সকালে সরগরম, বিকেলে সুনশান

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সকাল আর বিকেলের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সকালে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। বিকেলের পর থেকে সুনশান নীরবতা। সাত সকালে রাজধানীর বাজারগুলোর পরিবেশ দেখলে বোঝার উপায় থাকে না যে, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছে। আবার বিকেলের পর এমন নীরবতা নামে রাজধানী জুড়ে, যেন করোনাভাইরাসের ভয়ে সবাই ঘরবন্দি। রাস্তায় তখন কিছু ছিন্নমূল মানুষ আর কুকুর ছাড়া কাউকে দেখা যায় না। শনিবার সকাল ও বিকেলে রাজধানীতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। অনেক পাড়া-মহল্লায় ঘোষণা দিয়ে চলছে স্বেচ্ছা লকডাউন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কোথাও লকডাউন সেভাবে মানা হচ্ছে না। ঘর থেকে বের হয়ে মানুষ দলে দলে ঘুরছে। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, সব শ্রেণির মানুষকেই রাস্তায় দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানার এক এসআই বলেন, ‘আমরা কী করব। জনগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে লুকোচুরি খেলছে। জরিমানা করেও মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। হুমকি-ধামকি দিয়ে তো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। যতক্ষণ তারা সচেতন না হবে, ততক্ষণ পুরোপুরি লকডাউনও সম্ভব না।’
এদিকে, মধ্যরাতের পর থেকেই রাজধানী কাঁচাবাজারের প্রধান প্রধান আড়তগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে। সঙ্গে মাছের বাজারও। এসব আড়ত থেকেই মূলত ব্যবসায়ীরা সবজি ও মাছ নিয়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও বাদামতলীর সকালের চিত্র দেখে কারো মনেই হবে না যে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশ জুড়ে সাধারণ ছুটি ছলছে। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো সামাজিক দূরত্ব মানা হয় না। এত মানুষের উপস্থিতি থাকে যে, গায়ে গায়ে লেগে হাঁটতে হয়। হকাররা রাস্তার ওপর অসংখ্য দোকান বসিয়ে সবজি বিক্রি করেন। পাশের মুদি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে নাভিশ্বাস অবস্থা।
এ ব্যাপারে এক ক্রেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মজা করে বলেন, ‘সকালে করোনা ঘুমায়, তাই এত মানুষ বাজারে। আর রাতে দেখতে পায়, তাই মানুষ ঘর থেকে বের হয় না।’ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকালে বেচাকেনায় জমজমাট থাকে এসব বাজার। এমনকি অলি-গলিতেও মানুষের ঢল নামে। প্রায় প্রতিটি মুদি দোকানের সামনে জটলা থাকে ক্রেতাদের। যাত্রাবাড়ীর মুদি দোকানী ফজল আলী বলেন, ‘দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। সকালের দিকে মানুষের ভিড় বেশি হয়। অনেক মানুষ, তাই সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয় না। বারবার বলেও কোনো লাভ হয় না। মানুষ ত্যাড়া, কথা শোনে না।’