মনিরামপুরে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ ৯ মেম্বারের

0

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোর মনিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মৃনাল কান্তি সাহার বিরুদ্ধে ৯ জন ইউপি মেম্বারের ভাতা ও আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত এবং ৫১টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা আদায়সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে ওই মেম্বাররা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরই ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সূত্রে জানা যায়, পরিষদের প্রতি ইউপি মেম্বারের জন্য মাসিক ভাতা বরাদ্দ রয়েছে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৩ হাজার ৬ শ টাকা এবং পরিষদ থেকে ৪ হাজার ৪ শ টাকা প্রদান করা হয়।
সাধন কুমার বিশ্বাস, তায়জুল ইসলাম, রাজু আহম্মেদ, একরামুল হোসেন, রেহেনা খাতুনসহ ৯ জন ইউপি মেম্বার জানান, পরিষদের তিন মাসের ভাতা উত্তোলনের জন্য তারা ইউপি সচিব মৃনাল কান্তি সাহার কাছে চেক প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করার পর মৃনাল কান্তি সাহা প্রতি মেম্বারকে ১৩ হাজার ৫ শ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকি টাকা সচিব আত্মসাত করেন বলে মেম্বারদের অভিযোগ। এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৫১ টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা বলে সচিব এলাকার প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা আদায় করেন। মাহমুদকাটি গ্রামের আবুল হোসেন জানান, নলকূপ স্থাপন করতে সরকারি ফিস বাবদ ৭ হাজার ১ শ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সচিবকে দিতে হয়েছে অতিরিক্ত আরো তিন হাজার টাকা। একই অভিযোগ কৃঞ্চবাটি গ্রামের শ্রীকান্ত বিশ্বাস, হেলাঞ্চী গ্রামের লুৎফর রহমান, হেরমত আলী, রাসেল আহম্মেদসহ অনেকের। অপরদিকে সচিবের বিরুদ্ধে এলাকার হাট-বাজার থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পরিষদের ৯ জন ইউপি মেম্বার সম্প্রতি যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হলেন-রাজু আহম্মেদ, মাহাবুবুর রহমান, একরামুল হোসেন, সাধন কুমার বিশ্বাস, তায়জেল ইসলাম মিলন, মুনসুর আলী, রেহেনা খাতুন, শারমিন সুলতানা ও শাহানার খাতুন। ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আবদুল হক জানান, ‘ইউপি মেম্বারদের অভিযোগের অধিকাংশই সত্য’। তবে সচিব মৃনাল কান্তি সাহা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘সামান্য কিছু বিষয়াদি নিয়ে দু একজন ইউপি মেম্বারের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা এ অভিযোগটি করেছেন’। এদিকে মেম্বারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোরের জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। নির্বাহী অফিসার ২৩ ডিসেম্বর তদন্তের তারিখ নির্ধারণ করে ইউপি মেম্বারদের নামে চিঠি ইস্যু করেন। কিন্তু ২২ ডিসেম্বর রাতে অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে তদন্তকাজ স্থগিত করা হয়। তবে স্থগিতের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করা হবে।