লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কমে এসেছে তাপমাত্রা। বাতাস শুষ্ক হয়ে গেছে, তীব্র শীতে কমে যাচ্ছে ত্বকের গ্লো। তাই ত্বকের যত্ন না নিলে ফাটা ত্বক নিয়ে এই শীত কাটাতে হবে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতে ত্বকের সুরক্ষার করণীয় দিকগুলো: সাবান ত্যাগ করুন : সুগন্ধী সাবান আপনাকে একদিনের জন্য ফ্রেস রাখতে পারে। কিন্তু আপনার ত্বককে তা রুক্ষ করে দেয়। ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করলে ডিহাইড্রেট ফ্রি সাবান ব্যবহার বন্ধ করুন। এই শুষ্ক সময় ব্যবহার করুন ক্রিমযুক্ত বডি-ওয়াশ। লোশন ছেড়ে তুলে নিন ক্রিম: বাতাস শুষ্ক হয়ে যাওয়ায়, ত্বকের প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা দরকার। ক্রিম একটা তৈলাক্ত আবরণ তৈরি করে। ফলে লোশন ছেড়ে ক্রিম ব্যবহারই বাঞ্ছনীয়। ঠোঁট বাঁচান: শীতে ফাটা ঠোঁট বড় একটা সমস্যা। শীতে ঠোঁট ফাটার হাত থেকে বাঁচাতে ব্যবহার করুন নন-পেট্রোলিয়াম জেল। এবার একটা হ্যান্ড ক্রিম কিনেই নিন : শীতে হাতের চামড়ার খুব ক্ষতি হয়। শরীরের যত্ন নিয়ে হাতের দিকে নজর দেন না অনেকেই। এবার এটা না করে হাতের দিকেও নজর দিন। হ্যান্ড ক্রিম হাতের ত্বককে নরম করে ও রুক্ষতার হাত থেকে বাঁচায়।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন: শুধু বাইরের দিক থেকে রুক্ষতা প্রতিরোধ করাই নয়। নিজেকে ভিতর থেকে সজীব ও সতেজ রাখার জন্য প্রচুর পানি পান দরকার। এমনিতে বেশি পানি খাওয়ার উপকারিতার কোন বিকল্প নেই? এই শীতে তা ত্বক তো বটেই, সারা শরীরে সুস্থতার জন্যই কাজ দেবে। সবজি ও ফল খান: প্রতিটি ঋতুতে শরীরে কী কী উপাদানের ঘাটতি পড়ে আর কী দরকার, সেই হিসেবেই আসে মৌসুমি ফল ও সবজি। শীতে সবজির সমাহার। সবজি ভাল লাগে না বলে নাক কুঁচকোবেন না। বরং এই সবজির ভিটামিনই আপনার স্বাস্থ্য ও ত্বককে সতেজ রাখবে। ফলও একান্ত প্রয়োজনীয়৷ জরুরি ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহে এদের বিকল্প নেই।
শীতে ত্বকের যত্নে করণীয়
সকালে নিয়মিত লেবু পানি পানের উপকারিতা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ না। লেবুতে আছে ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসকে ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আর সকাল সকাল লেবু পানি পান করা আরও ভালো। নিয়মিত সকালে এক কাপ লেবু পানি পান করলে আপনাদের দেহ পাবে জাদুকরী উপকারিতা।
১. পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের যা দেহের পানিশূন্যতা দূর করে।
২. লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যে কোন সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন। আপনার ত্বককে করে তোলে সুন্দর ও পরিষ্কার।
৩. বুক জ্বলা পড়া দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে রোজ আধা কাপ পানির মাঝে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
৪. অন্য যে কোন খাবারের চেয়ে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।
৫. আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।
৬. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
৭. লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।
৮. হাড় জয়েন্ট ও মাসল পেইন কমায় দ্রুত।
৯. সকাল সকাল চা বা কফি পান করে দিন শুরু না করে লেবু পানি পান করে দেখুন। নিজের এনার্জিতে নিজেই বিস্মিত হবেন! আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।
১০. গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবু পানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না। বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশি উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গর্ভকালে রোগ বালাই থেকে দূরে থাকে।
যেভাবে পান করবেন :
সামান্য উষ্ণ পানি বা এই গরমের দিনে কক্ষ তাপমাত্রার পানিতেই মিশিয়ে নিন লেবুর রস। লাইম নয়, লেমনের রস। পাকা, অর্থাৎ পেকে হলুদ হয়ে যাওয়া লেবুর রস। নাহলে খালি পেটে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে! আপনার ওজন যদি ১৫০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলে অর্ধেক লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মেশাবেন। আর যদি ১৫০ পাউনডের বেশি হয়, তাহলে মেশাবেন পুরো একটা লেবুর রস।
ঝিনাইদহ কেসি কলেজ ছাত্র হোস্টেলের টয়লেটের ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ঝিনাইদহ সরকারি কেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের টয়লেটের মলযুক্ত ময়লা পানির দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে পুলিশবক্সে বসে কোন ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্য ডিউটি করতে পারছেন না। টয়লেটের উৎকট গন্ধে মানুষ নাকে রুমাল দিয়ে চলাফেরা করছেন। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কেসি কলেজের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছাত্রাবাসের চারিদিকে ময়লা পানিতে সয়লাব। বিশেষ করে ছাত্রাবাসের সামনের অংশে যেখানে পুলিশ বক্স অবস্থিত সেখানে প্রাচীরের পাশে ময়লা পানি জমে আছে। ছাত্রাবাসের ট্যাংকি উপচে পানি রাস্তায় প্রবাহিত হচ্ছে। সব ট্যাংকিগুলো ভরে গেছে। ছাত্ররাও দুর্গন্ধে পড়ালেখা করতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবাসটি নির্মাণের পর থেকে পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে গোসলের পানি ও টয়লেটের পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। গত আষাঢ় মাস থেকেই ছাত্রাবাসের পানি একের পর এক বের হয়ে রাস্তায় আসলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ পৌরসভার দিকে তাকিয়ে আছে। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে ড্রেনের কাজ করাতে পারতো। তাছাড়া কলেজ ফান্ড থেকে তারা স্থায়ী ব্যবস্থা করতে পারলেও তা না করে ট্যাংকি পরিষ্কার করেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দুর্গন্ধে ঠিকমতো পুলিশ বক্সে বসতে পারছি না। পুলিশ ভাইয়েরা ও পথচারীরা খুব কষ্টে আছেন। পথচারী গোলাম রসুল বলেন, আমরা কেসি কলেজের হোস্টেলের পাশে যখন যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তখন উৎকট গন্ধে বমি আসছিল। বিষয়টি নিয়ে কেসি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে আমরা ট্যাংকি পরিষ্কার করেছি। স্থায়ী ড্রেন না থাকায় কোন সুরাহা হচ্ছে না। এ জন্য পানি সরছে না। তিনি বলেন, ড্রেন করার জন্য পৌরসভাকে বলা হয়েছে।
আজকের রাশিফল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পরমযোগী গ্রহ শনি, মহারাজ বুদ্ধির দেবতা বুধ ও দেবগুরু বৃহস্পতির প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে কুম্ভ রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। চতুর্দিক থেকে তরতাজা উন্নতি করতে থাকায় মন আনন্দে নাচবে। সন্তান-সন্ততিরা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে তথা পুরস্কৃত হতে পারে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। লৌকিকতায় উপহারও পাবেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহবিবাদের মীমাংসা হবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] হারানো পিতৃমাতৃ ধনসম্পদ সম্পত্তি ব্যবসা ফিরে পাওয়ার পথ খুলবে। কর্মের সুনাম যশ পদোন্নতির পথ সুগম করবে। আশ্রিত ও প্রতিপালিত ব্যক্তি দ্বারা ক্ষতি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মন ফেসবুক ইউটিউব প্রেম প্রসঙ্গ ও অনুচিত কাজবাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ক্রয়-বিক্রয় অস্ত্রশস্ত্র বহন ও অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা শ্রেয় হবে। অবশ্য সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] হাতে থাকা প্রায় কাজই সম্পন্ন হওয়ায় মন আনন্দে নাচবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। শ্রমিক-কর্মচারী ও ড্রাইভারদের মনে স্বতঃস্ফূর্ততা কাজ করবে। দুর্যোগের মেঘ সরে গিয়ে সুদিনের সূর্য উদিত হবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] আয় বুঝে ব্যয় করুন নচেৎ সঞ্চয়ে হাত পড়বে। দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদে গোটা পরিবারে শোকের মাতম চলতে পারে। অবশ্য সংকটকালে জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও মাতুলালয় থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতাপ্রাপ্ত হবেন। শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] দুর্জন আত্মীয়বেশে আপনার সুখের সংসারে অশান্তির অনল জ্বেলে দিতে পারে। অর্থকড়ির মামলায় কাউকে অধিক বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। মন সুর সংগীত ও ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিনের ভোগ্য ব্যাধিপীড়া থেকে পরিত্রাণের পথ প্রশস্ত হবে।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাজ সাজ রব করবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষ লেজ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় কোনো অর্ডার হাতে আসায় বস আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহবিবাদ কোনো বয়স্ক লোকের সহযোগিতায় মীমাংসা হবে। সহকর্মী ও অংশীদারদের কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতাপ্র্রাপ্ত হবেন। প্রেমিকযুগল সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করুন নচেৎ বিপদে পড়তে পারেন।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গোটা পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে। প্রেমিকযুগলের প্রেম বিবাহের মাধ্যমে সমাজে স্বীকৃতি পাবে। বেগবান যান এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা আদায় ও আটকে থাকা কাজ সচল হওয়ায় মন আনন্দে নাচবে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] শূন্য পকেট পূর্ণ হয়ে উঠবে। অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহ বিবাদের মীমাংসা হওয়ায় ব্যবসায় যেমন লাভবান হবেন তেমনি ব্যবসার বহুল প্রচার ও প্রসার ঘটবে। রাগ জেদ অহংকার বর্জনের সঙ্গে পরিশ্রমী ও মিতব্যয়ী হলে প্রচুর উন্নতি করতে সক্ষম হবেন।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] লটারি ফাটকা জুয়া রেস শেয়ার প্রভৃতিতে বিনিয়োগ ঘাতক বলে প্রমাণিত হবে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নসাধ পূরণের পথ খুলবে। গৃহবাড়ি ভূমিসম্পত্তি ও যানবাহন লাভের পথ প্রশস্ত হবে। সন্তানদের ক্যারিয়ার অধ্যয়ন স্বাস্থ্য ও বিবাহসংক্রান্ত দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] ডাকযোগে প্রাপ্ত সংবাদ বেকারদের কর্মপ্রাপ্তির বাসনা পূরণ করবে। যোগ্যকর্ম ও উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশগমনের পথ প্রশস্ত হবে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। সন্তানরা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে তথা কোনো না কোনো পুরস্কার পাবে।
প্রার্থী চূড়ান্ত দুই দলের :
বিএনপির তাবিথ ও ইশরাক, আ.লীগের আতিক ও তাপস
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ভোটযুদ্ধে লড়তে বিএনপি মেয়র প্রার্র্থী ঘোষণা করলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নৌকার দুই মাঝির নাম প্রকাশ করবে আজ (রবিবার)। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে মো. আতিকুল ইসলামের নাম আলোচনা হলেও চূড়ান্ত হয়নি। দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়ন বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যই ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে সমর্থন দেন। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও অবস্থান কিছুটা ছিল বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের পক্ষে। তবে এ সিটির মেয়র পদও চূড়ান্ত করতে পারেনি বোর্ড। আজ বেলা ১১টায় ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। গতকাল গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।
এদিকে উত্তর সিটিতে বিএনপি পুরনো মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালে ভরসা রাখলেও দক্ষিণে নতুন মুখ প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। এর আগে দক্ষিণে লড়েছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এবার অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাকের হাতেই ধানের শীষ তুলে দেওয়া হলো। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেও খোঁজ নিচ্ছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করতে আমাদের একটু সময় লাগছে। আজ বেলা ১১টায় ধানমন্ডিতে সভাপতির কার্যালয়ে উভয় সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’ ঢাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক ও তাবিথ : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়ালকে মনোনয়ন দিল বিএনপি। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থায়ী কমিটির সবাই পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য। ঢাকা উত্তরে তাবিথের পাশাপাশি দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনও মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁরা তিনজন গতকাল বিকাল ৪টায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সামনে উপস্থিত হন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ড আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সবকিছু বিবেচনা করে উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল, আমাদের পক্ষে নির্বাচনে থাকাটাই উপযোগী কাজ। তার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের আন্দোলনটা আরও বেগবান করতে সক্ষম হব, জনগণের কাছে যেতে সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সেই সুযোগ আমাদের দেয়নি। এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তা আমরা মনে করি না। তার পরও আমরা এ নির্বাচনে যাচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসেবে।’
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে। ২০১৫ সালে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরেক ব্যবসায়ী প্রয়াত আনিসুল হক। তাঁর মৃত্যুর পর ঢাকা উত্তরে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে মেয়র পদে রয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস। এবার সেখানে এলেন খোকাপুত্র ইশরাক। এ সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি একাই ছিলেন। নির্বাচিত হলে ‘বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা’ গড়ার অঙ্গীকার তাবিথ আউয়ালের, ‘নগর সরকার’ আদলে ঢাকাকে সাজানোর অঙ্গীকার ইশরাক হোসেনের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় এ প্রতিশ্রুতির কথা জানালেন তাঁরা। তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন উভয়ে তাঁদেরকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। তাঁরা মনে করেন, এটা প্রাথমিক বিজয় শুধু তাঁদের নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী সব কর্মীর। নগর ও দেশবাসীর কাছে দোয়াও চান তাঁরা। বিজয়ী হলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রতিটি সেক্টর নিম্নস্থানে আছে। গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে, মানুষের যে ন্যূনতম অধিকারগুলো আছে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। তার পাশাপাশি ঢাকাকে উন্নয়ন করতে হবে। জনকল্যাণে জনগণের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের অনুপস্থিতির কারণেই কিন্তু আমাদের ঢাকা আজকে বিশ্বের সবচেয়ে অবসবাসযোগ্য নগরীর মধ্যে অন্যতম। কারণ এখন যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁদের মধ্যে জনগণের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা নেই। তাঁরা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেননি। যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে গেছে ১২ বছরে, এটা দিয়ে ঢাকা কেন বাকি ১২টি সিটি করপোরেশন উন্নত করা সম্ভব ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের যে অথরিটি দেওয়া আছে তা দিয়ে ঢাকার সমস্যার সমাধান ও উন্নত নগরী করা সম্ভব নয়। ঢাকাকে অবশ্যই একটি মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট অথবা নগর সরকারের আদলে সাজাতে হবে।’ বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত আজ : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কমিটি করেছে বিএনপি। উত্তরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে বাছাই কমিটিতে রয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এম এ কাইয়ুম, বজলুল বাসিত আনজু, আহসান উল্লাহ হাসান ও সুলতানা আহমেদ। দক্ষিণে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের নেতৃত্বে বাছাই কমিটিতে রয়েছেন মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আফরোজা আব্বাস, কাজী আবুল বাশার ও নবীউল্লাহ নবী।
অন্যদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলর বাছাই কমিটিতে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, জেবা খান, নিপুণ রায়চৌধুরী এবং মহিলা দলের উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি। এ দুই কমিটি আজ সকাল ৯টায় গুলশানের কার্যালয় এবং নয়াপল্টনে মহানগরী কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। দুই সিটিতে মোট প্রার্থী ২১১০ জন : নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই সিটিতে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১১ জন। কাউন্সিলর পদে সব মিলিয়ে ২ হাজার ১১০ প্রার্থী দুই রিটার্নিং অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আগামী মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার সময় শেষ হচ্ছে। সে হিসেবে প্রার্থীরা আর মাত্র দুই দিন সময় পাচ্ছেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সাত, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭৫৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৬৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে গতকাল মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ ফজলে বারী মাসুদ ও পিডিপির শাহীন খান। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গতকাল পর্যন্ত মেয়র পদে চার, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৯৫ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৮০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী একজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান।
‘১০ বছরে ৯ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, তার নেপথ্যে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসেবে ২০১৫ সালে বিদেশি বাণিজ্যের নামে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আর আমি হিসাব দিচ্ছি, গত ১০ বছরে ৯ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ২২ পরিবারের হাতে সব সম্পদ। এই নতুন দুর্নীতিবাজ ও রাজাকারদের প্রতিহত করতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় যশোর টাউন হল মাঠে ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যশোর জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাড. আবু বক্কার সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সমাবেশে মেনন আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল সামাজিক ন্যায় বিচার, মানবিক মর্যাদা, সমতা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা। আমরা ঘোষণা করেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার। যেখানে থাকবে ন্যায়ভিত্তিক সমতা। সেই লড়াই শুরু হয়েছে এবং তাতে আমরাই বিজয়ী হবো। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, পলিট ব্যুরো সদস্য সুশান্ত দাস, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, নূর আহমেদ বকুল প্রমুখ।
বাগেরহাটে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় রোগিদের ভোগান্তি
বাগেরহাট অফিস ॥ বাগেরহাটে দিন যত যাচ্ছে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। শীতে শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা শাসকষ্টজনিত কারণে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত দুই দিনে দুই শতাধিক শাসকষ্টের রোগী ভর্তি হয়েছে জেলার প্রধান এই হাসপাতালে। এদিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু রোগীর স্বজনরা। সদর হাসপাতালে এসে শিশু বিশেষজ্ঞ না পেয়ে বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন বিভিন্ন বেসরকারি কিনিকে। যাদের কিনিকের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ নেই তারা সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে পড়ে আছে সদর হাসপাতালে।
শনিবার সকালে অসুস্থ শিশুর মা সুমি বেগম বলেন, ‘আমার সন্তানের সর্দি হয়েছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এখানে আসার পরে জানলাম হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই চলে যাচ্ছি। তবে কোথায় গিয়ে চিকিৎসা করাবো তা জানি না। কারণ এর আগে আলীয়া মাদরাসা রে ডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেছিলাম সেখানেও চিকিৎসক নেই।’ আরও কয়েকজন শিশু রোগির স্বজনকেও এভাবে হতাশ হয়ে চলে যেতে দেখা যায়। জেলার প্রধান এই হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ােভ প্রকাশ করেছেন অনেকই। শুধু শিশু বিশেষজ্ঞ নয় অনেক চিকিৎসকের পদই শূন্য রয়েছে বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে। হরিণখানা এলাকার রুস্তম তালুকদার বলেন, প্রচুর ঠান্ডায় জ্বর, সর্দি ও কাশি হয়েছে। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ খেয়েছি, তারপরও কমেনি। তাই হাসপাতালে এসেছি। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কাওছার মলিক বলেন, ঠান্ডা লেগেছে প্রচুর। কাজও করতে পারি না। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. পুলক দেবনাথ বলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় শিশু রোগিদের চিকিৎসা দিতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও যারা আসছে স্থানীয়ভাবে আমরা তাদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামনে কি?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছিল শুদ্ধি অভিযান। অভিযানে অনেক রাঘববোয়ালের সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গেছে। কেউ বিদেশে পালিয়েছেন। অভিযান মূলত প্রথমে ক্যাসিনো কারবারীদের বিরুদ্ধে শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ঠেকে প্রভাবশালী ঠিকাদার, কাউন্সিলর, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে। তবে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বর্তমানে ধোঁয়াসা তৈরি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, অভিযান কী আর চলবে? সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার গোপীবাগ থেকে চাঁদাবাজী ও সস্ত্রাসী লালনের অভিযোগে কাউন্সিলর মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে অনেকটা থমকে গেছে অভিযান। তবে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী জানিয়ে, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো কান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। পাশপাশি দুদকও সক্রিয় হবে। শুরুতে অভিযান ঢাকা কেন্দ্রীক হয়েছিল। এবার তা ঢাকার বাইরে মোটাদাগে শুদ্ধি অভিযানের পরিকল্পনা আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুদ্ধি অভিযানের প্রথম সাড়িতে থাকা র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার পিএসসি জানান, ‘আমরা শুধু নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছি না। অস্ত্র, মাদক, জঙ্গি, সস্ত্রাসীসসহ বিভিন্ন অপকর্মে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এইতো কিছুদিন হলো হলো আমরা ১২ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো কান্ডে প্রথম গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানের ডালপালা বিস্তার হতে শুরু করে। জনমনে বিশ্বাস তৈরি হয় যে, দুর্নীতি করলে ছাড় পাওয়া যাবে না। ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু থেকে নিয়মিত চললেও মাঝে এসেছে ধীরগতি। সর্বশেষ ৩১শে অক্টোবর র্যাবের অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কোন দুর্নীতিবাজ বা ক্যাসিনো কান্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই পুরোদমে আবার শুরু হবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। র্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে মোট ৫০ টি ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার মধ্যে ৩০টি হচ্ছে র্যাবের। অভিযানের শুরুর দিকে র্যাব ছিল সামনের সাড়িতে। বাকি ২০টি পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা। ঢাকায় ৩০ টি ও চট্রগ্রামের মোট ১১ টি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়।
সূত্র জানায়, ৫০ টি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৭৫ জন। এরমধ্যে ২২৩ জন ঢাকায়। আর বাকি ৫৩ জন ঢাকার বাইরের অন্য জেলাগুলোতে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২ জন, ঢাকার ৩ কাউন্সিলর, যুবলীগের ৬ জন ও কৃষক লীগের ১ জন। সরকার ও দুদক কর্তৃক দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আছে ৩৪ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ওইসব অভিযানে ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নগদ, ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩৩ টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ৮ কেজি সোনা, ২৭ টি অস্ত্র এবং সাড়ে ৪ হাজার বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের ৫ টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযান শুরু হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রভাবশালী ২৩ ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। এছাড়াও আরও ১০০০ ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত চলমান রেখেছে দুদকসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা। ওই ৫০০ বক্তির মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, টেন্ডারেযুক্ত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে। সূত্র জানায়, অভিযানের বড় অংশ ঢাকায় চালানো হয়েছে। তবে এবার জেলা পর্যায়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। মাঠ পর্যায়ে যারা অল্প সময়ে দুর্নীতি করে হঠাৎ ফুলেফেপে উঠেছেন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয়ে দুর্নীতির যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তা ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশের টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।
আইএএস’র পদে আইপিএস নিয়োগে নয়া বিতর্ক
পরিতোষ পাল॥ কিন্তু আইএএসদের পদে আইপিএস নিয়োগের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অবশ্য এবারই এই ঘটনা নতুন ঘটেছে তা নয়। এর আগে জেল সচিবের পদেও পর পর দু’বার দু’জন আইপিএস অফিসারকে নিয়োগ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের সাবেক এক মুখ্য সচিবের মতে, ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রের ধাঁচে শিক্ষাগতযোগ্যতা নয়, প্রশিক্ষণ পর্বেই ক্যাডারভিত্তিক কৌশল রপ্ত করানো হয়। ফলে শিক্ষাগতযোগ্যতা যা-ই হোক না কেন, আইএএসদের সাধারণ প্রশাসন ও আইপিএসদের পুলিশ বাহিনী পরিচালনার কাজেই দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তাই একজন আইএএস’কে জেলা শাসক করা হয়, আর আইপিএস’কে পুলিশ সুপার। তবে এবার যাকে নিয়ে এই বিতর্ক নতুন ভাবে তৈরি হয়েছে তিনি বিতর্কিত পুলিশ কমিশনার বিবেক কুমার। সম্প্রতি বিতর্কিত এই আইপিএস অফিসারকে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রধান সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
বিবেককুমারের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থার নথি গোপন করার মামলা রয়েছে সিবিআই আদালতে। স্বাভাবিক কারণেই বিবেক কুমারের নতুন পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক মহল দ্বিধাবিভক্ত। আইপিএস মহলের মতে, সর্বভারতীয় ক্যাডারের যেকোনো অফিসারের প্রধান সচিব হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তবে আমলাদের একাংশের মতে, আইএএস এবং আইপিএসদের প্রশিক্ষণের ধাঁচ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাদের জন্য নির্দিষ্ট পদও আছে। রাজ্যের এক সাবেক মুখ্য সচিব জানিয়েছেন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিবের পদ আইএএস’দের জন্য নির্দিষ্ট। সেখানে আইপিএস’দের বসাতে হলে কেন্দ্রীয় পার্সোনেল মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হয়। তিন মাসের বেশি অনুমোদন দিতে পারে না মন্ত্রক। প্রয়োজন হলে তা আবার বাড়ানোর আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যদি তা মানা না হয়ে থাকে, তা হলে সেটা বেনিয়ম হয়েছে। তবে ক্যাডার পোস্টে অন্য অফিসারদের বসানোর রীতি অনেক দিন আগেই বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব পদটি আইএএসদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সেখানে এখন আইএএস নেই। এ ছাড়াও তেলেঙ্গানাতেও স্বরাষ্ট্র সচিব পদে আইপিএস অফিসার বসেছেন। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান কর্তাও আইপিএস।
জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রিট লাইব্রেরি
স্ট্রিট লাইব্রেরি বা পথ গ্রন্থাগারের ভাবনা কলকাতা শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে চলেছে। পথের ধারে বা পার্কে থাকছে র্যাকে সাজানো থরে থরে বই ও পত্রিকা। সময় ও সুযোগ মতো কেউ সেখান থেকে মনের মতো বই বেছে নিয়ে পড়েও ফেলছেন। আবার পড়া হয়ে গেলে তা যথাস্থানে রেখেও দিচ্ছেন। এমনই এক পাঠকের ভাষ্য, তিনি স্ট্রিট লাইব্রেরি থেকে নেয়া একটি গোটা উপন্যাসের বই পড়ে ফেলেছেন কয়েকদিনে। আর এই ধরনের লাইব্রেরির আসল পড়ুয়া অবসরে যাওয়া মানুষই। কলকাতা শহরের চেনা কয়েকটি পার্ক, যেমন দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক, পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক, ভবানীপুরের নর্দান পার্কে এই স্ট্রিট লাইব্রেরি চলছে। এই ভাবনাকে ছড়িয়ে দেয়ার আসল উদ্দেশ্যই হলো, নাগরিকদের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং তা পড়ার অভ্যাস ছড়িয়ে দেয়া। অবশ্য কলকাতাতে এই স্ট্রিট লাইব্রেরির সূচনা হয়েছিল এক নিরাপত্তাকর্মীর উদ্যোগে। কয়েক বছর ধরেই উত্তর কলকাতার জগৎ মুখার্জি পার্কে তার প্রচেষ্টায় চলছে এমন একটি স্ট্রিট লাইব্রেরি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের বই তুলে দিয়েছেন পার্কের ওই গ্রন্থাগারের জন্য। এবার স্ট্রিট লাইব্রেরি কলকাতার অন্যান্য পার্কেও তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা।
বছরখানেক আগেই অবশ্য কলকাতা পুরসভার অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করে একটি বেসরকারি সংস্থা কয়েকটি এমন স্ট্রিট লাইব্রেরি চালু করেছে। এই সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বইগুলো এমন ভাবে রাখা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির ছাঁট বা রোদ সেসবের ক্ষতি করতে না পারে। এমনকি সেগুলো ধুলো থেকে বাঁচাতে পর্দা দেয়া হয়েছে। খোলা জায়গায় বই রাখলে চুরির আশঙ্কা প্রসঙ্গে সংস্থার গ্রন্থাগারিক মনোজ সাঁই বলেছেন, সচরাচর বই চুরি হয় না। কেউ নিলে বুঝতে হবে সংস্থার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তার দাবি, এমন কিছু ঘটলে সংস্থা ওই লাইব্রেরিতে ফের বই দেবে। এদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতায় দেশপ্রিয় পার্কে এই ধরনের স্ট্রিট লাইব্রেরি বা পথ-গ্রন্থাগার করা হয়েছে। নর্দার্ন পার্কে রাস্তার উপরেই রয়েছে এমন ব্যবস্থা। পথচলতি মানুষ হাতে বই নিয়ে পড়েনও। তাদের উৎসাহ দেখে আরো অনেক পার্কে পুরসভা বেসরকারি সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার কথা ভাবছে।
কলকাতায় হৃদয়ে সিলেট
আমাদের আসল পরিচয় ‘আমরা সিলেটি’। সকল সিলেটির হৃদয়ে সিলেট। এটাই আমাদের একতা। আর তাই এই প্রতীকী বোঝাতে কৃত্রিম পৃথিবী ঘুরিয়ে শুক্রবার বিকালে কলকাতায় উদ্বোধন হয়েছে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় বিশ্ব সিলেট উৎসবের। ছত্তিশগড় রাজ্যের সাবেক রাজ্যপাল শেখর দত্ত এই উৎসবের উদ্বোধন করেছেন। দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশনের ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়েছে এই উৎসব। বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা সিলেটিরা যোগ দিয়েছেন। কয়েক হাজার সিলেটির পদচারণায় গোটা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে মিনি সিলেট হিসেবে। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততার কারণে তারা কেউই আসতে পারেননি। তবে এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক, বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
তিনদিনের এই উৎসবে এদিন পণ্য প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়েছে। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে সিলেটি রান্নার নানা পদ। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিনই সিলেটি রান্নার স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়াও উৎসবের বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে মণিপুরী তাঁতসহ নানা বস্ত্রসম্ভার। এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছে সিলেটি গানের সঙ্গে নৃত্যানুষ্ঠান। এ ছাড়াও প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে কৌতুক, গান ও নাটক। তিনদিনের এই উৎসবে রবীন্দ্রনাথের সিলেট ভ্রমণ ও তার প্রভাব নিয়ে শনিবার আলোচনা করেন ড. ভীষ্ম দেব, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক জাফির সেতু, অমলেন্দু চক্রবর্তী, অধ্যাপক সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। এ ছাড়াও সিলেটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
পাতকুয়ো মিস্ত্রির কেরামতি
হাতের কাছে রয়েছে দমকলের প্রশিক্ষিত বাহিনী। আধুনিক যন্ত্রপাতিও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দক্ষ কর্মীরাও। কিন্তু কিছুতেই ২০ ঘণ্টার চেষ্টাতে একটি কুয়ো থেকে তুলতে পারেন নি এই দুই বিভাগের দক্ষ কর্মীরা। এমনকি ডুবুরিরাও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ডাকা হয়েছিল এক পাতকুয়ো মিস্ত্রিকে। তিনিই পাতকুয়ো থেকে তুলে আনেন এক যুবকের দেহ। তবে তখন সেটি নিথর হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে এই কলকাতাতেই। শুক্রবার দুপুরে বাঁশদ্রোণীর সোনালি পার্ক এলাকার বাসিন্দা সম্রাট সরকার ওরফে বাপী (২৯) বাড়ির সামনের একটি কুয়োতে স্নান করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন পাতকুয়োতে। বাপীকে উদ্ধার করতে ডাকা হয় দমকল বাহিনীকে। ছুটে আসে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামানো হয় ডুবুরি। পাতকুয়ো থেকে জল বার করে বাপিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। রাতভর চেষ্টা চালিয়ে, চারবার ডুবুরি নামিয়েও উদ্ধার করা যায়নি ওই যুবককে। ততক্ষণে ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত ডাকা হয়েছিল পাতকুয়োর মিস্ত্রি মেঘনাদ সর্দারকে। তিনিই তার কেরামতি দেখিয়ে গভীর কুয়ো থেকে শনিবার সকালে তুলে এনেছেন বাপীর দেহ। পরিবারের বক্তব্য, আগেই পাতকুয়োর মিস্ত্রিকে ডেকে আনলে হয়তো তাদের ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তবে ডুবুরি নামানোর পরেও যুবককে কেন তোলা যায়নি তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকটি মৃগী রোগী ছিল। স্নান করার সময় সম্ভবত অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পাতকুয়ো মিস্ত্রিকে সিভিল ভলান্টিয়ারের কাজ দেয়া হবে।
ইসির সামনে ইভিএম চ্যালেঞ্জ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে ইলেকট্রনিক মেশিনে ভোট গ্রহণের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে অনেক নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হলেও অর্ধ কোটিরও বেশি ভোটারের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা এর আগে হয়নি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ছয়টি আসনে সম্পূর্ণ ইভিএমে ভোট হয়। এ আসনগুলোতে ২১ লাখ ভোটার ছিলেন। ওই নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার প্রত্যাশিত ছিল না। ঢাকার দুই সিটিতে ভোটারই আছেন ৫৪ লাখের বেশি। এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং ভোটের হারও প্রত্যাশিত হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তাই এই নির্বাচন পুরো ইভিএমে সম্পন্ন করাকে ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।
ইতোমধ্যে ইভিএমে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নির্ধারিত কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এখন আমাদের টেকনিক্যাল ভোটিংয়ে আশা উচিত। ৫শ ভোটারের জন্য একটি বুথে ভোট গ্রহণ কোন বিষয় না, বিষয় হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট। ইভিএমেও যদি বুথ দখল হয় তাহলে ইভিএম দিয়েতো কাজ হবেনা, ইভিএমতো বুথ দখল রোধের গ্যারান্টি দেয় না, ইভিএম আইডেন্টিফিকেশন ও ভোট দেয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে। বুথ দখলের গ্যারান্টি একমাত্র নির্বাচন কমিশন দিতে পারে। ইভিএমে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না এমনটা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা দুই সিটিতে ইভিএমে নির্বাচন চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই, তবে এটা আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পার্লামেন্ট ইলেকশনে আমরা ৬টি বিক্ষিপ্ত আসনে একই দিনে ইভিএম দিয়ে ভোট করেছি। তখন কিন্তু আমরা সেই নির্বাচন উঠিয়ে এনেছি। তাহলে এখন এই ১৫টি আসনে কেন পারবো না? তখন এই ছয়টি ছাড়াও সারা দেশে ২৯৪ টি আসনে ব্যালট দিয়ে ভোট নিতে হয়েছে। তখন নির্বাচনে আমাদের অনেক জায়গায় ফোকাস দিতে হয়েছে আর এবার আমাদের পুরো ফোকাসটাই এখানে থাকবে। সিটি নির্বাচনে আমাদের পুরো সামর্থ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আশাবাদী হলেও প্রার্থীদের অনেকে ইভিএম নিয়ে সন্দিহান। প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ইভিএমে মানুষ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। যদিও সরকারি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইভিএম নিয়ে কোনো আপত্তি তুলছেন না। নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে ২৮ হাজার ইভিএম প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো.কামাল উদ্দিন। শনিবার নির্বাচন ভবন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব ইভিএম পাঠানো শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলক ভোটের জন্য ব্যবহার ছাড়াও ভোটের দিন এসব ইভিএম ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষামূলক ভোট ও ব্যবহার বিধি জানানোর জন্য গতকাল উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে ইভিএম পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও মিরপুর-১৪ এ অবস্থিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজে এসব যন্ত্র পাঠানো হবে। ৩রা জানুয়ারি মিরপুর-২ এ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৬ই জানুয়ারি বনানী বিদ্যানিকেতন এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর বনশ্রী শাখায় পাঠানো হবে ইভিএম। ১২ই জানুয়ারি তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে পাঠানো হবে ইভিএম। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, পরীক্ষামুলক ব্যবহারের জন্য উত্তরের ৮টি ও দক্ষিণের জন্য ১১ টি ভ্যেনুতে ইভিএম রাখা হবে। ভোট গ্রহণের আগে থেকে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আমরা ভোটারদের দেখাবো কিভাবে ভোট দিতে হয়। ইভিএমে দূর্নীতির কোন সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
ইসি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৩ হাজার ১০৯ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৪৬৯ টি ও ভোটকক্ষ ১৩ হাজার ৫১৪ টি। নতুন ইউনিয়নসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশ (ডিএনসিসি) এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ও দক্ষিণ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। ২৮ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫ হাজার ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ হাজার ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে এসব মেশিন পর্যায়ক্রমে দুই সিটি করপোরেশনের রির্টানিং কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দিবে ইসি। এই ইভিএম মেশিন প্রতিটি কেন্দ্রে পৌছে দেয়ার জন্য দক্ষিণে ১১ ও উত্তরে ৮ টি বিতরন কেন্দ্র নির্ধারণ করেছেন দুই সিটির রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ভোটের আগে এখান থেকে ইভিএমগুলো প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই দুই থেকে চারটি ইভিএম অতিরিক্ত রাখা হবে। যদি কোনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে বিকল্প হিসাবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে অভিজ্ঞ সেনা সদস্য রাখা হবে, ইভিএমে যদি কোন টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তারা সেগুলো অপারেটিংয়ে সাহায্য করবে। এছাড়া ইভিএম অপারেটিংয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের ১ হাজার ১৫০ জন অভিজ্ঞ জনবল কাজ করবে। ঢাকা উত্তরে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। এখানে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ টি ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৫১৬ টি। এছাড়া দক্ষিণ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ১২০ টি, ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৯৯৮ টি। এ বছর দুই সিটি নির্বাচনে নতুন যুক্ত হয়েছে ৩৬ টি ওয়ার্ড।
এই ইভিএম ও জনবল দিয়ে সিটি নির্র্র্বাচনে সঠিকভাবে ভোট গ্রহণ সম্ভব কিনা জানতে চাইলে ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো.কামাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, প্রতিটি ইভিএমে চার’শ ভোটার ভোট দিতে পারবে একটি কেন্দ্রে চার হাজার ভোটার থাকলে সেখানে ১০টি মেশিনের মাধ্যমে ভোটাররা খুব সহজেই ভোট দিতে পারবে। এছাড়া বিকল্প হিসাবে আমরা প্রতিটি কেন্দ্রেই অতিরিক্ত মেশিন রাখবো আমাদের অভিজ্ঞ টেকনেশিয়ানরা এখানে কাজ করবে। আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এখন আমরা মেশিনগুলোর কোয়ালিটি চেক করে এগুলো (ইভিএম) দুই সিটির রির্টানিং কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এক সাথে দুই সিটি নির্বাচনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এর আগেও আমরা জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার করেছি সেখানে আমরা ভালো ফলাফল পেয়েছি। গত ২২শে ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২রা জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ই জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ই জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০শে জানুয়ারি।








