পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, রূপপুরে জ্বালানি ব্যবহার শুরু হচ্ছে আজ

0
রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দৃশ্য।। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আজ এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবহারের কার্যক্রম। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপ। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি জ্বালানি বান্ডিলে ৩১২টি রড রয়েছে এবং প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে ১৬৩টি বান্ডিল স্থাপন করা হবে। চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বসানোর ফলে উৎপন্ন তাপে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি প্রবেশে ৩০ দিন এবং বিকিরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আরও ৩৪ দিন সময় লাগবে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই একক প্রকল্পটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত, যা রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট নির্মাণ করছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এটি চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। ডলারের দাম বাড়ায় খরচ বাড়লেও ঠিকাদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী কারিগরি খরচ অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের সামগ্রিক কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজকের এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভসহ দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।