শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য-১ # শিক্ষাকে পুঁজি করে আয় উপার্জনের প্রতিযোগিতা : জিম্মি অভিভাবকরা

0

মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্যে শিক্ষা গ্রহণের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার নানামুখি সুবিধা প্রদান ও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তার সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাকে পুঁজি করে আয় উপার্জনের প্রতিযোগিতা ও বহুমুখি বাণিজ্যের কারণে অসহায় অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বই ব্যবসায়ী, কোচিং সেন্টার তাদের চারদিক থেকে চুষে খাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা যে সহায়তা পাচ্ছে তার চেয়ে তাদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। যা বহন করা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ফেলে তাদের অল্প বয়সে আয় উপার্জনের পথে পা বাড়াতে হচ্ছে।
সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। বিদ্যালয় গমন উপযোগী সকল শিশুকে যাতে শিক্ষার আওতায় আনা যায় সে জন্যে বিনামূল্যে বই সরবরাহ করা হচ্ছে। মেয়েদের বেতন মওকুফ ও উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ফুড প্রোগ্রামের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে বৃত্তির পরিধি। এতো সব সুযোগ-সুবিধার পরও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পরিত্রাণ পাচ্ছে না। বিনামূল্যের বই এর পাশাপাশি তাদেরকে উচ্চমূল্যের গাইড ও অন্যান্য বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও কোমলমতি শিশুদের কাঁধে চাপানো হচ্ছে অতিরিক্ত বই-খাতার বোঝা। ইন্টারন্যাশনাল/প্রি-ক্যাডেট নামে চোখ ধাঁধানো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের বেতন ফি। প্রশাসন পরিচালিত ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। উচ্চ ফির কারণে মডেল স্কুল নাম দিয়েও তারা শিক্ষায় মডেল না হয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা ও শিক্ষক সমিতি বই পাঠ্য তালিকাভুক্তির জন্যে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। তাদের ‘খাই’ মেটাতে গিয়ে অভিভাবকদের উচ্চমূল্যে বই কিনতে হচ্ছে। ভর্তির সময় গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। যৌক্তিক-অযৌক্তিক নানা খাতে আদায় করা হচ্ছে বেতন ফি। এরপর রয়েছে কোচিং-টিউশন ফি। একেকটি বিষয়ের জন্যে একেকজন শিক্ষক অধিকাংশ মানুষের পক্ষে মাসিক আয় দিয়ে সন্তানের শিক্ষা ব্যয় যোগান দেয়া কষ্টকর। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের ঘর থেকে শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা ও চাকরি দুটোই চলে যাচ্ছে বিত্তবানদের ঘরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুয়েট, মেডিকেল কলেজসহ নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন যেমন ব্যববহুল, তেমনি সেখানে ভর্তির সুযোগ পাওয়াও কষ্টকর। মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে কোচিং করার পর এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিতে হয়। যা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। যে কারণে উচ্চ শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।