লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জাতীয় নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করে পুরোনো অনেক বাঘা-বাঘা মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে চমক নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দায়িত্বের প্রথম বছরে নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তাদের বেশ কয়েকজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি: বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অস্থির হয়ে ওঠা পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। নিজ দেশে উৎপাদন কম হওয়ায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। ফলে দুদিনের মধ্যে দেশের বাজারে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা ছাড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম। ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হতে থাকে ১০০ টাকার কাছাকাছি দরে। তখন বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সহনশীল পর্যায়ে আসবে। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে, পদত্যাগের আহ্বানসহ বিভিন্ন মহল থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গত ১৮ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন জানান, মিসর, তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। পরে কার্গো বিমানে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। গত ১৯ নভেম্বর কার্গো বিমানে ঢাকায় আসে পেঁয়াজের প্রথম চালান। কিন্তু তাতেও পেঁয়াজের মূল্যের লাগাম টানা যায়নি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের: গত ৩ মার্চ গভীর রাতে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এনজিওগ্রামের পর তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। তাকে হাসপাতালে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি। তখনও কাদের ছিলেন অচেতন। পরে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে একটি বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশে আসেন ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠি। দেবী শেঠির পরামর্শেই ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মন্ত্রীকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২০ মার্চ সেখানে তার বাইপাস সার্জারি করা হয়। প্রায় ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠেন কাদের। দীর্ঘ আড়াই মাসের চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে গত ১৫ মে দেশে ফিরেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের দালাল আইনে মামলা করা হয়েছিল তাদেরকে রাজাকার আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসাবে চিহ্নিত করে গত ১৫ ডিসেম্বর ১০ হাজার ৭৮৯ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই দিন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হতে থাকবে।’ কিন্তু রাজাকারের এ তালিকা প্রকাশের পর গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। যার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসলে তিনি এই তালিকা সংশোধন করে নতুন করে তা প্রকাশের নির্দেশনা দেন। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর রাজাকারের ওই তালিকা স্থগিত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ১৭ জনের প্রাণহানি ও অর্ধশতাধিক আহতের পর রেলের অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রেলমন্ত্রীর সমালোচনা শুরু হয়। গত ১২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চালকের গাফলতিকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তিনজনকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক: ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে সারা দেশে যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, ঠিক সে সময়েই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘বিতর্কিত’ বিদেশ সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। গত ২৮ জুলাই সপরিবারে মালয়েশিয়া যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ৪ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও, সমালোচনার মুখে সফর সংক্ষিপ্ত করে গত ৩১ জুলাই ঢাকায় ফেরেন তিনি। ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে জাহিদ মালেক কেন বিদেশ সফরে গেলেন তা নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ও প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল। ইউএনবি।
বছরজুড়ে আলোচনায় আ’লীগ সরকারের যে ৫ মন্ত্রী
২০২০ সাল বদলে দেবে যে ৬ স্মার্টফোন
প্রযুক্তির প্রায় সব কিছুই এখন স্মার্টফোনে। অফিস থেকে বিনোদন সঙ্গে জীবনযাপন। কি নেই স্মার্টফোনে। বদলে দিচ্ছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র। ২০২০ সালেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আসবে নতুনত্ব।নতুন বছরের অপেক্ষায় একগুচ্ছ স্মার্টফোন। জেনে নিতে পারেন ২০২০ সাল বদলে দেবে যে ৬ স্মার্টফোন –
হুয়াওয়ে পি ৪০

২০১৯ সাল হুয়াওয়ের জন্য তেমন সুখকর ছিল না। অনেক সংগ্রামের পর চীনে এখনও সেরা ফোন হুয়াওয়ে। সব কিছু ছাপিয়ে নতুন বছরে আসছে হুয়াওয়ের চমকপ্রদ নতুন স্মার্টফোন হুয়াওয়ে পি ৪০। এতে থাকছে Five Camera Lecia System। এছাড়া প্রধান ক্যামেরা হতে পারে ৬৪ মেগাপিক্সেলের।
অ্যাপল আইফোন ১২

আইফোন ১১ সিরিজ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছিল ৫জি পরিসেবা নিয়ে। অ্যাপল জানিয়েছিল, ২০১৯ সালে তাদের পক্ষে কোনো ৫জি ফোন উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই পরিসেবা নিয়ে নতুন বছরে ইউজারদের জন্য আসছে নতুন আইফোন। নতুন এই হ্যান্ডসেটে থাকবে চকচকে নতুন ডিজাইন। থাকছে না কোনো নচ, ওএলইডি ডিসপ্লে। নতুন বছরের প্রথম দিকেই তিনটি ফোন উন্মুক্ত করার চিন্তভাবনা রয়েছে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ১১

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই আসবে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ১১। এমন গুজবই শোনা যাচ্ছিল অনেক দিন। জানা গিয়েছিল, নতুন এই ফোনের ডিসপ্লের পাঞ্চ হোল আরও ক্ষুদ্রতর হতে চলছে। ঠিক যেমনটা এখন স্যামসাং নোট ১১ এর রয়েছে। ৫জি তো থাকছেই। তবে যাই হোক, নতুন চমক নিয়ে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ১১ আসতে পারে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই।
অপ্পো ফাইন্ড এক্স টু

পপ ক্যামেরা এনে অপ্পো ফাইন্ড এক্স স্মার্টফোনের আধুনিকীকরণের পথে হাঁটছিল অপ্পো। শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী স্মার্টফোনের জন্য এবার আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা আনতে চলেছে অপ্পো। নতুন অপ্পো ফাইন্ড এক্স টু স্মার্টফোনে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৬৫।
নোকিয়া ৮.২
বাজারে ৫জি হ্যান্ডসেট আনতে কিছুদিন আগে কোয়ালকমের সঙ্গে চুক্তি করেছে নোকিয়া। তখনই ঠিক হয়েছিল, নোকিয়ার নতুন স্মার্টফোনগুলোতে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন সিরিজের হার্ডওয়্যার থাকবে। শোনা যাচ্ছে, নতুন এই নোকিয়া ৮.২ হ্যান্ডসেটে কিছু চমকপ্রদ ফিচার থাকছে। স্ন্যাপড্রাগন ৮৬৫-এর পাশাপাশি আর কী ফিচার থাকছে তার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
শাওমি এমআই ১০

নতুন বছরে এমআই ১০ নিয়ে আসছে শাওমি। স্ন্যাপড্রাগন ৮৬৫ এর প্রথম ফোনও হতে চলেছে এটি। জানুয়ারিতেই চীনের বাজারে আসবে এই স্মার্টফোন। এরপরই হয়তো পাওয়া যাবে বাংলাদেশে। এই ফোনে থাকছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
ব্যাংকে নয়-ছয় সুদ হার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আগামী এপ্রিল মাস থেকে ব্যাংক আমানতে ৬ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। সোমবার সন্ধ্যায় ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি এবং এমডিদের সংগঠন এবিবির সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে বিএবির কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আমানতে ৬ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার চালু করার কথা ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনাকালে তিনি আরো কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজকে তাদের সাথে বৈঠক করেছি। এটি চালু করতে তারা আরো কিছুদিন সময় চেয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আরো দুই মাস সময় দিতে চেয়েছে। তারা আরো এক মাস সময় বেশি চেয়েছে। সব মিলিয় আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে এটি চালু করা যাবে।’ সুদহার শুধু মাত্র কার্ড বাদে সব জায়গায় প্রযোজ্য হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘এতে করে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হবে না। সরকারের যে আমনত আছে তার ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখা হবে। এটি করা হবে মূলধনের ভিত্তিতে। যার মূলধন বেশি, সে বেশি আমানত পাবে। এটি যাতে সবাই সঠিকভাবে পায়, তার নজরদারী করা হবে।’ আগামী এক দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
বছর শেষে বন্ধুকে সুস্মিতার ভালোবাসা, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি শেয়ার
লোকসমাজ ডেস্ক॥ বছর শেষে রোহমান শলকে যেন ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন বলিউড তারকা সুস্মিতা সেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ওই বন্ধুর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবিও শেয়ার করেন তিনি। যেখানে রোহমানকে বাবুস বলে সম্মোধন করতে দেখা যায় বাঙালি কন্যাকে।
শুধু সুস্মিতা নন, রোহমানও নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ছবি শেয়ার করেন। যেখানে সুস্মিতার সঙ্গে একেবারে একান্তে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে।
গত বছর দীপাবলি পার্টিতে প্রথম সুস্মিতা সেনের সঙ্গে দেখা যায় রোহমান শলকে। তবে প্রথমে পরিচয় না দিলেও, পরে নিজের বন্ধু হিসেবে রোহমানকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সুস্মিতা।
জানা যায়, রোহমানের প্রেমেই মজেছেন বলিউড অভিনেত্রী। রোহমান এবং দুই মেয়ে রিনি এবং আলিশাকে নিয়ে আপাতত নিজের ফ্ল্যাটেই থাকছেন সুস্মিতা। মাঝে মধ্যেই সেই ছবি প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
রেহমানের সঙ্গে সম্পর্কের পর সুস্মিতা সেন সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন বলে শোনা যায়। যদিও ১৪ বছরের ছোট বন্ধুর সঙ্গে কবে গাঁটছড়া বাঁধছেন সুস্মিতা, সে বিষয়ে বাঙালি-কন্যা স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
তবে এই মুহূর্তে রোহমানের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়ে ঘর বাঁধার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সুস্মিতা সেন।
উন্নয়নের ধারণা ও তার ব্যাপকতা
সালাহউদ্দিন বাবর
দেশের উন্নয়নের যে গতিধারা তাকে মসৃণ ও বাধামুক্ত রাখার জন্য যে আহ্বান সম্প্রতি এসেছে ক্ষমতাসীনদের হাইকমান্ড থেকে, সেখানে বলা হয়েছে- উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ প্রায় অর্ধশতাব্দী হলো স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ তেমন উন্নত হতে পারেনি। তাই উন্নয়ন নিয়ে এই আহ্বানের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে যেসব বাধা বিদ্যমান রয়েছে, তাকে চিহ্নিত করা এবং তার যথাযথ প্রতিবিধান করা তথা উদ্যোগী হওয়া জরুরি। আর তাহলেই কেবল এমন আহ্বান ফলপ্রসূ হতে পারে। উন্নয়নের ধারণা প্রকৃতপক্ষে একটি ব্যাপক এবং বিস্তৃত বিষয়। উন্নয়ন বলতে যদি নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বা বিশেষ কোনো প্রকল্পের মধ্যে ধরে রাখা হয়, তবে এই সীমাবদ্ধ চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উন্নয়নের ধারণায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে পুরো আর্থসামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন আনার এক সমন্বিত ভাবনাকে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে মানুষের নিছক কিছু বৈষয়িক আয়-উন্নতিকে একমাত্র উন্নয়নের সোপান হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এই স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য রাষ্ট্রে স্থপতিরা জনগণের অভিপ্রায় অভিব্যক্তির আলোকে নির্দিষ্ট করেছিলেন, আজকের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সেই বিষয়গুলো অবশ্যই সন্নিবেশিত হতে হবে। সেই সাথে একেও গুরুত্ব দিতে হবে, সমাজে যে ভিন্ন মত ও চেতনা রয়েছে; তারও সমন্বয় হওয়া দরকার। অর্থাৎ উন্নয়নের সাথে এই জনপদের সব মানুষের আকাক্সক্ষা-অনুভূতিকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। কেননা, উন্নয়ন হতে হবে সবার, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের নয়। উন্নয়নের মহৎ উদ্দেশ্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সেখানে কোনো বিতর্ক থাকবে না। যার অভাব এখন সমাজে বিরাজমান। উন্নয়নের ধারা চলমান রাখতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তন ঘটলেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কোনোভাবে রুদ্ধ না হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে রাজনৈতিক ও প্রজাতন্ত্রের নির্বাহীরা। এ দুই নির্বাহীদের বোধ-বিবেচনা এবং সততা-যোগ্যতা, সেই সাথে তাদের প্রতিশ্রুতি যুক্ত না হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কখনোই ত্বরান্বিত হবে না। তাই এ দুই শ্রেণীর নির্বাহীদের দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে বাছাই প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক নির্বাহীদের বাছাইয়ের একমাত্র পথ হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের বিবেচনায় যারা যোগ্য-দক্ষ এবং সৎ, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য বাছাই করবে। জনগণের এ প্রতিনিধিরা মানুষের কল্যাণের জন্যই নিবেদিতপ্রাণ হয়ে থাকবে। তারা যখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, তারা তখন স্বাভাবিকভাবেই জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ষোলআনা উজাড় করে জাতির জন্য কাজ করবে। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে, যে রাজনৈতিক নির্বাহীদের নিয়ে কথা হলো, তাদের বাছাই-প্রক্রিয়ায় যে শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রশ্নহীন নির্বাচনের বিষয়। অথচ গত দুটো সাধারণ নির্বাচন নিয়ে শুদ্ধতার প্রশ্ন আছে। দেশের মানুষের সত্যিকার অভিমত, সেসব নির্বাচনে প্রতিফলনের কোনো সুযোগ হয়নি। তাই এখন যারা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নির্বাহী, তাদের যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তাই এমন সব নির্বাহীর কাছ থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার ব্যাপারে কতটা আস্থা রাখা যেতে পারে। তা ছাড়া এরই মধ্যে এসব নির্বাহী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো দক্ষতা দেখাতে পারেননি। যাদের দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, তাদের নিষ্ঠা যোগ্যতার ক্ষেত্রে এমন ঘাটতি সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেজন্য এ বিষয়টি নিয়ে ভাবা এবং সামগ্রিক পরিবর্তন আনা তথা পুনরায় জনগণের কাছে যাওয়ার কথা ভাবা উচিত। আর প্রজাতন্ত্রের নির্বাহীরা তো রাষ্ট্রের কর্মে নিযুক্তি পাওয়ার আগে তাদের মেধা-যোগ্যতার যথাযথ পরীক্ষা দিয়ে থাকে। কিন্তু এই যোগ্যতাই সব নয়, তার সাথে যুক্ত হতে হবে নীতি-সততা ও প্রতিশ্রুতির। এসব গুণাবলির সমন্বয় ঘটলেই এই ব্যক্তিদের পক্ষে দেশের অগ্রগতির জন্য নিবেদিত হওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু এমন আদর্শিক অবস্থা কি দেশে বিরাজ করছে? পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে এই প্রশ্নের কোনো ইতিবাচক উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
নির্বাহীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলেও এখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা সরকারের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাদের মেধা-বুদ্ধি ব্যয় করছেন। এমন সব কর্মকর্তা দিয়ে কি আসলে প্রজাতন্ত্রের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে? রাজনৈতিক নির্বাহীদের পরিবর্তন ঘটতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী স্থায়ী। তাই দায়িত্ব পালনে তাদের গুরুত্ব সর্বাধিক। রাজনৈতিক নির্বাহীরা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের নির্বাহীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার মানদণ্ড হতে হবে দেশ ও দেশের স্বার্থে। দেশে এখন যে সুশাসন ও আইনের শাসনে ঘাটতি রয়েছে, তার দায়ভাগ রাজনৈতিক নির্বাহীদের পাশাপাশি এসব আমলার ঘাড়েও পড়বে। কেননা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভালো-মন্দ দেখা তাদের অন্যতম দায়িত্ব। আর সুশাসন কায়েম না হলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন বিঘœ হওয়াই স্বাভাবিক। জাতীয় উন্নয়নে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই। কিন্তু এর পাশাপাশি একটি সক্রিয় বিরোধী দলের গঠনমূলকভাবে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে তাদের সঠিক পথে রাখার দায়িত্বও তাদের। তবে আজ সমাজের যে বাস্তবতা, তাতে সেখানে সরকারের প্রতিপক্ষের জন্য ভূমিকা পালন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। সংসদে যে সাংবিধানিক বিরোধী দল রয়েছে, তারা যেহেতু ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী জোটের সহযোগী হিসেবে এখন পার্লামেন্টে রয়েছে; তাই সঙ্গত কারণেই তাদের পক্ষে সরকারের সমালোচকের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। সেজন্য সাংবিধানিক বিরোধী দল বলতে গেলে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। একাদশ সংসদের বয়স এখন এক বছর হয়ে গেছে, কিন্তু এ পর্যন্ত এই সভায় এখনো কোনো ভূমিকা এই বিরোধী দলটি রাখেনি; যার মাধ্যমে তাদের বিরোধী দল হিসেবে অবহিত করা যায়। অথচ এ সময়ের মধ্যে সরকারের বহু বিচ্যুতি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
এমন নির্জীব বিরোধী দলের কারণে যে জাতীয় সংসদ রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠার কথা, তা এই সভা হয়ে উঠতে পারেনি। অপর দিকে সংসদের বাইরে যে বিরোধী দল রয়েছে, তাদের প্রতি সরকারের মনোভাব এতটা বৈরী যে, সেগুলোকে তারা শত্রুজ্ঞান করে। এমনকি এসব দলকে তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমন সাপে-নেউলে সম্পর্কের কারণে বিরোধী দলের সৎ ও গঠনমূলক সমালোচনাও এখন শোনা হয় না। এটা অবশ্যই অহমিকার ব্যাপার। এমন বিবেচনা থেকে ক্ষমতাসীনরা কেবল মুদ্রার একটি পিঠই দেখতে পান। এমন নীতি অনুসরণের কারণে অবশ্যই জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, এমন অবস্থায় যদি সংসদীয় বিরোধী দল এবং এর বাইরে সংগঠনগুলোকে ভূমিকা রাখতে না দেয়া হয়; তবে তো দেশের সরকারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য গণতন্ত্রের কতটা প্রয়োজন সে বিষয়ে ওপরে কিঞ্চিৎ বর্ণনা করা হয়েছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমন মনে করেন, উন্নয়ন আর গণতন্ত্র পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলে, সেজন্য উভয় সম্পর্কযুক্ত। গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ বহুবিধ অধিকার ভোগের সুযোগ পায়, এসব অধিকার ভোগ করার অর্থই একটি উন্নত সমাজের নজির। আর গণতন্ত্র যদি ত্রুটিমুক্ত না হয়, তবে সমাজে মানুষের বহু মৌলিক অধিকার অপূর্ণ থেকে যায়। যে সমাজে গণতন্ত্র নেই, তার প্রশাসন নানা বাধাবিপত্তি সৃষ্টি করে এবং সেখানে ভিন্নমত পোষণ ও পৃথক পথ অনুসরণ করার কোনো সুযোগ থাকে না। আর ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে সৃষ্টি হয় কর্তৃত্ববাদিতা। গণতন্ত্রের প্রধান অনুশীলন নির্বাচন তখন রূপ নেয় প্রহসনে। মানুষের ইচ্ছা ও পছন্দ পদদলিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কর্মসূচিতে কখনোই সংযুক্ত হতে পারে না সব মানুষের আকাক্সক্ষা আর স্বপ্নের বিষয়টি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এ দেশে এখন সবার মতো করে কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণীত হচ্ছে না।
উন্নয়নের আরো একটি বিষয় দেশে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সুশাসন থাকা। শাসনব্যবস্থায় যদি নীতি-আদর্শ ও জবাবদিহিতার বালাই না থাকে, তবে উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি হতে বাধ্য। দেশে আজ দুর্নীতির যে বিস্তৃতি ঘটেছে এবং অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে; তার একটা উদাহরণ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। আর এ অভিযানে যেসব দুর্নীতিবাজকে চিহ্নিত ও পাকড়াও করা হয়েছে, তাদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত। সেজন্য দুর্নীতি নির্মূলের অভিযান ঘর থেকেই শুরু করা হয়েছে বটে। কিন্তু সে অভিযানের গতি এখন শ্লথ হয়ে পড়েছে। কোনো প্রশাসনের পক্ষে তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যখন কোনো প্রশাসন নীতিবোধ ও আদর্শের আলোকে পরিচালিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রের সংবিধানে এসব নীতি-আদর্শ নির্ধারিত করে রেখেছে। দেশে এখন সেই সুশাসনের ঘাটতি থাকার কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সেই নীতির বিচ্যুতি নিয়ে কোনো জবাবদিহিতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন চলে কেবল ব্যক্তির বোধ বিবেচনার পথ ধরে। আর যে প্রশাসন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয় না, তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অবদান রাখা কঠিন।
সুশাসনের পাশাপাশি আইনের শাসন যদি দেশে কার্যকর না হয় তাতেও উন্নয়ন বিঘিœত হবে। আইন প্রণীত হয়ে থাকে দেশের কল্যাণ তথা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। তাই সেসব আইন কার্যকর করার মাধ্যমে সমাজের শৃঙ্খলা বিধান হয়ে থাকে। সমাজে যদি অশান্তি-বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে তবে স্বাভাবিকভাবেই নাগরিকদের স্বস্তি বিনষ্ট হয়। অথচ একটি উন্নত দেশের প্রশাসনকে নাগরিকদের স্বস্তির জন্য উদ্যোগী হতে হয়। আইন অমান্য করে যেসব দুর্বৃত্ত শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাদের সেই অপকর্মের সমুচিত শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখন যে ভূমিকা তা কোনোভাবে মানুষের নিরাপত্তার অনুকূল নয়। শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে আইনই হবে তাদের পথচলার নির্দেশিকা। কিন্তু দেশে এই নীতি অনুসৃত হয় না, বরং ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্বাস ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হয়ে থাকে। অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল সমাজের শৃঙ্খলা নিশ্চিত হতে পারে। এমন শৃঙ্খলাই উন্নয়নের একটি অনিবার্য শর্ত। এই শর্ত পূরণ হলে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। আর তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। সমাজে যে বাহিনী এমন শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্বে রয়েছে, তাদের মধ্যে নীতিবোধের চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের এখন একটা সন্তুষ্টির ভাব বিরাজ করছে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এমন দাবি করছে যে, দেশে দারিদ্র্যের হার ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানে আশা প্রকাশ করা হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দরিদ্র। এমন বিরাটসংখ্যক মানুষের অবস্থার কথা বিবেচনায় নিলে উন্নয়নের দাবি কতটা যৌক্তিক। তা ছাড়া দেশের সব মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার নিয়ে বিবেচনার জন্য জাতীয় সংবিধান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই উন্নয়নের কথা এলে স্বাভাবিকভাবে এ বিষয়টি সামনে আসে যে, আজ দেশে এসবের কী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? সংবিধান দেশে সব প্রকার বৈষম্য দূর করার জন্য তাগিদ দিয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, যে দেশের ধনীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, সেই সাথে দরিদ্র মানুষের হারও বৃদ্ধির দিকে। এমন সমন্বয়হীনতা বজায় থাকার সাথে উন্নয়নের ধারণা কখনো সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না।
ndigantababor@gmail.com
‘নিজের চরকায় তেল দিন’: সেনাপ্রধানকে চিদাম্বরম
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভারতের নয়া নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় দেশটির সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা পি চিদাম্বরম। সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে সেনা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। এটি দেশের জন্য লজ্জার। এ খবর দিয়েছে ভারতের দ্য হিন্দু।
খবরে বলা হয়, উত্তর প্রদেশে আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন রাওয়াত। দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখছি যে, সহিংসতা ও অগ্নিকান্ডে মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। একে নেতৃত্ব বলে না।’ তিনি বলেন, প্রকৃত নেতারা মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিষয়ে সেনাপ্রধানের এ মন্তব্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিরোধী দলগুলো। কেউ কেউ তাকে তার সীমার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তবে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিজেপি নেতা ভিকে সিং এ বিষয়ে রাওয়াতকে সমর্থন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সবকিছুকেই রাজনীতির রঙ দেওয়া উচিত নয় বিরোধী দলগুলোর।
কেরালায় নিজের এলাকায় ‘সেভ ইন্ডিয়া সেভ কন্সটিটিউশন’ শীর্ষক পদযাত্রায় অংশ নিয়ে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা চিদাম্বরম বলেন, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার এখন সেনাবাহিনী ও রাজ্য পুলিশ প্রধানদের দিয়ে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করাচ্ছে, যা লজ্জাজনক। চিদাম্বরম বলেন, ‘আমি জেনারেল রাওয়াতকে বলছি। আপনি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আছেন। সুতরাং, নিজের চরকায় তেল দিন। রাজনীতিবিদরা যা করবে, তা রাজনীতিবিদরাই করবে। রাজনীতিবিদদের কী করা উচিত সেটা বলার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নয়। ঠিক যেমন, কীভাবে যুদ্ধ করা উচিত সেটা আপনাদের বাতলে দেওয়াটাও আমাদের কাজ নয়।’
এ সময় চিদাম্বরম বিজেপি সরকারের নাগরিকপঞ্জি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নাগরিকপঞ্জির কারণে ১৯ লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই আসামে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। এরপর আসবে নাগরিকত্ব আইন। আপনি যদি হিন্দু হন, আপনাকে ভারতে স্বাগত, আপনি নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু আপনি যদি বাসিন্দা সূত্রে মুসলিম নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে এই নতুন সংশোধিত আইনের কারণে আপনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীতে পরিণত হবেন।
তিনি বলেন, বিজেপির এই প্রগতিবিরোধী রাজনীতি ভারতকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ১১ই ডিসেম্বর পাস হওয়া নতুন এই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ চলছে ভারতে। গত তিন সপ্তাহে এই বিক্ষোভে মারা গেছে ২৫ জন। কেবল উত্তর প্রদেশেই মারা গেছেন ১৮ জন।
‘নিরপেক্ষ নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে’
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের নিরপেক্ষ নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশিক্ষণে ৪১ জন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অংশ নেন।
পিপিদের উদ্দেশে দুদকের কমিশনার বলেন, ‘দুদকের মামলা দায়ের থেকে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিজ্ঞ পিপিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আপনাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বহুমাত্রিক। কিন্তু তারপরও কিছু নেতিবাচক কথা শোনা যায়, যা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা মামলা সৃষ্টি করে তা বিচার নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব অপনাদের হাতে অর্পণ করি। আপনারা মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই নিরপেক্ষ নন, আপনারা দুদকের সক্রিয় পক্ষ।’ তিনি বলেন, কমিশনের মামলায় যেন কমিশনের স্বার্থ অর্থাৎ রাষ্ট্রের স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে আপনারা সক্রিয় থাকবেন। আমরা নিরপেক্ষ নই, আমরা দুর্নীতিপরায়নদের বিপক্ষে। আপনাদেরকেও দুর্নীতিপরায়নদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। মোজাম্মেল হক খান বলেন, কমিশনে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো কটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। ক্রমান্বয়ে সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। আজ অনেকেই বলছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুদক অধিকতর সক্রিয় ও সক্ষম। কমিশনের এই সক্রিয়তা ক্রমাগত বিস্তৃত ও বিকশিত করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের পেশা ও শ্রেণিভেদে মানুষের মধ্যে উদারতার কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা শুধু নিজেদের নিয়েই গর্ব করি, অন্যদের কাজের সাফল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ম্রিয়মাণ থাকি। তাই আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অন্যের সৎ কাজের প্রতি সমর্থন, সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশের স্বার্থে সর্বস্তরের মানুষের বিশেষ করে অংশীজনদের সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমেই দুর্নীতির মতো অনৈতিকতার করাল গ্রাস থেকে সবাইকে রক্ষা করতে হবে। দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্তের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল, পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা, দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল প্রমুখ।
যে কোনো সময় আন্দোলন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যে কোনো সময় সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সে জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। গত বছরে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে ‘গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলন’ মঞ্চের ব্যনারে সমাবেশ করছেন কয়েকটি বিরোধী দলের নেতারা। সোমবার রাজধানীর মৎস্যভবনের সামনে ট্রাকের উপর মঞ্চ বানিয়ে এ সমাবেশ করেন তারা। সেই মঞ্চ থেকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, ‘এই সরকার লুটপাট করে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। এতো কিছুর পরেও তারা বলে আমরা লুটপাট করি না। এতো সুন্দর করে বলে যে, শুনলে হাসি পায়। তাদের বক্তব্য শুনলে ক্লাস ওয়ানের বাচ্চারাও টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।’ পৃথিবীর সব জায়গায় ভোট চুরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ভোট ডাকাতি হয়েছে। সারা পৃথিবীতে ভোট হয় দিনের বেলা। আর বাংলাদেশে ভোট নিয়ে গেছে রাতের বেলা। দুনিয়ার সব জায়গায় ভোটের দিন ভোট হয়, আর বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা আগেই ভোট হয়।’
সরকারকে পদত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানিয়ে রব বলেন, ‘আপনারা তো যাবেনই। তবে ভদ্রভাবে যাবেন না, অভদ্রভাবে যাবেন সেটা ডিসাইড করেন। যেতে হবে। আপনাদের আর থাকার কোনো সুযোগ নাই। সব রাস্তা বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে। তবে কীভাবে যাবেন সেটার সিদ্ধান্ত নেন।’ সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘একটু হিসাব করেই মাঠে নামছি আমরা। আমি কারো নামে সমালোচনা করি না, কে কতো বড় নেতা, কে কোন দলে, আমি এগুলো বলি না। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যেটুকু কাজ সেটাই করতে হবে। আপনারা সবাই তৈরি থাকেন, যে কোনো সময় এই সরকারের পতনের জন্য মাঠে নামতে হবে। যে কোনো সময় আমরা এই সরকারের পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি দেব। প্রতিজ্ঞা একটাই। আমরা আন্দোলন করব। আজ থেকে আমাদের এই আন্দোলন শুরু। আজ থেকেই লড়াই শুরু। এই লড়াই চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয় অর্জিত হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই জানি, এই দিনে আমাদের দেশে কী হয়েছিল। মানুষ চুরি করে, বাংলাদেশের শাসকরাও চুরি করে। কিন্তু এই দেশের ১৬ কোটি মানুষকে বন্দী করে ভোট চুরির মহোৎসব বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কখনো দেখে নাই। আমাদের জন্য একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল যেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই। ‘আমরা ২০১৪ সালে দেখেছি রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৮ সনে আমরা দেখলাম ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। আমার আশঙ্কা হয় আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেটা মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র দিয়ে চুরি করা হবে। আমরা দেখছি প্রত্যেক সপ্তাহে ক্ষমতাশীন দল সভা সমাবেশ করে। কিন্তু কোনদিন কি শুনেছেন বা দেখেছেন পুলিশের অনুমতি নিয়ে তারা কর্মসূচি করেছে? ‘বিরোধী দল কোথাও কোনো সভা সমাবেশ করতে হলে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। পুলিশের কাছ থেকে কেন অনুমতি নিতে হবে? এই প্রশ্ন তোলার মতো ব্যবস্থা আমাদের দেশের আইন আদালতের মধ্যে নাই। আজকে আমরা একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি। আমি চাই আমার ভোট দিতে, আমি আমার গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।” সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি নূর হোসেন কাসেমী, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট ফজলুর রহমান, শওকত মাহমদু, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম প্রমূখ।
খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে গণতন্ত্রের মুক্তি অসম্ভব : ডা. জাফরুল্লাহ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি প্রায় অসম্ভব। তবে তাকে মুক্তি করার দায়িত্ব তো আমাদেরই। এজন্য শুধু হলে বসে বক্তৃতা দিয়ে নয়, মাঠে যেতে হবে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার কোন পথে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল (এনএলসি) আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও লেখক ও কলামিস্ট গোলাম মওলা রনি। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এম আমিনুল ইসলাম মনির ও হেমায়ত উদ্দীন বাদশাহর যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আইনজীবী মনির হোসেন, মো: মোসলেম উদ্দীন, সাইফুর রহমান, বাবর ব্যাপারী, সাইদ হাসান বখতিয়ার, জাকারিয়া মোল্লা, ড. হামিদুর রহমান রাশেদ, এ কে এম মোক্তার হোসেন প্রমুখ।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ চলছে অহি দ্বারা। বিচার বিভাগের বিচারপতিরা আমাদের বিবেক, জাতির একমাত্র আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা। সেখানে তারা একটি জামিনের মামলা শুনতে সাহস পান না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের প্রায় এক লাখ কর্মী বর্তমানে জামিনে আছেন। পাটকল শ্রমিকরা যেমন এই শীতের মাঝেও কম্বল গায়ে বসে আছেন আপনারাও অনন্ত দুটো দিন হাইকোর্টের মাঠে বসে থাকুন না, দেখুন কিভাবে আমাদের বিচারপতিদের বুকে সাহস আছে কিনা, তারা (বিচারপতিরা) ন্যায়ের জন্য দাঁড়ায় কিনা, তাদের (বিচারপতি) মনে এক মূহূর্তের জন্য জাগে কিনা এই জনতার মঞ্চে তাদের (বিচারপতিদের) বিচার হবে।’
ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, সন্ত্রাসী ও প্রশাসন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে একত্রে কাজ করেছে। ডিসি, টিএসও, ওসি ও সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তারা একযোগে ভোট চুরি করেছে। এটা কি গণতন্ত্রের বিজয়। আওয়ামী লীগ আজ জনগণ থেকে অনেক দূরে। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলে দেশের গণতন্ত্রও জেলে। আমরা বিচারাঙ্গনে বিচার পাচ্ছি না। আইনজীবীরা মানবিক কারণে জামিন চেয়েও খালেদা জিয়ার জামিন পাননি। তিনি আরো বলেন, আমরা জনগণের পালস বুঝতে পারছি না। আমরা এখন রাজপথে আন্দোলন চাই।
শীতে উষ্ণতা বাড়াতে, রোগ নিরাময়ে মধু!
লোকসমাজ ডেস্ক॥ শীতে শরীরের উষ্ণতা বাড়াতে সহায়তা করে মধু। মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী একটি খাদ্য। দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে উষ্ণতা বাড়ায় মধু। এছাড়া মধুতে রয়েছে রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা।
জেনে নিন শীতে মধু যে উপকারগুলো করে
শীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগে সর্দি-কাশিতে। তাই কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশির প্রকোপ কমবে। প্রতিদিন এক চামচ আদার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে দ্রুত আরোগ্য হবে খুসখুসে কাশির সমস্যা ।
শীতে পোড়া ও কাটাছেড়া সহজে ভাল হয় না। মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। কোথাও পুড়ে বা কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দিয়ে দিন। ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে।
শীতে পিঠা-পায়েশের সঙ্গে নানা খাবারের স্বাদ যায় বেড়ে, তাই খাওয়ার পরিমাণও যায় বেড়ে। তখন অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
শীত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ত্বকের। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান, যা ছত্রাক ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ত্বককে দ্রুত ভালো হতে সাহায্য করে। চর্মরোগ হলে নিয়মিত আক্রান্ত স্থানে মধু লাগান। এক চামচ মধুর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করুন।
ঠাণ্ডায় অনেকের শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়। এরকম সমস্যায় মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশ কার্যকরী। চা কিংবা উষ্ণ পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে উপকার পাবেন।
শীতে অনেকের ঠোঁট ফেটে যায়। রাতে ঘুমের পূর্বে নিয়মিত ঠোঁটে মধুর প্রলেপ লাগালে ঠোঁটের ওপরের শুষ্ক ত্বক দূর করতে সহায়তা করে। এর ফলে ঠোঁট থাকে নরম, তখন ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। আবার ঠোঁটের সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পায়।










