈক তুহিনের গ্যারেজে। এ সময় বরকতের স্ত্রী বিউটি খাতুন পিংকি একটি ভ্যানের ওপর বসেছিলেন। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকে একজন তাকে দেখে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। বিষয়টি পিংকি স্বামীকে জানিয়ে দিলে বরকত তেড়ে যান উত্যক্তকারীর দিকে। এ নিয়ে বচসার এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর মাইক্রোচালক রিপন হোসেনসহ কয়েকজন সেখানে যান। এ সময় বরকত ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে ছুরিকাঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে হামলায় অপর মাইক্রোচালক সোহেল ও ওষুধ ব্যবসায়ী হিরু আহত হন। গুরুতর জখম রিপন হোসেনকে পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, বরকতুল্লাহ ওরফে বরকত যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক। তিনি বারান্দী মোল্লাপাড়ার মাহফুজুর রহমানের ছেলে। প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার আসামি হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এদিকে বরকতুল্লাহ খানকে যুবলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার রাতে যশোর শহর যুবলীগের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান মিলু ও সংগঠনটির আরও দুই যুগ্ম আহবায়ক স্বারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের গঠনতন্ত্রের ২২ এর ক ধারা মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী, অসৌজন্যমূলক, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বরকতুল্লাহ খানকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।