লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পূর্বঘোষিত সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আজকেও বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের পূর্বঘোষিত সমাবেশের কর্মসূচিকে বানচাল করতে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে, আশেপাশের সড়ক ও অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগরের থানায়-থানায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’
সারাদেশটাই যেন আওয়ামী লীগের তালুকদারিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘যখন তখন যেকোনও সময় আওয়ামী লীগ যেকোনও স্থানে সভা-সমাবেশ করতে পারে। অথচ বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষদের সেই অধিকার নেই। এদেশে শুধুমাত্র একজনেরই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে, তিনি হলেন শেখ হাসিনা।’ বাংলাদেশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক গণতন্ত্র চলছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একমাত্র শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের স্বাধীনতাই রয়েছে চরম পর্যায়ে। আর দুঃশাসনে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষরা সাব-হিউম্যান পর্যায়ে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ করবে বিএনপি
থার্টি ফার্স্টের রাতে ইনডোর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পুলিশের অনুমতি লাগবে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইংরেজি নববর্ষ (২০২০) উপলক্ষে থার্টি ফার্স্ট (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ইনডোর অনুষ্ঠানকে উৎসাহিত করা হলেও সেক্ষেত্রে পুলিশকে অবহিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত নিরাপত্তা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত উন্মুক্ত স্থানে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা বিধান করা একটু কঠিনই। এক্ষেত্রে ইনডোর অনুষ্ঠানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে ইনডোরের ক্ষেত্রেও পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নববর্ষ উদযাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যেকোনও ধরনের আশঙ্কা রোধে ঢাকা মহানগরীতে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে এবং প্রকাশ্যে স্থানে কোনও ধরনের জমায়েত, সমাবেশ, উৎসব করা যাবে না। এছাড়া, কোথাও কোনও ধরনের আতশবাজি-পটকা ফোটানো যাবে না।’ তিনি বলেন,‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ছয়টার পর স্টিকার ও পরিচয়পত্র ছাড়া বহিরাগত কোনও ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দিয়ে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ধ্যা ছয়টার পর ঢাকা মহানগরীর সব বার বন্ধ থাকবে। মাদকসেবনের বৈধতা ছাড়া কাউকে যেন পাঁচ তারকা হোটেলে অ্যালাউ না করা হয়, সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’ একইসঙ্গে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরনের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘এবার মাদক সেবন করে কেউ বেপরোয়া যানবাহন চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিএমপি। পাশাপাশি অ্যালকোহল টেস্টের জন্য গুলশান বনানী ও হাতিরঝিলসহ একাধিক এলাকায় কিটসহ পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করবে।’ সুষ্ঠু বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত স্থানে কোনও অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনুমতি কেন দেবে না পুলিশ— তা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত উন্মুক্ত স্থানে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা বিধান করা একটু কঠিনই। এক্ষেত্রে ইনডোরে অনুষ্ঠানে উৎসাহিত করা হলেও, ইনডোরের ক্ষেত্রেও পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’
এছাড়া, গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলি ক্রসিং এবং আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দিয়ে এ দুটি ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। একইভাবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যেসব নাগরিক বসবাস করেন না, তাদের ওইসব এলাকায় গমনের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে জানা তিনি। পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার রাত আটটার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’
বামজোট-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির একবছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে আজ সোমবার কালোদিবস পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এরই অংশ হিসেবে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জোটের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করেন। এ যাত্রায় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন হলেন—এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই আবদুল মালেক, পুলিশ সদস্য রফিকুল ইসলাম, আশিক, মনরঞ্জন ও ফয়সাল। আহত বাম নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন—গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, লিপি আক্তার, আরিফ, সুমিত, সজীব, রাশেদ, তমা, উজ্জ্বল, রিমি, নাঈম, ইরফান। মিছিল থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলটিতে বাধা দিতে প্রথমে পুলিশ কদম ফোয়ারার সামনে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এই ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হন জোটের নেতাকর্মীরা। তবে মৎস্য ভবনের সামনে দেওয়া ব্যারিকেড তারা ভাঙতে পারেননি। এ সময় ব্যারিকেড উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করেন নেতাকর্মীরা। তখন নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মৎস্য ভবনে বামজোট কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া ১০-১৫ জন বাম জোট নেতাকর্মীও মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
৭০ বারের মতো পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দিন ধার্য থাকলেও তা জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ কারণে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৭০ বার পেছানো হলো। সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আলোচিত এ হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।










