সাংবাদিক বানানোর কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ব্লাকমেইলিং, আটক ২

0

স্টাফ রিপোর্টার,অভয়নগর(যশোর)॥ সাংবাদিক বানানো কথা বলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও ব্লাকমেইলিংয়ের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে অভয়নগর থানার পুলিশ। ওই কিশোরীর মা তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন। আটক দুই জন হচ্ছেন উপজেলার চলিশিয়া গ্রামের বাশার মোড়লের ছেলে মাহবুবুর রহমান(৪০) ও গুয়াখোলা গ্রামের নাসির বাঘার ছেলে অনিক বাঘা(২৬)।


মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে সাংবাদিক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক মাহাবুব ওই ছাত্রীর কাছ থেকে চেয়ে নেয় জম্ম নিবন্ধন ও ছবি। কিছুদিন পর তাকে সাংবাদিকতার কার্ড নেওয়ার জন্যে মাহাবুবের মৎস্য ঘেরে যেতে বলে। মৎস্য ঘেরে যেতে দ্বিমত পোষণ করলে মাহবুব তাকে সাফ জানিয়ে দেয় তাহলে কার্ড পাবে না, সাংবাদিকতাও হবে না। পরে মাহবুবের প্ররোচণায় গত ২১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় চলিশিয়া গ্রামের তার মৎস্য ঘেরের পাড়ে গেলে তাকে একটি নির্জন ঘরে আটকে রাখে এবং ধর্ষণ করে। একই সময় আসামি তার নিজ মোবাইল দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এসময় ওই শিক্ষার্থী কান্নাকাটি করলে ধর্ষক মাহাবুবুর রহমান জানায় এ ঘটনা জানাজানি হলে ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে প্রায়ই ওই শিক্ষার্থীকে ফোন দিয়ে নির্জন স্থানে দেখা করতে বলতো মাহবুব। দেখা না করলে ওই ধর্ষণের ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখাত। এসব কাজে সহযোগিতা করতো অনিক বাঘা । এবং ওই অশ্লীল ভিডিওটি ডিলেট করার কথা বলে মাহবুব ও অনিক বাঘা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে ভিডিওটি ভিকটিমের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের মোবাইল ফোনে পাঠায়।
নিরুপায় হয়ে থানায় মাহবুবুর রহমান ও অনিক বাঘাকে আসামি করে মামলা দায়ের করে ওই শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর ও অনিককে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে অখ্যাত বেশ কয়েকটি পত্রিকার পরিচয়পত্র ও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করে। এব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এ কেএম শামীম হাসান জানান, অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা রুজু হয়েছে।