পুড়াপাড়া বাজারে রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য

0

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ গেল এক যুগে বিন্দু মাত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পুড়াপাড়া বাজারে। রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি বাধে রাস্তায়। কাদা আর দুরগন্ধসহ হাজারো সমস্যা রয়েছে এ বাজারে। পানি নিস্কাশনের ড্রেন থাকলেও তা ময়লা আবর্জনায় ভর্তি হয়ে ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারটি চৌগাছা ও মহেশপুর দুই উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া, যাদবপুর ও চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া, স্বরুপদহ ও নারায়নপুর ইউনিয়নের জনবহুল এলাকায় এ বাজার। এলাকার কৃষকেরা হাঁস-মুরগী, ছাগল-গরু, কৃষিপণ্য ধান-পাটসহ কাঁচামাল ক্রয়-বিক্রয় করেন এ বাজারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবেহেলায় বাজারটির রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের অবস্থা করুণ।
এ বাজারের চারপাশে রয়েছে কাঠগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাটগড়া কুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মান্দার বাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, মান্দারবাড়ীয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ও শ্যামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় । এ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকিনিয়ে বাজারের ভেতরের সড়কে চলাচল করে থাকে। এছাড়া কাটগড়া বাওড় মৎস অফিস ও আন্দুলিয়া, আড়সিংড়ি পুকুরিয়া, রামকৃষ্ণপুর, বর্ণি এবং পাঁচপীরতলা বিজিবি ক্যা¤প গুলিতেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কপথ এই বাজারটির উপর দিয়ে। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারটির মেইন বাসস্ট্যান্ড, সোনালী ব্যাংক মোড়, হাইস্কুল মোড়, পুরাতন গরুহাট, কলেজ মোড়সহ কাঁচাবাজারের মধ্যে পানি-কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। বাজারটিতে নেই কোন পয়নিস্কাশনের ব্যবস্থা। প্রতিদিন বাজারে চলাচলকারী ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন শফিউদ্দীন বলেন, রাস্তাগুলো কাঁদায় ভরে রয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য করার কোন পরিবেশ নেই। বাজারটির পরিচালনা কমিটি খাতা কলমে থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। বাজারে নেই গণশৌচাগার। যত্রতত্র মলমুত্র ত্যাগসহ পরিত্যক্ত ময়লা আবর্জনায় মশামাছির উপদ্রব ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় যত্রতত্র পশু জবাই ও পশুর উচ্ছিষ্ট ফেলা হয়। ফলে পরিবেশ মারাত্মক দূষণ হয়ে উঠছে। সরকারি কর্তাদের ম্যানেজ করে কাঁচা তরিতরকারি, মাছ, ও বিভিন্ন হাট ডেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাবসায়ী জানান বাজারটির সরকারি জমি দখল করেই চলেছে এক শ্রেণীর অসাধু রাজনৈতিক ব্যাক্তবর্গ। কিন্তু রাস্তা ও ড্রেনগুলোর কোন উন্নয়ন নেই। মান্দারবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ছোট খাঁট কাজ করি এই বাজার উন্নয়নের কাজ আমার না। কবে নাগাদ ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কার হবে সে বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা এলজিইডি অফিস কিছুই বলতে পারেন নি। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুজিন আলী বলেন, হাটের সড়কও বাজার অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় অনেক ব্যাবসায়ী, ক্রেতা পুড়াপাড়া বাজারে আসতে চাইনা ফলে আমাদের বেঁচাকেনা কমেগেছে।