লোকসমাজ ডেস্ক॥ দ্রুতগতির চার্জারে ফোনে চার্জ দিলে ক্ষতি হয় না। ছবি: রয়টার্সদ্রুতগতির চার্জারে ফোনে চার্জ দিলে ক্ষতি হয় না। ছবি: রয়টার্সস্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে দুশ্চিন্তা থাকে ফোনে চার্জ থাকা নিয়ে। ফোন কেনার সময় স্ক্রিনের মাপের পাশাপাশি একবার চার্জে কতক্ষণ যাবে সে ফিচারটি জানার চেষ্টা করেন স্মার্টফোন ক্রেতারা। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কানটারের ওয়ার্ল্ড প্যানেল কমটেকের তৃতীয় প্রান্তিকের গবেষণা অনুযায়ী, স্মার্টফোনে দুর্দান্ত ক্যামেরার চেয়ে এর ব্যাটারিকে বেশি গুরুত্ব দেন ক্রেতারা। এ ছাড়া স্মার্টফোনের আয়ুর সঙ্গে এর ব্যাটারি কত দিন টিকবে, সেটিও জানার আগ্রহ থাকে ক্রেতাদের।
এখনকার যুগে স্মার্টফোনে দ্রুত চার্জিং সিস্টেম আসার পর ব্যাটারির আয়ু নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। এখন যদি দিন ফুরানোর আগেই ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে যায়, তখন দ্রুত মোবাইলে চার্জ দেওয়ার বিষয়টি ভাবনায় থাকে। ১০ মিনিট চার্জ দিতে পারলেও অনেক ক্ষেত্রে নানা কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।
এখন অনেক ফোনের বাক্সে দ্রুতগতির বা ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়। স্যামসাং, হুয়াওয়ে, ওয়ান প্লাস এমনকি অ্যাপলও দ্রুতগতির চার্জার দেয়। এখন অনেকে প্রশ্ন তোলেন, দ্রুতগতির চার্জার ব্যবহারে ফোনের ব্যাটারি কতটা টেকসই হবে? প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট বিষয়টি নিয়ে ব্যাটারি গবেষক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছে।
গবেষকেরা বলেছেন, অধিকাংশ মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিকস ডিভাইসে লিথিয়াম আয়ন রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। কয়েক দশক ধরে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি বলে দীর্ঘ সময় ব্যাটারিতে চার্জ ধরে রাখার বিষয়টি এখনো কঠিন। তবে এখনকার উন্নতির বিষয়টি এসেছে শক্তিসাশ্রয়ী কয়েকটি ফিচার যুক্ত হওয়ার পর। সফটওয়্যারের মাধ্যমে চার্জিং ও ডিচার্জিং বিষয়টি দক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়।
গবেষকেরা বলেন, প্রচলিত চার্জারের আউটপুট থাকে ৫ থেকে ১০ ওয়াট। দ্রুতগতির চার্জারে যা ৮ গুণ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইফোন ১১ প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলের ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জার, গ্যালাক্সি নোট ১০ ও নোট ১০ প্লাসে ২৫ ওয়াট চার্জার ব্যবহৃত হয়েছে। স্যামসাং আলাদা ৫০ ডলারে ৪৫ ওয়াটের চার্জার বিক্রি করে। যদি ব্যাটারি বা চার্জার ইলেকট্রনিকসে কোনো কারিগরি ত্রুটি না থাকে, তবে দ্রুতগতির চার্জার ব্যবহারের দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হয় না।
ফাস্ট চার্জিং ব্যাটারি দুই ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে খালি বা প্রায় খালি ব্যাটারিতে ভোল্টেজ বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রথম ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ চার্জ হয়ে যায়। চার্জের প্রথম দফার ব্যাটারি কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই দ্রুত চার্জ শোষণ করতে পারে। স্যামসাং দাবি করে, তাদের ৪৫ ওয়াটের চার্জার আধঘণ্টায় ৭০ শতাংশ চার্জ করে ফেলে। অ্যাপল দাবি করে, তাদের চার্জার ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করে ফেলতে পারে। চার্জের দ্বিতীয় ধাপে ব্যাটারিতে ধীরে ধীরে চার্জ শুরু হয়। এ সময় ধীরে চার্জ না হলে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে ভেবে সে অনুযায়ী চার্জারের ব্যবস্থা থাকে।
প্রযুক্তি সাইট আইফিক্সিটের বিশেষজ্ঞ আর্থার শি বলেন, ‘ব্যাটারিকে স্পঞ্জের সঙ্গে তুলনা করুন। যখন শুকনো স্পঞ্জ থেকে পানি শুষবেন, শুরুতে অনেক পানি শোষণ করতে পারবে। ব্যাটারির ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ধাপ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হয় না। ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দুটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করে।’
অনেক সময় স্মার্টফোনে অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগে থাকেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় চার্জার ফোনে লাগিয়ে রাখলে ব্যাটারির আয়ু কমে যাবে। এ ছাড়া ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা করেন অনেকেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার সিস্টেমে এমনভাবে তৈরি করা থাকে যাতে ব্যাটারি শতভাগ চার্জ হয়ে গেলে চার্জ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত চার্জ হওয়ার সুযোগ থাকে না।
আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ব্যাটারি গবেষক ভেঙ্কাট শ্রীনিবাস বলেন, ব্যাটারির সার্কিটে কোনো সমস্যা হলে আধুনিক ফোনেও অতিরিক্ত সময় ধরে চার্জ দেওয়া যাবে না। এখন আধুনিক স্মার্টফোনে অতিরিক্ত চার্জ ঠেকানোর সিস্টেম বিল্ট ইন থাকে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ স্মার্টফোন ৮০ শতাংশ বা তার আশপাশে চার্জ রাখার কথাও বলেন। এতে স্মার্টফোনের ওপর চাপ কমে। স্মার্টফোন নিয়মিত চার্জিং চক্র রাখলে ব্যাটারি বেশি দিন টিকবে বলে মনে করেন তাঁরা। এ ছাড়া ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জশূন্য করতে নিষেধ করেন গবেষকেরা। এতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে পারে। ব্যাটারির ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বেশ কিছু সেফটি ফিচার আছে, যা ব্যাটারি একেবারে চার্জশূন্য হওয়া ঠেকাতে পারে। ব্যাটারির চার্জ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এলে চার্জ দেওয়া উচিত।
মনে রাখতে হবে, স্মার্টফোনের ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু অতিরিক্ত তাপমাত্রা। বেশি তাপমাত্রায় স্মার্টফোনের ব্যাটারি কমতে শুরু করে। তাই সরাসরি স্মার্টফোন রোদে রাখা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে ফোন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার ওপরে গেলেই ব্যাটারির কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। তাই ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা যাতে না বাড়ে, সে জন্য খেয়াল রাখতে হবে। রোদে বা ড্যাশবোর্ডে ফোন রাখলেও তোয়ালে দিয়ে ঢেকে বা পানির বোতলের পাশে রাখতে হবে।
ভুয়া বা নকল চার্জার, কেবল ব্যবহার না করলে নিজ স্মার্টফোনের কেবল ছাড়া অন্য কেবল বা চার্জার ব্যবহারে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে নিজের ডিভাইসের সঙ্গে দেওয়া চার্জার ও কেবল ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।
সাধারণত ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে স্মার্টফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগ প্রয়োজন না হলে বন্ধ রাখা, সেটিংস থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার বন্ধ করার মতো কাজগুলো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মানতে হবে।
ফোনের চার্জ নিয়ে যা জেনে রাখবেন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন সিডল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন পিটার সিডল। ৩৫ পেরোনো এই পেসার বিদায় বল দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। মেলবোর্নে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন খেলার আগে আকস্মিক এই সিদ্ধান্তটি সতীর্থদের জানিয়েছেন সিডল। সবার কাছে সিদ্ধান্তটি আকস্মিক ঠেকলেও সিডল এমনটি ভেবে রেখেছিলেন এই বছরের অ্যাশেজেই, ‘আসলে সঠিক সময়টা কখন এটা বুঝতে পারা খুব কঠিন। তবে এটা অ্যাশেজেই ছিল। যদিও আমার মূল লক্ষ্য ছিল, সফরকারী দলটির সঙ্গী হয়ে যেন চেষ্টা করতে পারি।’
এরপরেই অবসর ভাবনা নিয়ে কোচ ল্যাঙ্গার ও অধিনায়ক পেইনের সঙ্গে সেই সিরিজে আলোচনা করেছিলেন তিনি। সেই থেকেই ঘরের মাঠে অবসর নেওয়ার ভাবনাটা তাকে পেয়ে বসে, ‘যখন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলি, তখন পেইন ও ল্যাঙ্গারের সঙ্গে ওই সিরিজে আলোচনা করেছি। আমি সেখানেই এটা করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ায় আরেকটি টেস্ট খেলতে পারলে সেটা হতো দারুণ কিছু।’
২০০৮ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া সিডল এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৬৭টি টেস্ট। এ সময়ে ৩০.৬৬ গড়ে নিয়েছেন ২২১ উইকেট। এই গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারেও ছিল তার ভূমিকা। ২০১০-১১ মৌসুমের অ্যাশেজে নিজের ২৬তম জন্মদিনে হ্যাটট্রিকের দুর্লভ কীর্তি আছে তার। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার অবশ্য তেমন সমৃদ্ধ নয় তার। ২০টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন ১৭টি উইকেট আর দুই টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন মাত্র ৩ উইকেট! তবে ২০১৬ সালে পিঠের ইনজুরিতে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন প্রায় দুই বছরের জন্য। গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আবার ফেরেন দলে। সর্বশেষ অ্যাশেজেও ছিলেন। এরপর পাকিস্তান সিরিজে না থাকলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের দলে ছিলেন। তবে একাদশে জায়গা হয়নি। তাই এই বছরের সেপ্টেম্বরে ওভালে খেলা অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট হয়ে রইলো।
ভেঙে যাচ্ছে সজল-নাদিয়ার সংসার!
লোকসমাজ ডেস্ক॥ সজল আর নাদিয়া মিমের দুই বছরের সংসার কোনো মতেই সুখের হচ্ছে না। সারাক্ষণ এটা ওটা নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে। ফলে দুজন মিলে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজেদের স্বার্থেই আপসে তারা বিচ্ছেদের পথে পা রাখেন।
এক ছাদের নিচের জীবন থেকে আলাদা জীবনে ভিন্ন অভিজ্ঞতা শুরু হয় দুজনের। গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে। এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘এতটুকুই চেয়েছিলাম’।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুন নুর সজল ও নাদিয়া আফরিন মিম জুটি বেঁধে এ নাটকে অভিনয় করেছেন। তরুণ নির্মাতা বিপু পালের পরিচালনায় এতে আরো অভিনয় করেছেন রিদুয়ানা রিদু, শাহারিয়ারসহ অনেকে।
নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সজল বলেন, ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। সব সময় আমি ব্যতিক্রমী গল্পে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এ নাটকটি তেমনই ভিন্ন ধারার একটি গল্প। আশা করি নাটকটি সবার ভালো লাগবে।
‘এতটুকুই চেয়েছিলাম’ নাটকটি শিগগিরই যে কোনো একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে বলে জানান নির্মাতা বিপু পাল।
স্বপ্ন পূরণের পথে পদ্মা সেতু-মেট্রোরেল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ একল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলার নির্মাণ ও স্প্যান বসানোর কাজও প্রায় শেষ। ২০২১ সালের জুনে পদ্মা সেতু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) সরকারের ১০ মেগা প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৭১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মেট্রোরেল প্রকল্পে ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নানা জটিলতা কাটিয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। ২০১৭ সালে নদীর গভীরতার কারণে সেতুর ১৪টি পিলারের নকশা পরিবর্তন করা হয়। মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯টি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে ২ হাজার ৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জটিল সব কাজ শেষ। এখন শুধুই অগ্রগতি। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ করে সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’ এদিকে, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটির কাজও এগিয়ে চলেছে। সেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই চলবে ট্রেন। এই রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ৬৯ পয়সা। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন নির্মিত হয়ে গেছে। ভাঙ্গা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে মাওয়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ খুব অল্প সময়ে শেষ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যেই শেষ হবে পদ্মাসেতুতে রেলের সব কাজ—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু দিয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প-১ (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা) এবং প্রকল্প-২ (ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর) নামের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরকারের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো মেট্রোরেল প্রকল্প। ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (এমআরটি) লাইন- ৬ প্রকল্প বা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। রাজধানীর যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল চালু করার কথা থাকলেও হয়নি। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পিলার নির্মাণের কাজ শেষ, চলছে স্প্যান বসানোর কাজ। উত্তরার কিছু অংশে স্প্যান বসানো শুরু হয়েছে। আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট হয়ে কাওরান বাজার, বাংলামোটর ও শাহবাগ পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে। পাইলিং শেষে এসব এলাকায় পিলার বসানোর কাজ চলছে।
ফুলতলায় স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন
ফুলতলা (খুলনা) অফিস ॥ ফুলতলার আব্দুল লতিফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন রোববার সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন-জেসমিন বেগম, মো. হাদিউজ্জামান, মো. শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, আবুল কালাম শেখ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ৪৮৯ অভিভাবক ভোটারের মধ্যে ৩৯১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম বদিউজ্জামান নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
মহাসমারোহে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আঞ্চলিক দল জেএমএম-এর নেতা হেমন্ত সরেন। রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দোপাধ্যায়সহ বেশ কিছু জাতীয় নেতার উপস্থিতিতে মহাসমারোহে শপথ নেন তিনি। কংগ্রেস-আরজেডির সঙ্গে জোট করে দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যটির আঞ্চলিক দলনেতা হেমন্ত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হেমন্ত সরেনের আজকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিরোধীদলগুলোর একতা প্রদর্শিত হল। রাঁচির মোরাবাদি ময়দানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মূ। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দফতর আজকের দিনটিকে ‘সংকল্প দিবস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হেমন্ত সরেনের শপথে ভারতীয় নেতাদের ছোটখাটো এক সমাবেশও হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং ডিএমকের এমকে স্তালিনসহ অনেকে।
রোববার হেমন্ত সরেনের সঙ্গে রাজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কংগ্রেসের আলমগীর আলম ও রামেশ্বর ওরাও এবং আরজেডির সত্যানন্দ ভোক্তা। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপির) প্রধান শরদ পাওয়ার এবং কংগ্রেস দলীয় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি টুইট করে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন এবং কংগ্রেস দলীয় মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম আজ। আমি আত্মবিশ্বাসী ঝাড়খন্ডের নতুন সরকার মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে রাজ্যকে শান্তি ও উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।’
শপথগ্রহণের আগে টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় হেমন্ত সরেন বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমি অবহিত। আমি আপনাদের সবাইকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ গত সোমবার ঘোষিত ফলাফলে ৮১ আসনের বিধানসভার ৪৭টি আসন দখল করে জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট।
নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিজেপির। তারা পায় মাত্র ২৫টি আসন। যেখানে গতবারের চেয়ে ২২ আসন বেশি পেয়ে কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোট ৪৭ আসনে জয়ী হয়েছে সেখানে ৭৫ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা মোদি-অমিতের বিজেপি ১২টি খুঁইয়েছে। মোদি নিজে প্রচারণা চালিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি।
ঝাঢ়খন্ডে দুবারের মুখ্যমন্ত্রী শিবু সরেনের পুত্র হেমন্ত সরেন অল্প বয়সে রাজনীতিতে আসেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডার সরকারে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বিজেপির সঙ্গে সরকার গড়েছিল দলটি। পরে ২০১৩ সালে জেএমএম সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে রাজ্যটিতে কেন্দ্রীয় শাসন জারি হয়।
ওই বছরের জুলাইয়ে হেমন্ত সরেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে শপথ নিয়ে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তবে ওই মেয়াদে মাত্র ১৭ মাস মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০০ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি সরকার পেয়েছে ঝাড়খন্ডের মানুষ। তিনবার সেখানে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দফায় ঝাড়খন্ড বিধানসভার ভোটগ্রহণ হয়। সোমবার ফল ঘোষণা করা হয়। অবশ্য আগেই বুথফেরত জরিপে জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট ক্ষমতায় আসছে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরও ইঙ্গিত ছিল বুথফেরত জরিপে।
২০০০ সালে গঠিত হওয়ার পর ঝাড়খন্ডের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন এটি। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে অনেক নাটকের পর শিবসেনা নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস জোটের কাছে হেরে রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি। তাই আয়তনে ছোট হলেও পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়ো ঝাড়খন্ডের দিকে নজর ছিল
পেঁয়াজ কলি সারা বছর সংরক্ষণ করতে চান?
লোকসমাজ ডেস্ক॥ শীত মানেই নানা স্বাদ ও রঙের সবজির সমাহার। এসময় নানারকম পুষ্টিকর সবজির ভিড়ে একটি পরিচিত সবজি হলো পেঁয়াজ কলি। গাঢ় সবুজ রঙের এই সবজি আমাদের জন্য বেশ উপকারী। পেঁয়াজ কলিতে বেদনা উপশমকারী উপাদান থাকায় এটি দ্রুত মাথা, মাংসপেশি এবং হাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। অ্যান্টি-পাইরোটিক উপাদান থাকায় খাবারে পেঁয়াজ কলি ব্যবহার করলে জ্বর দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
পেঁয়াজ কলিতে থাকা সালফার শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যা ডায়বেটিস রোগীর জন্য উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে। পেঁয়াজ কলিতে থাকা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।
পেঁয়াজ কলিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। এটি খেলে সালাদের স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরে পুষ্টির চাহিদাও মেটে। সর্দি-কাশি সারাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। পেঁয়াজ কলিতে আরও আছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা পাকস্থলি, অন্ত্র এবং মূত্র প্রদাহ রোধে কাজ করে। ক্ষত থেকে রক্তপাত বন্ধ এবং সেই ক্ষতকে ইনফেকশনমুক্ত রাখার জন্য পেঁয়াজ কলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
যদি চান সারা বছর এই উপকারী সবজিটি সংরক্ষণ করতে তবে মেনে চলতে হবে কিছু টিপস। চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে পেঁয়াজ কলি সংরক্ষণ করে সারা বছর খেতে পারবেন-
পেঁয়াজ কলি কেনার সময় টাটকা ও ভালো দেখে কিনে আনবেন। এরপর পেঁয়াজ কলি গুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন।
পানি দিয়ে ধোঁয়ার পর পানি ঝরিয়ে তারপর ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নেবেন। অথবা ভালোভাবে একটি তোয়ালে দিয়ে কলির পানি গুলো মুছে নেবেন। পানি থাকলে সংরক্ষণ করতে সমস্যা হয়। এবার কলিগুলোকে আপনার সুবিধামতো মাপে কেটে নিন।
কলিগুলো কাটা হয়ে গেলে একটি জিপ লক ব্যাগ বা এয়ারটাইট ফুড কন্টেইনারে নিয়ে নিন। তবে জিপ লক ব্যাগ না থাকলে সাধারন প্লাস্টিকের ব্যাগেও রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাগের মুখ ভালো করে সুতা দিয়ে আটকে দেবেন। এটি ডিপ ফ্রিজে রেখে অনায়াসে সংরক্ষ
তেলে যেন পেঁয়াজের ঝাঁজ!
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও এর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার চায় না কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম পেঁয়াজের পরিণতির দিকে যাক।
গত সেপ্টেম্বর থেকেই পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় উঠে নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির তৈরি করে। এর পাশাপাশি আগের মাসের চেয়ে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার বাজারে ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল, খোলা আটা, খোলা ভোজ্যতেল, সরু দানার মসুর ডাল ও চিনির মতো পণ্য ছিল। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তথ্যমতে, গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ে এক লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৪৭টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচে এক লাখ চার হাজার ৫৫৮ টন, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার কেজি পেঁয়াজ আমদানি করেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে গড়ে ৩৮ টাকা ২৬ পয়সা। অথচ সেই পেঁয়াজ তারা পাইকারি বাজারেই বিক্রি করেছে বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেয় এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আজ (রোববার) ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। বৈঠকে ব্যবসায়ী ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর রোজা শুরুর ঠিক তিন থেকে চার মাস আগেই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ট্যারিফ কমিশনে দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা করে না ব্যবসায়ীরা। তারা আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও সরকারের অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে দেয়া যাবে না। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দেবেন। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে পেঁয়াজের মতো হতে দিতে চায় না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আজ বসেছিলাম। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বলার মতো তেমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভাব হয়নি। আগামীতে এ বিষয়ে আরও বৈঠক করতে হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়নি। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দুই রকম সুপারিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু কোথাও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়নি। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেল (লুজ) প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়। যা গত মাসের ২৯ নভেম্বর ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। যা গত মাসের একই দিনে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আগামী মে মাসে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান শুরুর দেরি থাকলেও সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে চিন্তিত সরকার। সে লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব ও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১৮টি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প পুনঃনির্বাচিত হলে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে পারেন ইভানকা
লোকসমাজ ডেস্ক॥ আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি ডনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচিত হন তাহলে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে পারেন তার মেয়ে ও উপদেষ্টা ইভানকা ট্রাম্প। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইভানকা। সিবিএস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইভানকা বলেছেন, তার প্রথম পছন্দ হবে তার নিজের সন্তান ও তাদের সন্তুষ্টি। তার পিতা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি কি তার প্রশাসনে অব্যাহতভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইভানকা একথা বলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
ইভানকা বলেন, সব সময় আমার সিদ্ধান্ত এমন নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের (সন্তান) প্রয়োজনটিকে আমার সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে। এমনই উত্তর তারা বাস্তবেই আমার কাছ থেকে পেতে চায়। সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ইভানকা আরো বলেন, গত প্রায় আড়াই বছরে আমি এই দেশের প্রায় সব রাজ্যে সফর করেছি।
এটা ছিল সুযোগের পথ করে দেয়া। ৩৮ বছর বয়সী ইভানকা বলেন, তার কাজ সম্পন্ন হয় নি। তার ভাষায়, আমরা অনেক করেছি। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।
তিনি কি অফিসিয়াল দায়িত্ব পালননের জন্য উদগ্রীব? এ প্রশ্নের উত্তরে হোয়াইট হাউজের এই উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে সত্যিকার অর্থে রাজনীতি কম আগ্রহের। ২০১৭ সাল থেকে ইভানকা ট্রাম্প ও তার স্বামী জারেড কুশনার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় তারা পালন করেছেন।
বিফ চিলি অনিয়ন রাঁধবেন যেভাবে
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফ্রায়েড রাইস বা চাওমিনের সঙ্গে জমে বেশ। ঝাল ঝাল এই খাবারটি কেবল রেস্টুরেন্টে গিয়েই নয়, খেতে পারেন বাড়িতে বসেও। বলছি বিফ চিলি অনিয়নের কথা। বাড়িতে তৈরির আগে জানা থাকা চাই রেসিপি। চলুন জেনে নেয়া যাক-
উপকরণ:
২৫০ গ্রাম গরুর মাংস (পাতলা স্লাইস করে কাটা)
৫ টি রসুনের কোয়া
৪/৫ টি কাঁচা মরিচ
২ টেবিল চামচ সয়া সস
দেড় টেবিল চামচ গোল মরিচ গুঁড়ো
১ চা চামচ চিনি
১ টি চিকেন স্টক কিউব (বাজারে কিনতে পাওয়া যায়)
২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বড় করে খণ্ড করা
কর্নফ্লাওয়ার পরিমাণ মতো
১ টি ডিম
চাইলে এতে ক্যাপসিকাম কুচি এবং কাজু বাদাম যোগ করতে পারেন।
পদ্ধতি:
১ টেবিল চামচ সয়াসস, ১ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ডিম ও কর্ণফ্লাওয়ার খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে গরুর মাংস মেরিনেট করে রাখুন ১০ মিনিট। ১ কাপ গরম পানিতে চিকেন স্টকের কিউব গুলে আলাদা করে রাখুন।
এরপর একটি প্যানে তেল দিয়ে এতে দিন বাকি মশলাগুলো। মশলাতেই দিয়ে দিন মেরিনেটসহ বিফ। ভালো করে নেড়ে উলটে পাল্টে ভাজতে থাকুন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। মাংস ভাজা ভাজা হয়ে এলে এতে চিকেন স্টক দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে থাকুন।
মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে স্বাদ দেখে লবণ দিন। এরপর আরও ৫/৬ মিনিট চুলার উপরে রাখুন। মাংস সেদ্ধ হতে পানির প্রয়োজন হলে আরও পানি দিতে পারেন। মাংস ভালো সেদ্ধ হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ‘বিফ চিলি অনিয়ন’।









