যশোরে সরকারি মূল্যে ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়রানির অভিযোগ

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে মধান ক্রয়ের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানসম্মত ধান না হওয়ায় অনেককে নিরশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার যারা বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে ওজনে অতিরিক্ত ধান নেয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের।
গতকাল রোববার সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা ছোট বড় মাঝারি যানে ধান নিয়ে গুদামের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। কষ্টে উৎপাদিত ধান কর্তৃপক্ষ কিনছে না। অভিযোগ, ধানে আর্দ্রতা বেশি। এখন ধান নিয়ে আসার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষ বলছেন, শতকরা ১৪ ভাগের বেশি আর্দ্রতা থাকলে সেই ধান তারা নিচ্ছেন না। বলছেন, বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। আবার ১৪ ভাগের নিচে আর্দ্রতা থাকলে সেই ধান নিলেও প্রতিমণে ৪ থেকে ৫ কেজি বেশি নিচ্ছেন। অথচ, মণ প্রতি ১ কেজি করে নেয়ার কথা। কৃষকরা বলছেন, আর্দ্রতার বিষয়টি তারা এখানে এসে জানতে পারছেন। এটা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তাদের জানানোর কথা। তারাই আর্দ্রতা মেপে বিক্রির জন্যে গুদামে পাঠাবেন। কিন্তু ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা সে কাজ করেননি। যার কারণে কৃষকরা গুদামে ধান এনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ধান বিক্রি করতে আসা আরবপুর ইউনিয়নের পতেঙ্গালি গ্রামের আনোয়ার মোড়ল জানান, তিনি ৪০ মণ ধান নিয়ে আসেন। ওজনের পর তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ মণ। অর্থাৎ প্রতিমনে প্রায় ৪ কেজি করে বেশি নেয়া হয়েছে। ফলে ৩৭ মনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের এমদাদুল হক, আব্দুল মতিন, মনিরুজ্জামান। তারা জানান, তিন জন মিলে বাড়ি থেকে মেপে ৮০ মণ ধান আনেন। এখানে ওজনের সময় কয়েক কেজি বেশি করে নেয়ায় ধানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩ মণ। তার টাকা নিয়ে তাদের বাড়ি ফিরতে হয়েছে। একই অভিযোগ করেন রামনগর ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষক আব্দুল আহাদ তিনি জানান, মাপার সময় মণপ্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি করে বেশি নেয়া হয়েছে। ইছালী ইউনিয়নের নূর ইসলাম জানান, তার কোন বস্তার ধান মেপে শতকরা ১৪ দশমিক ১, ১৪ দশমিক ৭ ও ১৫ পর্যন্ত আর্দ্রতা দেখিয়ে ধান নেয়া হয়নি।
কাশিমপুর ইউনিয়নের মিনারুল ইসলাম, রামনগর ইউনিয়নের মহসিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকশ’ কৃষকের একই অভিযোগ।
জানা যায়, সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষক আছেন ২ হাজার ১৮৮ জন। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তাদের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মূল্যে ধান ক্রয় শুরু হয়। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টায় ক্রয় শুরু হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ টন এবং সর্বনিম্ন ১২০ কেজি ধান বিক্রিক করতে পারবেন এমন কৃষক নির্বাচিত আছেন।
এদিকে, ধান ক্রয় অনিয়ম ও কৃষকের হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেন সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, কৃষকরা অসত্য কথা বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে ধান শুকিয়ে আনার কথা আমরা একাধিকবার বলেছি। যাতে ধানের আর্দ্রতা শতকরা ১৪ ভাগের বেশি না হয়।

ভাগ