লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মানুষকে অপমান করার ওপর লাগাম টানুন এবং কীভাবে বিবাদমান না হয়েই দ্বিমত পোষণ করবেন সে সম্পর্কে কিছু টিপস জেনে নিন।
১. আপনার একমত হতে হবে না
আমরা সব বিষয়ে একমত হই না এবং যদি সব সময় ওই বিষয়ে আমাদের দ্বিমত থাকে, সেটাও পুরোপুরি ঠিক আছে। আমরা যদি চিন্তা-ভাবনার স্বাধীনতাকে ভালবাসি তাহলে আমাদের এমন মানুষদের দরকার যারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
২. মাঝামাঝি কোন মতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবেন না
কোন ঝগড়াঝাঁটি ছাড়া দ্বিমত পোষণ করার জন্য যে সমঝোতাই করতে হবে, বিষয়টা এমন নয়। কখনও মাঝামাঝি কোন মতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবেন না- যখন আপনি কোন বিষয়ে মৌলিকভাবে একমত হতে পারছেন না তখন মতপার্থক্যকে আলাদা করা কোন সমাধান নয়। বরং, একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয় – তাই পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞতা, আবেগ বা প্রত্যাশা ভাগ করে নেওয়াই ভাল।
৩. আপনি কি বলছেন, তার চেয়ে জরুরি আপনি কীভাবে বলছেন:
আপনি কোন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন তার চাইতে অনেক বেশি জরুরি আপনি সেই বিষয়টি নিয়ে কীভাবে কথা বলছেন। যদি আমরা এমনভাবে কথা বলি যার মাধ্যমে একজন আরেকজনকে সবসময় বাদ দিয়ে দিচ্ছি, ছোট করে ফেলছি তাহলে কথা বলার এই বিষয়গুলো অপ্রাসঙ্গিক।
৪. সত্য কথা বলুন
ঘনিষ্ঠতা অর্জনের জন্য, অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। যার সাথে আপনার মতের মিল নেই তার সাথেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকুন। সম্পূর্ণ সৎ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সৎ ও খোলামেলা কথোপকথন কখনও কখনও অনেক নির্মম ও অস্বস্তিকর হলেও এটা করতে হবে, অন্যথায়, আপনি কেবল একটা জায়গায় আটকে থাকবেন। সত্য কথা বলুন। সভ্যতা, সৌজন্যতা বা শিষ্টাচার ভাল, তবে প্রচণ্ড সততা এর চাইতে শক্তিশালী ভিত্তি।
৫. মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করুন
সৎ কথোপকথন মানে সত্য কথা বলা এবং অপরজন কি বলছে সেটা আন্তরিকভাবে শোনা। আমাদের কৌতূহলী হতে হবে, খোলামেলা হতে হবে এবং সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আপনি আপনার প্রতিপক্ষের জুতোয় নিজেকে দাঁড় করাতে পারেন এবং তার মতো করে বিষয়গুলো দেখতে পারেন।
৬. বাকবিতণ্ডা কমিয়ে দিন এবং অপমানে লাগাম টানুন
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষকে তাৎক্ষণিক অপমান করা খুব সহজ করে দিয়েছে। এই হিংসাত্মক ভাষাগুলো বাস্তব দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। ঘৃণা দেখানোর ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার প্রতিপক্ষের ধারণার চাইতে তার পরিচয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, এটি দ্বিমত পোষণ করার সবচেয়ে ক্ষতিকর উপায়। এটি কেবল অপ্রীতিকরই নয়, এটি গভীরভাবে অকার্যকরও বটে। বাকবিতণ্ডায় জড়ানো কমিয়ে ফেলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজনীতিবিদদের টিটকারির মুখে পড়ে আমরা এমন মানুষ হয়ে উঠছি যা আমরা হতে চাই না। এমন হওয়া বন্ধ করুন। এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
৭. সত্য এবং মতামতের মধ্যে পার্থক্য বুঝুন
আমাদের মতামত হল যার যার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি যা প্রমাণের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয় – এই মতামত কেবল আমাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তাক করা নয়।
কোথাও মতামত দেয়ার আগে সব সময় বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শের সন্ধান করুন।
৮. যান, ঝামেলা খুঁজে বের করুন
যেকোন ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে, মতবিরোধের সন্ধান করুন। আপনি যদি দ্বিমত প্রকাশের ক্ষেত্রে পটু না হন, তাহলে হয়তো আপনার বন্ধুচক্র এতোটা বিস্তৃত এবং বৈচিত্রময় নয়। যান, কাউকে খুঁজে বের করুন। তার কথা সমবেদনা সহকারে শুনুন, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি তার সঙ্গে শেয়ার করুন এবং ভালবাসা প্রকাশ করুন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বিবাদে না জড়িয়ে যেভাবে দ্বিমত প্রকাশ করবেন
জেনে নিন চুলে তেল দেয়ার সঠিক নিয়ম
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ শরীরের মতো চুলেরও পুষ্টির প্রয়োজন আছে। সঠিক পুষ্টি ও পরিচর্যা না পেলে চুল লম্বা, শক্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে না। আর এ জন্য নিয়ম করে চুলে তেল দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই তেলকে কার্যকরী করার জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে তেল লাগানো। হ্যাঁ, তেল দেয়ারও কিছু নিয়ম আছে। তেলের সম্পূর্ণ পুষ্টি পেতে জেনে নেই সেই ধাপগুলো।
১। চুলে তেল দেয়ার আগে তেল কিছুটা গরম করে নিন। কুসুম গরম তেল মাথার তালুতে ব্যবহার করুন। এটি মাথার তালুতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
২। সাধারণ নারকেল তেলের সাথে কয়েকটি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। নতুন চুল গজানোর জন্য ক্যাস্টর অয়েল, রিল্যাক্সের জন্য ল্যাভেন্ডার অয়েল মেশাতে পারেন।
৩। তেলটি হালকা হাতে চুলে ম্যাসাজ করুন। খুব বেশি জোড়ে তেল মাথায় ম্যাসাজ করবেন না এতে চুল আরও বেশি জট বেঁধে যাবে আর চুল ছিঁড়ে যাবে।
৪। তেল দেয়ার পর ভালোভাবে চুল আঁচড়ে বেঁধে নিন। তবে খুব বেশি টাইট করে চুল বাঁধবেন না। এতে আগা ফেটে যায়। কিছুটা ঢিলে করে বেনী করে নিন।
৫। সাধারণত সবাই চুল তেল দেওয়ার পর আঁচড়ে থাকেন। কিন্তু তেল দেয়ার আগে চুল আঁচড়ানো ভালো। তাই তেল দেয়ার আগে চুল আঁচড়ে নিন।
৬। তেল দেয়ার পর কমপক্ষে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় তেল সারারাত মাথায় রাখুন। পরের দিন শ্যাম্পু করে ফেলুন।
সূত্র: বোল্ডস্কাই
২৫ বছরের যুবকের সঙ্গে প্রেম করছেন ৬১ বছরের ম্যাডোনা!
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ হলিউডের জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা ম্যাডোনার সঙ্গে এবার জড়াল বছর ২৫ বছরের উইলিয়ামসের নাম। জানা গেছে, ৬১ বছরের মার্কিন পপ তারকা ম্যাডোনা নাকি সম্পর্কে জড়িয়েছেন বছর ২৫ বছরের আহমালিক ইউলিয়ামসের সঙ্গে। ডেইলি মেলের খবর অনুযায়ী, ইউলিয়ামসের বাবা ড্রিউকে ইতিমধ্যেই ম্যাডোনা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের প্রতি ভালবাসার কথা। সিনিয়র ইউলিয়ামস এবং তাঁর স্ত্রীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে, তাদের ছেলের প্রতি ভালবাসার কথা জানিয়েছেন ম্যাডোনা।
ড্রিউ জানিয়েছেন, ম্যাডোনা তাঁর চেয়ে যেমন বয়সে বড়, তেমনি তাঁর স্ত্রীও বয়সে ছোট ম্যাডোনার চেয়ে। যদিও সিনিয়র ইউলিয়ামস এবং তার স্ত্রীর কোনও আপত্তি নেই এই সম্পর্কে। তাঁর ছেলের চেয়ে ম্যাডোনা ৩৬ বছরের বড় হলেও, মার্কিন পপ তারকার সঙ্গে তাঁর ছেলের সম্পর্কে উইলিয়ামসরা বেশ খুশি বলেই জানিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, ২০২০ সালে লন্ডন এবং ফ্রান্সে মার্কিন পপ তারকা ম্যাডোনার যে শো রয়েছে সেখানেও তাঁর ভালবাসার মানুষের বাবা, মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ম্যাডোনা।
সাইফ তুমি বিশ্বাসঘাতক, আগেও ঠকিয়েছ : কাজল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বলিউডে নতুন বছরের শুরুতেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘তানাজি’। শেষ সময়ে উঠেপড়ে ছবির প্রমোশনে ব্যস্ত অজয় দেবগণ ও কাজল। তবে প্রচারে কোথাও দেখা যাচ্ছে না সাইফ আলী খানকে। আর এতেই চটে গেলেন অজয়ের স্ত্রী, বললেন- সাইফ তুমি বিশ্বাসঘাতক, আগেও ঠকিয়েছ! সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, এর আগেও তুমি এমনটা করেছ। আর, আজ ঠিক সেই কাজই করলে। বিশ্বাসঘাতক! হঠাৎ কী হল কাজল এবং সাইফের মধ্যে? পুরো বিষয়টি অভিনেত্রী নিজেই খোলাসা করেছেন। আসলে ১০ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে ‘তানাজি’। ওই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন অজয়, কাজল এবং সাইফ। কিন্তু মাঝপথেই ছবির প্রচার ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে রওনা দেন সাইফ। আর এতেই বিরক্ত কাজল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘তুমি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে। যেমনটা করেছিলে ‘ওমকারা’ ছবির সময়ে। আশা করব, সুইজারল্যান্ডে বসে তুমি এই খবরটি পড়বে।’ তবে প্রমোশনকে পেছনে ফেলে নবাব বেগমকে নিয়ে ছুটি কাটাতে ব্যস্ত আছেন। আপাতত বরফের দেশে আনন্দ করছেন সাইফ-করিনা সঙ্গে রয়েছে তৈমুরও। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।
এবার সম্পর্কে জড়াল আরবাজ-মালাইকার ছেলে আরহান
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মডেল অভিনেত্রী ওয়ালুসা ডিসুজার মেয়ের সঙ্গে ডেট করছে আরবাজ খান ও মালাইকা অরোরার ছেলে আরহান খান? সম্প্রতি এমন খবরই শোনা যাচ্ছে। বলিউড শাদির খবর অনুয়ায়ী, আরহান নাকি বর্তমানে ওয়ালুসা ডিসুজা এবং মার্ক রবিনসনের মেয়ে চ্যানেল রবিনসনের সঙ্গে ডেট করছে। আরহানের জন্মদিনের পার্টিতেও নাকি হাজির হয় চ্যানেল। শুধু তাই নয়, মুম্বাইয়ের বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় মাঝে মধ্যেই বান্ধবীর সঙ্গে দেখা যায় আরহান খানকে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি আরবাজ খান বা মালাইকা অরোরার কেউই। বি টাউনের খবর, আরহানের জন্মদিনের পার্টিতে অর্জুন এবং মালাইকার হাজিরাতেই নাকি বান্ধবীকে নিয়ে হাজির হন আরহান।
সম্প্রতি আরহানের ১৭ বছরের জন্মদিন পালন করেন মালাইকা অরোরা। যেখানে আরহানের ছোটবেলার ছবি শেয়ার করেন বলিউডের ছাইয়া ছাইয়া গার্ল। অন্যদিকে, আরবাজ খান সম্প্রতি আরহানের দায়িত্ব নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ১৮ বছরে পড়লে আরহান নিজেই ঠিক করবে, বাবা না মায়ের সঙ্গে থাকবে। অর্থাৎ মালাইকার সঙ্গে বিচ্ছেদের সময় আরহানের বয়স কম থাকায়, তাকে মায়ের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ১৮ বছরে পড়লে আরহান কার কাছে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার উপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন সালমান খানের ভাই আরবাজ খান।
আশা পূরণ হল না ক্যাটরিনার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। সিনেমার কাজের দিক থেকে এই অভিনেত্রীর ২০১৯ সাল ভালোই কেটেছে। এ বছর মুক্তি পাওয়া তার ভারত সিনেমাটি বক্স অফিস হিট। পাশাপাশি একটি সিনেমার শুটিং করছেন তিনি। বছরের শুরুতে ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। সেখানে তিনটি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তিনি, যেগুলো এই বছর পূরণ করতে চান। ২০১৯ সালে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস ও একজন বয়ফ্রেন্ড চেয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু তার আশাগুলো অপূর্ণই থেকে গেছে। এর মধ্যে জিরো সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেও সেরার পুরস্কার পাননি। অন্যদিকে নিজের প্রোডাকশন হাউস খোলার পরিকল্পনা করলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেননি। তবে নিজের কসমেটিকস ব্র্যান্ড চালু করেছেন ক্যাটরিনা। এছাড়া তার বয়ফ্রেন্ড বানানোর ইচ্ছাও অপূর্ণই রয়ে গেছে। যদিও বছরের শেষ দিকে এসে অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমাখ্যাত এই অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন বেশ জোরে-সোরেই শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ক্যাটরিনা। এর আগে রণবীর কাপুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন ক্যাটরিনা। তবে কয়েক বছর হলো তাদের ব্রেকআপ হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গেও এই অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও তা গুঞ্জন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে সূর্যবংশী সিনেমার শুটিং করছেন ক্যাটরিনা। এতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। ২০২০ সালে এই সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে।
বিগত বছর ছিল ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর: মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিগত বছরটি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরটি ছিল গণতন্ত্র হত্যার বছর। মানুষের অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার এবং ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর।’ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার কবরে ফুল দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। নতুন বছরের প্রত্যাশা এবং পুরনো বছরকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবছরটা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানো হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা সবসময়ই নতুন বছরে নতুন করে ভাবতে চাই। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চাই এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এরপরও বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে। জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটাকে আমরা উপলক্ষ হিসেবে নিয়েছি।’ ছাত্রদলের ঐতিহ্য রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘ঐতিহ্য ও ছাত্র আন্দোলনকে সমুন্নত রেখে ছাত্রদলের নেতৃত্বে এদেশে গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রদল তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে।’ খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাকে ন্যূনতম আইনগত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে মুক্ত করার জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে ছাত্রদল। সে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্র জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সক্ষম হবে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল কাজ করবে বলেও আশা মির্জা ফখরুলের। এসময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
এবার চোখ পঞ্চম সমুদ্রবন্দরে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ীর পর এবার মিরসরাইয়ে দেশের পঞ্চম সমুদ্রবন্দর নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনী ও সীতাকু- এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরকে ঘিরে এ বন্দরটি হবে। কয়েক বছর ধরে এই শিল্পনগর ঘিরে একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে সরকারের মধ্যে। আলোচনার টেবিল থেকে এবার বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রস্তাবিত এই সমুদ্রবন্দর। সূত্রগুলো জানায়, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বডির সভা হয়। ওই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের মাস্টারপ্ল্যান বিষয়ে আলোচনায় মিরসরাইয়ে একটি সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাবিত বন্দরের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই সভার যে কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে, সেখানেও মিরসরাই সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেজার কর্মকর্তারা জানান, এই সমুদ্রবন্দর নির্মাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে গঠিত শিল্পজোটের (কনসোর্টিয়াম) সঙ্গে চুক্তি করেছে বেজা। জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সজিত করপোরেশন, বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক এবং জাপান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট সম্মিলিতভাবে বন্দর স্থাপনের এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ওই কনসোর্টিয়াম ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বন্দরটি এমনভাবে গড়ে তুলবে, যেখানে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারবে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে ৪০ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে বলে কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেজা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে তোলা এই শিল্পনগরে এরই মধ্যে ভূমি ইজারা পেয়েছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তাদের ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ করতে চায় বসুন্ধরা, পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম, ঝেজিয়াং, কুনমিংসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বড় শিল্প গ্রুপ। এসব শিল্প গ্রুপের কারখানা থেকে যেসব পণ্য উৎপাদিত হবে, সেগুলো দেশ-বিদেশে রপ্তানির জন্য কাছাকাছি একটি সমুদ্রবন্দর দরকার। সূত্রগুলো জানায়, শিল্পনগর ঘিরে জেটি উন্নয়নের ফলে ভারী মালামাল আমদানির গতিশীলতা সহজতর হবে, যা চট্টগ্রাম বন্দরে মাল খালাসে দীর্ঘ সময়ের সংকট কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শিল্পপার্ক এবং জেটি স্থাপনের ফলে এলপিজি, এলএনজি এবং এইচএফও স্টোরেজ সুবিধার পথও সুগম হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ঘিরে প্রাথমিকভাবে সমুদ্র উপকূলে ওয়াটার ফ্রন্ট জেটি গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কোম্পানি। তারা জানিয়েছে, এটি পরে বন্দরে রূপ নেবে। বন্দর জেটি নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক)। জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম এই শিল্পনগর ঘিরে বন্দর গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে চবক। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এ চাপ হ্রাস করার জন্য হলেও মিরসরাই এলাকায় সমুদ্র উপকূলে নতুন আরেকটি বন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্দরের যোগাযোগ সুবিধা সম্পর্কে বলা হয়, প্রস্তাবিত বন্দর এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনবিশিষ্ট মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকায় যোগাযোগ খুবই সহজ হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থাকায় সড়ক ও রেলপথে সারা দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ করা যাবে। প্রস্তাবিত এলাকায় বন্দর নির্মাণ করা হলে দেশীয় লাইটারেজ জাহাজ এবং বিদেশি বড় জাহাজ ওই এলাকায় বার্থিং করার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের চাপ কমে যাবে। সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে এবং বেকারত্ব কমে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট এবং এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে।
কি ধরনের দল করি আমরা, মেজর হাফিজের প্রশ্ন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কি ধরনের দল করি আমরা!’ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিএনপির ৩০০ প্রার্থীকেই দলের পক্ষ থেকে ডেকে হারার কারণ জানতে চাওয়া হয় না। কিন্তু কই, নির্বাচনের পর তো আমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করে নাই, ‘কি হয়েছিল তোমাদের সাথে?’ আমি নিজে প্রার্থী ছিলাম, গত নির্বাচনে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। নিজের ভোটটা পর্যন্ত দিতে পারিনি। দুইদিন অবরুদ্ধ ছিলাম। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং স্বাধীনতার ৪৯ বছর প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, বিএনপির কর্মীরা অনেক নির্যাতিত। বিএনপির মহিলা কর্মীদেরকে পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। সুতরাং আজকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নেতার ডাকের অপেক্ষায় না থেকে রাজপথে নেমে এই জালিম সরকারকে বিদায় করতে হবে। তাহলে এই দেশ ১৯৭১ সালের মতো ফিরে পাবে নিজের মর্যাদা।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জেএসডি বিএনপির তুলনায় অনেক ছোট দল। তারা যে কাউন্সিল মিটিংটা করেছে। ইমপ্রেস ইট, এটা আমার সোজা কথা। তারা যদি করতে পারে, বিএনপি কি আজকে ইমারজেন্সি করতে পারে না? সে জন্য বলছি, তারেক নিশ্চয়ই তুমি একদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবা। তবে তুমি হতে চাও কিনা? চাটুকারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকলে কোনো দিনও সম্ভব না। চাটুকারিতা ভাল লাগলেও, তবে সাবধান থাকতে হয়। আজকে দূরে থেকে এখানকার আন্দোলন করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, ‘আজকে না হয় বিএনপির ১ লাখ লোক জামিনে আছে। তাদেরকে ডাক দেন, তারা দুই দিনের জন্য হাইকোর্টের সামনের প্রাঙ্গণে এসে বসে থাকুক। এর মধ্যে খোদার তখত তো নড়ে যাবে, আর হাসিনা তো উড়ে যাবে।’
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা হলো, যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই, মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্র সবকিছুর অবসান চাই, দেশের গণতন্ত্র চাই, সংসদ বাতিল চাই, সরকারের পদত্যাগ চাই, নতুন নির্বাচন চাই তাহলে আন্দোলন এখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে শুরু করতে হবে। এবং এই আন্দোলনকে সমগ্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। যদি কালকে না পারি, তাহলে পরশু পারব। পরশুদিন না পারলে, তিনদিন পরে পারব। তিনদিন পরে না, পারলে ৩০ দিন পরে পারব। কিন্তু আমাদের পারতেই হবে। কারণ, আমাদের অস্তিত্বের জন্যই এই লড়াই।
বর্ণিল আয়োজনে মালয়েশিয়ায় নতুন বছরকে বরণ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর বর্ষপরিক্রমায় যুক্ত হল আরেকটি পালক। নতুন একটি বর্ষে পদার্পণ করল এই অধরা। দিনে দিনে বর্ষ শেষ হয়ে এলো। ইতিহাসের পাতায় যোগ হল আরও একটি বছর-২০১৯। সম্ভাবনার অপার বারতা নিয়ে শুরু হল নতুন বছর। স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ স্বাগত ২০২০।
থার্টি ফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত। ওই দিন রাত ১২ টার পর পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে সূচনা হয় নতুন বছরের। যা ইংরেজি নববর্ষ নামে পরিচিত। পুরো বিশ্বে ঘটা করে পালন করা হয় ইংরেজি নববর্ষকে। তেমনি পর্যটন নগরী মালয়েশিয়ার আকাশেও স্থানীয় মধ্যরাতে জ্বলে উঠল আতশবাজির বর্ণিল আলোকচ্ছটা। সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে উন্মোচিত এই জমকালো আতশবাজির খেলা উপভোগ করতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগরী আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতীক মিনারা কেএলসিসি ও দাতারান মারদেকা স্কয়ারে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল। স্থানীয় মালয়েশিয়ান ও বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতও ছিল চোখে পড়ার মত।
গেল ক্রিসমাস ডে, নিউ ইয়ার ও আগত চায়নিজ নিউ ইয়ারকে সামনে রেখে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ আশপাশের শহর গুলো আগে থেকেই সাজানো হয়েছিল অপরূপ সাজে। বিকাল হতেই মালয়েশিয়ানরা পরিবার, পরিজন নিয়ে ছুটে যান মারদেকা স্কয়ার ও টুইন টাওয়ার সংলগ্ন মাঠে। মাঠ পেরিয়ে জনস্রোত গিয়ে ঠেকে মাঠ সংলগ্ন আশপাশের সড়ক গুলোতে। বিকাল থেকেই সেখানে তৈরি করা মুক্ত মঞ্চ গুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন মালয়েশিয়ার নামী দামী ব্যান্ড ও সঙ্গীত শিল্পীরা, সুরের মূর্ছনায় সবাই হারিয়ে যায় যেন এক অজানায়।
পাশাপাশি কুয়ালালামপুরের হার্ট খ্যাত বুকিট বিন্তাং এর বার, ক্লাব গুলো ছাড়াও পাশের সড়ক গুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।নতুন বরণ উপলক্ষে কুয়ালালামপুরের চারদিকে নেওয়া হয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা, কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় প্রতিটি সড়কে চলাচলকারী যানবহন গুলো। রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই তৈরি হয় এক অন্য রকম আবহ, চারদিকে শোরগোল চেঁচামেচিতে, সবাই এক সুরে ৫৯-১ পর্যন্ত গুণে শেষ করার সাথে সাথেই ১২টা ০১ মিনিটে আকাশে চোখ ধাঁধানো আতশবাজির রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠে কুয়ালালামপুরের চারিদিক। এ আকর্ষণ পর্যটকসহ সকলকে মোহিত করে। আলোর ঝলকানিতে পুরো কেএলসিসি ও মারদেকা স্কয়ারসহ পুরো কুয়ালালামপুরের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠে। কিছুক্ষণের জন্যে সবাই হারিয়ে যায় অন্য এক অজানায়, সকলেই হ্যাপি নিউ ইয়ার, হ্যাপি নিউ ইয়ার স্লোগানে বরণ করে নেয় নতুন বছর ২০২০ কে। কেএলসিসি ও দাতারান মারদেকা স্কয়ার ছাড়াও পুত্রাজায়া, সানওয়ে, কেপং, পুচং, সুবাংজায়া, আমপাং, চেীকিট ও ব্রিকফিল্ডসহ অন্যান্য এলাকা গুলোতেও ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজন করা অনুষ্ঠান ছিল চোখে পড়ার মত।










