লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিগত বছরটি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরটি ছিল গণতন্ত্র হত্যার বছর। মানুষের অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার এবং ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর।’ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার কবরে ফুল দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। নতুন বছরের প্রত্যাশা এবং পুরনো বছরকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবছরটা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানো হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা সবসময়ই নতুন বছরে নতুন করে ভাবতে চাই। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চাই এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এরপরও বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে। জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটাকে আমরা উপলক্ষ হিসেবে নিয়েছি।’ ছাত্রদলের ঐতিহ্য রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘ঐতিহ্য ও ছাত্র আন্দোলনকে সমুন্নত রেখে ছাত্রদলের নেতৃত্বে এদেশে গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রদল তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে।’ খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাকে ন্যূনতম আইনগত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে মুক্ত করার জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে ছাত্রদল। সে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্র জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সক্ষম হবে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল কাজ করবে বলেও আশা মির্জা ফখরুলের। এসময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
বিগত বছর ছিল ফ্যাসিবাদের জয়ের বছর: মির্জা ফখরুল
এবার চোখ পঞ্চম সমুদ্রবন্দরে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ীর পর এবার মিরসরাইয়ে দেশের পঞ্চম সমুদ্রবন্দর নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনী ও সীতাকু- এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরকে ঘিরে এ বন্দরটি হবে। কয়েক বছর ধরে এই শিল্পনগর ঘিরে একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে সরকারের মধ্যে। আলোচনার টেবিল থেকে এবার বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রস্তাবিত এই সমুদ্রবন্দর। সূত্রগুলো জানায়, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বডির সভা হয়। ওই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের মাস্টারপ্ল্যান বিষয়ে আলোচনায় মিরসরাইয়ে একটি সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাবিত বন্দরের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই সভার যে কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে, সেখানেও মিরসরাই সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেজার কর্মকর্তারা জানান, এই সমুদ্রবন্দর নির্মাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে গঠিত শিল্পজোটের (কনসোর্টিয়াম) সঙ্গে চুক্তি করেছে বেজা। জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সজিত করপোরেশন, বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক এবং জাপান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট সম্মিলিতভাবে বন্দর স্থাপনের এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ওই কনসোর্টিয়াম ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বন্দরটি এমনভাবে গড়ে তুলবে, যেখানে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারবে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে ৪০ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে বলে কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেজা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে তোলা এই শিল্পনগরে এরই মধ্যে ভূমি ইজারা পেয়েছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তাদের ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ করতে চায় বসুন্ধরা, পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম, ঝেজিয়াং, কুনমিংসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বড় শিল্প গ্রুপ। এসব শিল্প গ্রুপের কারখানা থেকে যেসব পণ্য উৎপাদিত হবে, সেগুলো দেশ-বিদেশে রপ্তানির জন্য কাছাকাছি একটি সমুদ্রবন্দর দরকার। সূত্রগুলো জানায়, শিল্পনগর ঘিরে জেটি উন্নয়নের ফলে ভারী মালামাল আমদানির গতিশীলতা সহজতর হবে, যা চট্টগ্রাম বন্দরে মাল খালাসে দীর্ঘ সময়ের সংকট কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শিল্পপার্ক এবং জেটি স্থাপনের ফলে এলপিজি, এলএনজি এবং এইচএফও স্টোরেজ সুবিধার পথও সুগম হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ঘিরে প্রাথমিকভাবে সমুদ্র উপকূলে ওয়াটার ফ্রন্ট জেটি গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কোম্পানি। তারা জানিয়েছে, এটি পরে বন্দরে রূপ নেবে। বন্দর জেটি নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক)। জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম এই শিল্পনগর ঘিরে বন্দর গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে চবক। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এ চাপ হ্রাস করার জন্য হলেও মিরসরাই এলাকায় সমুদ্র উপকূলে নতুন আরেকটি বন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্দরের যোগাযোগ সুবিধা সম্পর্কে বলা হয়, প্রস্তাবিত বন্দর এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনবিশিষ্ট মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকায় যোগাযোগ খুবই সহজ হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থাকায় সড়ক ও রেলপথে সারা দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ করা যাবে। প্রস্তাবিত এলাকায় বন্দর নির্মাণ করা হলে দেশীয় লাইটারেজ জাহাজ এবং বিদেশি বড় জাহাজ ওই এলাকায় বার্থিং করার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের চাপ কমে যাবে। সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে এবং বেকারত্ব কমে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট এবং এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে।
কি ধরনের দল করি আমরা, মেজর হাফিজের প্রশ্ন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কি ধরনের দল করি আমরা!’ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিএনপির ৩০০ প্রার্থীকেই দলের পক্ষ থেকে ডেকে হারার কারণ জানতে চাওয়া হয় না। কিন্তু কই, নির্বাচনের পর তো আমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করে নাই, ‘কি হয়েছিল তোমাদের সাথে?’ আমি নিজে প্রার্থী ছিলাম, গত নির্বাচনে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। নিজের ভোটটা পর্যন্ত দিতে পারিনি। দুইদিন অবরুদ্ধ ছিলাম। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং স্বাধীনতার ৪৯ বছর প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, বিএনপির কর্মীরা অনেক নির্যাতিত। বিএনপির মহিলা কর্মীদেরকে পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। সুতরাং আজকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নেতার ডাকের অপেক্ষায় না থেকে রাজপথে নেমে এই জালিম সরকারকে বিদায় করতে হবে। তাহলে এই দেশ ১৯৭১ সালের মতো ফিরে পাবে নিজের মর্যাদা।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জেএসডি বিএনপির তুলনায় অনেক ছোট দল। তারা যে কাউন্সিল মিটিংটা করেছে। ইমপ্রেস ইট, এটা আমার সোজা কথা। তারা যদি করতে পারে, বিএনপি কি আজকে ইমারজেন্সি করতে পারে না? সে জন্য বলছি, তারেক নিশ্চয়ই তুমি একদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবা। তবে তুমি হতে চাও কিনা? চাটুকারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকলে কোনো দিনও সম্ভব না। চাটুকারিতা ভাল লাগলেও, তবে সাবধান থাকতে হয়। আজকে দূরে থেকে এখানকার আন্দোলন করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, ‘আজকে না হয় বিএনপির ১ লাখ লোক জামিনে আছে। তাদেরকে ডাক দেন, তারা দুই দিনের জন্য হাইকোর্টের সামনের প্রাঙ্গণে এসে বসে থাকুক। এর মধ্যে খোদার তখত তো নড়ে যাবে, আর হাসিনা তো উড়ে যাবে।’
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা হলো, যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই, মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্র সবকিছুর অবসান চাই, দেশের গণতন্ত্র চাই, সংসদ বাতিল চাই, সরকারের পদত্যাগ চাই, নতুন নির্বাচন চাই তাহলে আন্দোলন এখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে শুরু করতে হবে। এবং এই আন্দোলনকে সমগ্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। যদি কালকে না পারি, তাহলে পরশু পারব। পরশুদিন না পারলে, তিনদিন পরে পারব। তিনদিন পরে না, পারলে ৩০ দিন পরে পারব। কিন্তু আমাদের পারতেই হবে। কারণ, আমাদের অস্তিত্বের জন্যই এই লড়াই।
বর্ণিল আয়োজনে মালয়েশিয়ায় নতুন বছরকে বরণ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর বর্ষপরিক্রমায় যুক্ত হল আরেকটি পালক। নতুন একটি বর্ষে পদার্পণ করল এই অধরা। দিনে দিনে বর্ষ শেষ হয়ে এলো। ইতিহাসের পাতায় যোগ হল আরও একটি বছর-২০১৯। সম্ভাবনার অপার বারতা নিয়ে শুরু হল নতুন বছর। স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ স্বাগত ২০২০।
থার্টি ফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত। ওই দিন রাত ১২ টার পর পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে সূচনা হয় নতুন বছরের। যা ইংরেজি নববর্ষ নামে পরিচিত। পুরো বিশ্বে ঘটা করে পালন করা হয় ইংরেজি নববর্ষকে। তেমনি পর্যটন নগরী মালয়েশিয়ার আকাশেও স্থানীয় মধ্যরাতে জ্বলে উঠল আতশবাজির বর্ণিল আলোকচ্ছটা। সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে উন্মোচিত এই জমকালো আতশবাজির খেলা উপভোগ করতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগরী আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতীক মিনারা কেএলসিসি ও দাতারান মারদেকা স্কয়ারে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল। স্থানীয় মালয়েশিয়ান ও বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতও ছিল চোখে পড়ার মত।
গেল ক্রিসমাস ডে, নিউ ইয়ার ও আগত চায়নিজ নিউ ইয়ারকে সামনে রেখে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ আশপাশের শহর গুলো আগে থেকেই সাজানো হয়েছিল অপরূপ সাজে। বিকাল হতেই মালয়েশিয়ানরা পরিবার, পরিজন নিয়ে ছুটে যান মারদেকা স্কয়ার ও টুইন টাওয়ার সংলগ্ন মাঠে। মাঠ পেরিয়ে জনস্রোত গিয়ে ঠেকে মাঠ সংলগ্ন আশপাশের সড়ক গুলোতে। বিকাল থেকেই সেখানে তৈরি করা মুক্ত মঞ্চ গুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন মালয়েশিয়ার নামী দামী ব্যান্ড ও সঙ্গীত শিল্পীরা, সুরের মূর্ছনায় সবাই হারিয়ে যায় যেন এক অজানায়।
পাশাপাশি কুয়ালালামপুরের হার্ট খ্যাত বুকিট বিন্তাং এর বার, ক্লাব গুলো ছাড়াও পাশের সড়ক গুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।নতুন বরণ উপলক্ষে কুয়ালালামপুরের চারদিকে নেওয়া হয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা, কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় প্রতিটি সড়কে চলাচলকারী যানবহন গুলো। রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই তৈরি হয় এক অন্য রকম আবহ, চারদিকে শোরগোল চেঁচামেচিতে, সবাই এক সুরে ৫৯-১ পর্যন্ত গুণে শেষ করার সাথে সাথেই ১২টা ০১ মিনিটে আকাশে চোখ ধাঁধানো আতশবাজির রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠে কুয়ালালামপুরের চারিদিক। এ আকর্ষণ পর্যটকসহ সকলকে মোহিত করে। আলোর ঝলকানিতে পুরো কেএলসিসি ও মারদেকা স্কয়ারসহ পুরো কুয়ালালামপুরের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠে। কিছুক্ষণের জন্যে সবাই হারিয়ে যায় অন্য এক অজানায়, সকলেই হ্যাপি নিউ ইয়ার, হ্যাপি নিউ ইয়ার স্লোগানে বরণ করে নেয় নতুন বছর ২০২০ কে। কেএলসিসি ও দাতারান মারদেকা স্কয়ার ছাড়াও পুত্রাজায়া, সানওয়ে, কেপং, পুচং, সুবাংজায়া, আমপাং, চেীকিট ও ব্রিকফিল্ডসহ অন্যান্য এলাকা গুলোতেও ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজন করা অনুষ্ঠান ছিল চোখে পড়ার মত।
আজকের রাশিফল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পমরযোগী গ্রহ শনি মহারাজ গ্রহপিতা রবি ও প্রেমের দেবতা শুক্রের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে সিংহ রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। চতুর্দিক থেকে তরতাজা উন্নতি করতে থাকায় দিনটি বেশ মৌজমস্তিতে কাটবে। প্রেম বন্ধুত্ব ভ্রমণ বিনোদন শুভ। সব পাঠককে হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] হাত বাড়ালেই সফলতা ধরা দেওয়ায় মন আনন্দে নাচবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহের কথাবার্তা পাকাপাকি হবে। অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহ বিবাদের মীমাংসা হওয়ায় ব্যবসার বহুল প্রচার ও প্রসার ঘটবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় কোনো অর্ডার হাতে আসায় বস আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা তথা বিদেশগমনের স্বপ্নসাধ পূরণের দিকে ধাবিত হবে। মামলা মোকদ্দমার রায় পক্ষে আসবে। প্রেমিকযুগল সতর্ক থাকুন।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] অত্যাবশ্যকীয় প্রেম বিবাহে কোনো না কোনো বাধা এসে হাজির হবে। অবশ্য নিত্যনতুন প্লানপ্রোগ্রাম আর স্বপসাধ পূরণের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। সপরিবারে ভ্রমণ যোগ প্রবল।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকা শ্রেয় হবে। ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ক্রয়বিক্রয় অস্ত্রশস্ত্র বহন ও অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন। অবশ্য সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়পরিজনরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] দাম্পত্য জীবন কটুতায় ভরে থাকলেও বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নেই। গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হওয়ায় সাজসাজ রব করবে। প্রেমিকযুগলের জন্য দিনটি স্মরণীয় বরণীয় ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী দিবস হিসেবে গণ্য হবে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] সহকর্মী ও অংশীদারদের কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতাপ্রাপ্ত হবেন। শরীর স্বাস্থ্য বিশেষ ভালো না থাকলেও শয্যাশায়ী হতে হবে। অর্থকড়ির ব্যাপারে কাউকে অধিক বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। রাগ জেদ অহংকার আবেগ বর্জনের সঙ্গে পরিশ্রমী ও মিতব্যয়ী আবশ্যকতা।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হওয়ায় অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা তথা বিদেশ গমনের পথ প্রশস্ত হবে। কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় কোনো অর্ডার হাতে আসায় বস আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] হাত বাড়ালেই সফলতাপ্রাপ্ত হবেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম ফুলেফেঁপে উঠবে। জীবনসাথী শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নয়তো বাসাবাড়ি পাল্টানোর জামেলায় পড়তে হবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। জীবনসাথী শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নয়তো বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জনীয়।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে। আয় বুঝে ব্যয় করুন নয়তো সঞ্চয়ে হাত পড়তে হবে। পরিবারের কোনো বয়স্ক লোকের শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ায় তাদের নিয়ে হাসপাতালে চক্কর কাটতে হবে। এতদসত্ত্বেও মন সুর সংগীত ধর্ম আধ্যাত্মিকতা ও পরোপকারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্ল্যাক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষ আপনার উন্নয়ন ও প্রভাব প্রতিপত্তির বাড়বাড়ন্ত দেখে পিছু হটতে বাধ্য হবে। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝামেলার অবসান ঘটবে। লটারি ফাটকা জুয়া রেশ শেয়ার হাউজিং এড়িয়ে চলার আবশ্যকতা।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করবে। অযথা লোকে আপনাকে ভুল বুঝবে এবং সন্দেহ করবে। অবশ্য শ্রমিক কর্মচারী ও ড্রাইভারদের মনে মালিকপ্রীতি দেখা দেবে। সপরিবারে কাছেপিঠে ভ্রমণ এমনকি কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন।
ঘটনা-দুর্ঘটনার ২০১৯
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মহাকালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেল আরো একটি বছর। এলো নতুন বছর ২০২০। গেল বছর বেশ কিছু অর্জন আর সাফল্যের পাশাপাশি ছিল নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। জাতীয় ক্ষেত্রে কয়েকটি ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। কয়েকটি মর্মান্তিক ও হতবাক করা ঘটনায় বিষ্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়েছে দেশের মানুষ।
২০১৯ এর সে রকম কিছু আলোচিত ঘটনা নিয়ে এ প্রতিবেদন।
৪র্থ বারের মতো আওয়ামী লীগের সরকার গঠন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে সিল মেরে বাক্স ভরে ( ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত) বিজয়ী হয়ে এবছরের শুরুতে চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামীলীগ। সেসঙ্গে রেকর্ড টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর বছর শেষে দলীয় কাউন্সিলে টানা নবম বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নতুন রেকর্ডকরেছেন তিনি।
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা: ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড নাড়া দেয় পুরো দেশকে। পরিকল্পিতভাবে ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবন সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে অগ্নিদগ্ধ করা হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর বিচার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে রেকর্ড দ্রুততায়। নুসরাত হত্যায় দোষীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দেন আদালত।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড: নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মতোই পুরো দেশের মানুষকে বাকরুদ্ধ করে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড। ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে গত ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন আবরারের সহপাঠী। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন তার বাবা বরকতুল্লাহ বাদি হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এঘটনার প্রতিবাদে টানা দুইমাস বন্ধ থাকে বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম।
বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ড: ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী মিন্নি ও শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। তাকে কুপিয়ে হত্যার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা পুরো দেশবাসীকে নাড়িয়ে দেয়। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাস নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) ২ জুলাই ঘটনার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। অবশ্য এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির অবস্থান নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। পরবর্তীতে মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেপুলিশ।
ক্যাসিনো কাণ্ড: বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের স্পোর্টিং ক্লাবগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-পুলিশ। মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র, ওয়ান্ডারার্স ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাব, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ধানমণ্ডি ক্লাব, মোহামেডান স্পোর্টিং, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওই সব ক্লাব থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনো বোর্ডসহ বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী, নগদ টাকা, অস্ত্র, মদ ও বিয়ার জব্দ করে। আটক করা হয় ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেককে। এদের মধ্যে কয়েকজন যুবলীগের নেতাকর্মী। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুবলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন সম্রাট, এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম, মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন ভূ্ইয়া, সেলিম প্রধানসহ ১৮ জন।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি: গেল বছর সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনার একটি ছিল পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য। জুলাইয়ের শুরু থেকে হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। সব শেষে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৮০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। দফায় দফায় দাম বেড়ে যাওয়ায় হালি কিংবা জোড়া হিসেবেও বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। একটি বড় আকারের পেঁয়াজ ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দামে হিমশিম খেতে হয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার মিশরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। টিসিবি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি করে।
চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ড: বছরের শুরুতে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ড। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায়শাহী মসজিদের পাশের চারতলা ভবনে লাগা আগুনে প্রাণ হারান ৭৮ জন মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্তত পাঁচটি ভবন। এ যেন নয় বছর আগে সংঘটিত পুরান ঢাকার নিমতলী ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিল ১২০ জনেরও বেশি নারী-পুরুষ।
এফআর টাওয়ারে আগুন: গেল বছরের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন। সেসময় আগুন থেকে বাঁচতে বেশকিছু মানুষ ভবন থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ হারান। এছাড়াও আহত হন ৭৩ জন। এছাড়া বছরের শেষ দিকে কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে মৃত্যু হয়েছে ২১জনের।
রূপপুরের বালিশকাণ্ড: রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশকাণ্ড অবাক করেছে দেশবাসীকে। টেন্ডার আহ্বানের আট মাস আগেই বিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত তিনটি ভবনের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স আইটেম, ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক্যাল আয়রন, বালিশ, তোশক ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটির দাম বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক ধরা হয়। কেনাকাটায় এই অনিয়মের ঘটনা হার মানিয়েছে অতীতের সব অনিয়মকে। এই প্রকল্পে একটি বালিশ কিনতে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা বিল করা হয়। আর প্রতিটি বালিশ ভবনের উপরে উঠতে ৭৬০ টাকা করে ধরা হয়। এ রকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেনা কাটায় অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়।
ট্রেন দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত: ১৬ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ও ১২নভেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয় ২৭ জন। উল্লাপাড়ায় রেলস্টেশনের রেলক্রসিং এলাকায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর পদ্মা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ১১ আরোহী নিহত হয়েছেন। কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলস্টেশনে রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মাঝামাঝি বগিতে ঢুকে পড়লে ১৬ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে এবং গার্ড মো. আবদুর রহমানকে দায়ী করেছে এই ঘটনায় গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটি। তাদের ইতিমধ্যে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বিতর্কিত শোভন ও রাব্বানী: বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। তাদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককরাহয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য সাকিব আল হাসানের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞা ক্রিকেট প্রেমীদের আহত করে। বছরের শুরুতে ঢাকসু নির্বাচন ছিল সারা দেশে আলোচনার বিষয়।
নিষিদ্ধ সাকিব: এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের জন্যনিষিদ্ধ হন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যা ক্রিকেট প্রেমীদের আহত করে। ২৯ অক্টোবর সাকিবের শাস্তির ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা লাগে জাতীয় ক্রিকেট দলেও। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটের কাছে দায় স্বীকার করে সাকিব এই সাজা মেনেও নিয়েছেন। তিনবার জুয়াড়িদের কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেলেও আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটকে না জানানোয় এই শাস্তি পান তিনি।
ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ: এবছর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ সারাদেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। রাজধানী ছাড়াও দেশের অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েএরোগ। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকার। আর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
গুজব ও গণপিটুনি: ২০১৯সালে নানা ধরনের গুজব ও গণপিটুনিতে মারা যান বেশ কয়েকজন। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বছর জুড়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। একের পর এক গুজবে অবনতি হয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। পদ্মাসেতুর জন্য মাথা লাগবে এরকম গুজবের কারণে বছরের মাঝামাঝি হঠাৎ আলোচনায় আসে ‘ছেলেধরা’র গুজব। আর এমন সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন বেশকিছু নিরীহ নারী-পুরুষ। এছাড়া গুজব রটিয়ে ভোলায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটানো হয়।
ডাকসু নির্বাচন: দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয় ২০১৯ এর ১১মার্চ। নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হনকোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর। এরপর থেকে নূর বছর জুড়েই ছিলেন আলোচনায়। বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে। সবশেষ ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে নিজ কক্ষে বর্বরোচিত হামলার শিকার নূর ও তার সহযোগিরা। সেদিন তার কক্ষের আলো নিভিয়ে তাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। পরে নুরসহ অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায়: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানরেস্টুরেন্টে ২০১৬ সালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহতের ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত ২৭ নভেম্বর। রায়ে সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান নামে এক অভিযুক্তকে খালাসের আদেশও দিয়েছেন আদালত।
এসএ গেমসে রেকর্ড ১৯ স্বর্ণ জয়: এ বছর ১৩তম দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে ১৯টি স্বর্ণ জয়ের ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। এরমধ্যেআর্চারি থেকেই এসেছে ১০টি। আর্চারির ১০ ইভেন্টের সবগুলোতেই সোনা জেতেন বাংলাদেশের আর্চাররা।
বাতিল হচ্ছে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের দরপত্র
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দরপত্রের শর্তের সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্রের সামঞ্জস্যহীনতার অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডিজিটাল স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি এ বিষয়ে পুনঃদরপত্রের অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে। জানা গেছে, বিআরটিএ একটি দরপত্রে অংশ নিয়ে ফ্রান্সের সেলফ স্মার্টকার্ডস অ্যান্ড সলিউশনস নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দলিলপত্রে মিথ্যা তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দরপত্রটি বাতিলসহ পুনঃদরপত্র আহ্বানের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, বিআরটিএ প্রদত্ত সেবাসমূহের মধ্যে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু অন্যতম। ইতিপূর্বে ৫ বছর মেয়াদে অনুন্নয়ন/পরিচালনা বাজেটের অধীনে ১৫ লাখ ডিজিটাল স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রতিটি ৪৭২ টাকা ৬০ পয়সা দরে সরবরাহের জন্য বিআরটিএ এবং টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে ২০১৬ সালের ২৩ জুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির সর্বমোট মূল্য ছিল ৭৪ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২১ সালের ২২ জুন উক্ত চুক্তি শেষ হওয়ার কথা। তবে চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৪টি পলিকার্বনেট ড্রাইভিং কার্ড উক্ত প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছে। চুক্তির ১৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্টকার্ডের সরবরাহ নির্দিষ্ট সময়ের ১৯ মাস আগেই সম্পন্ন হবে।
সূত্র জানায়, আইনি কার্যক্রম জোরদার, বিআরটিএ সহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং কোম্পানির সার্ভিস পরিচালনা, নতুন আইন পাশ হওয়া এবং গত বছর থেকে অধিকসংখ্যক মোটরসাইক্যাল রেজিষ্ট্রেশন হওয়ায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ ব্যাপকহারে বেড়েছে। ফলে বাস্তবতার নিরিখে গড়ে প্রতি বছর তিন লাখ স্মার্ট কার্ডের বেশি হারে স্মার্ট প্রিন্ট করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বর্তমান সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করার বিষয়টি অনুমোদিত হয়। পরে ৫ বছর মেয়াদে ৩৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্টকার্ড সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৫৯ কোটি ২৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দলিল ক্রয় করলেও চূড়ান্তভাবে দরপত্রে মোট তিনটি সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ফ্রান্সভিত্তিক সেলফ স্মার্টকার্ডস অ্যান্ড সলিউশনস রেসপন্সিভ হয়। অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ার মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়ার প্রিসটাকান ন্যাশনাল মালায়েশিয়া বারহাডের দরপত্র নন-রেসপন্সিভ হয়। দরপত্র নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়, রেসপন্সিভ প্রতিষ্ঠান সেলফ স্মার্ট কার্ডস অ্যান্ড সলিউশনস দরপত্রে তাদের মানদণ্ডের যে সনদ দাখিল করে তা ঠিক নয়। দরপত্রে ওয়ারেন্টি ১০ বছর উল্লেখ থাকলেও প্রস্তাবে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে অথরাইজড সিগনেটরির পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এসব কারণ দেখিয়ে বিআরটিএ ক্রয় প্রস্তাবটি বাতিল করে পুনঃদরপত্রের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
ভোটযুদ্ধে দুই দল
শাকিল আহমেদ ॥ নতুন বছরে ঢাকায় ভোটযুদ্ধে নামছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে এক হাজার প্রার্থী নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামীকালই জানা যাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ে কারা থাকছেন। নির্বাচনে লড়তে শুধু মেয়র প্রার্থীই নয়, কাউন্সিলর পদেও দলীয় প্রার্থী সমর্থন দিয়েছে দুই দল। সরকার গঠনের পর একবছর স্বস্তিতে পার করা আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ হলেও জয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামবেন তারা। অন্যদিকে নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করে আসা বিএনপি বলছে, নির্বাচন সুুষ্ঠু হলে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। ভোটের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানীর মানুষ জবাব দেবে। গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ছিল উৎসব মুখর। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। আগামী ১০ই জানুয়ারি প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই জমে উঠবে প্রচারণা।
নৌকা-ধানের শীষের ভোটের লড়াই। মনোনয়ন দাখিলের শেষদিন পর্যন্ত দুই সিটিতে মোট মনোনয়ন ফরম বিতরণ হয় ২ হাজার ২৬০টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০টি মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। আগামী ২রা জানুয়ারি দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। গতকাল মনোনয়ন দাখিলের শেষদিন হওয়ায় সকাল থেকেই দলীয় সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন দাখিল করতে আসেন প্রর্থীরা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেমের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর আতিকুল সাংবাদিকদের বলেন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে তার আশা। নির্বাচনে হার-জিত আছে। কেউ যেন মাঝপথে নির্বাচন বর্জন না করেন। নির্বাচন কমিশনের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আতিকুল বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আমরা পাঁচজনই এসেছি। বাইরে কোনো শোভাযাত্রা হয়নি। স্লোগান যখন হয়েছে, তখন বন্ধ করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছেন। তাই ভিড় হতে পারে। এদিকে বেলা সোয়া ১২টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে রাজধানীর গোপীবাগের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেনের হাতে মনোনয়ন জমা দেন তাপস। এসময় আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন আবদুল বাতেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাপসের সহযোগিতাও চান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম, যুগলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহম্মদ মন্নাফি প্রমুখ নেতারা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাপস। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকেই ঢাকা দক্ষিণে পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে। এ নগরীতে অনেক কাজ বা নাগরিক সেবা বাকি আছে। নির্বাচিত হলে নাগরিকদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। ক্রমান্বয়ে নগরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা হবে। একই দিন মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এসময় তিনি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞদের এনে ঢাকা শহরের উন্নয়ন করা কোনো ব্যাপারই ছিল না। গত ১২ বছরে যে অর্থ পাচার হয়েছে সেই অর্থ যদি দেশের অর্থনীতিতে থাকতো তাহলে শুধু ঢাকা নয় বাকি মেট্রোপলিটন সিটি আজ উন্নত শহর হতো। দুপুর দুইটায় উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, একটা বিতর্কিত নির্বাচন অতীতে হয়েছে। আর বিতর্ক না বাড়িয়ে ইভিএমে নির্বাচন করা যাবে না। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে কিনা, এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। নির্বাচনে যত সমস্যাই আসুক, আমরা সবগুলোকে অতিক্রম করে চেষ্টা করব, এগিয়ে যেতে। শেষ পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।
দুই সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১৮ জন প্রর্থী। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬৭ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার ৮৭৫ জন প্রার্থী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ৮ জন প্রার্থী। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ১৯০ ও সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ৪৭ জন। এতে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে হাজী মো. সেলিম ছাড়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৭ জন মেয়র প্রার্থী। সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৯৯ জন ও সাধারণ ওয়ার্ডে জমা দিয়েছেন ৪৫৪ জনসহ মোট ৫৬০ জন প্রার্থী। দক্ষিণে মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শেখ ফজলে নুর তাপস (আওয়ামী লীগ), ইশরাক হোসেন (বিএনপি), মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (জাতীয় পার্টি), হাজী মো. সেলিম (স্বতন্ত্র), আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা (বাংলাদেশ কংগ্রেস), আবদুর রহমান (ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ), মো.বাহরানে সুলতান বাহার (পিডিপি), আবাদুস সামাদ সুজন ( স্বতন্ত্র)। এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় মেয়র পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ১০ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮২৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৭৭ জন প্রর্থী। ডিএনসিসিতে মোট প্রার্থী ১ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে কাজী মো. শহীদুল্লা (গণফ্রন্ট), সালাউদ্দিন মাহমুদ (আওয়ামী লীগ), স্বাধীন আক্তার আইরিন (স্বতন্ত্র) এই তিন জন বাদে বাকি ৭ জনই তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮৯ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৪ জনসহ মোট ৪৭০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছে। উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন যে ১০ প্রার্থী তারা হলেন মো. আতিকুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ), তাবিথ আউয়াল (বিএনপি), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (গণফ্রন্ট), জিএম কামরুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), সালাউদ্দিন মাহমুদ (স্বতন্ত্র), শেখ মো. ফজলে বারি মাসউদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), শাহীন খান (পিডিপি) মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান (এনপিপি), আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক (বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি) ও স্বাধীন আক্তার আইরিন (স্বতন্ত্র)। ঢাকা দুই সিটিকে বিভক্তির পর প্রথমবার সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল। তখন দুই সিটি নির্বাচনে মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ২০ জন প্রার্থী, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৯১ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন। সে সময় ঢাকা দক্ষিণে মোট সংরক্ষিত ওয়ার্ড ছিলো ১৯টি ও সাধারণ ওয়ার্ড ছিলো ৫৭ টি। মোট ভোটার ছিলো ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৩ জন। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৬ জন প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২৮০ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন। সে সময় উত্তরে মোট সংরক্ষিত ওয়ার্ড ছিলো ১২ টি ও সাধারণ ওয়ার্ড ছিলো ৩৬ টি। মোট ভোটার ছিলো ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। এবারই প্রথম নতুন ওয়ার্ডসহ দুই সিটিতে এক সাথে অর্ধকোটি ভোটারের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার ঢাকার দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৩ হাজার ১০৯ জন। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৪৬৯ টি ও মোট ভোটকক্ষ ১৩ হাজার ৫১৪ টি।
প্রতিদিন দু’জন বাংলাদেশি মারা যান মালয়েশিয়ায়
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মালয়েশিয়ায় প্রতিদিন দু’জন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যান। ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আটক কেন্দ্রে মোট ১৫১ জন বিদেশি শ্রমিক মারা গেছেন। এ খবর দিয়েছে, সিঙ্গাপুরের দি ইন্ডিপেনডেন্ট। পত্রিকাটির সাংবাদিক ভেরোনিকা করদোভা গতকাল প্রকাশিত খবরে লিখেছেন কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ৩৯৩ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন। বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর। মৃত্যুর সনদপত্রগুলোতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক। ৩০শে ডিসেম্বর মালয়েশীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের লিখিত জবাব অনুসারে চলতি বছরের ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৫১। পেটালিং জয়া এলাকা থেকে নির্বাচিত এমপি মারিয়া চিন আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘হাসপাতাল কর্তৃক চিহ্নিত মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস সংক্রমণ, হার্টের জটিলতা, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য।’ আটককৃতদের মধ্যে বেশি সংখ্যক লোকের মৃত্যুর কারণ কী তা মন্ত্রণালয় আরো বিস্তারিত জানাতে পারেনি। সংসদ আরো জানতে পেরেছিল যে, গত বছর এসব কেন্দ্রে ১৮ বছরের কম বয়সী ১৭৬৩ শিশুকে আটক করা হয়েছিল। এই বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত শিশু অন্তরীণের সংখ্যাটি ১৯৪৭ ছিল। মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের নিয়মিত স্রোত রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই বেআইনিভাবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন।
গত সেপ্টেম্বরে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল যে, গত ছয় বছরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছিল। ২০১৮ সাল পর্যন্ত হিসেবে মালয়েশিয়াকিনি নামের সংস্থাটির প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে দুই জন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যান। সিঙ্গাপুরের দি ইন্ডিপেন্ডেট জানায়, আরো একটি বড় উদঘাটন ২০১৫ সালে দেশকে হতবাক করেছিল। সে বছর মে মাসে মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা থাইল্যান্ডের সাথে দেশের উত্তরের সীমানা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ২৮টি সন্দেহভাজন মানব পাচার শিবিরের সন্ধান পেয়েছে। সীমান্তে একাধিক গণকবর এবং সন্দেহভাজন মানব পাচার শিবিরের রিপোর্টের পরে এই আবিষ্কার করা হয়। তৎকালীন জাতীয় পুলিশ প্রধান জনাব খালিদ আবু বকর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ১৩৯ টি কবর আবিষ্কার করেছিলাম।
বিদায়ী বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ৩৮৮, ধর্ষণ ১৪১৩ : আসকের প্রতিবেদন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিদায়ী বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৮৮ জন। ১৪১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৫৮ জন নারী। এদের মধ্যে উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৮ নারী। এছাড়া নির্যাতনে ৪৮৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের এক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ-২০১৯’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
আসকের মহাসচিব তাহমিনা রহমান প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, মানবাধিকারের প্রধান দুটি সূচকের একটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় অগ্রগতি অব্যাহত থাকলেও মানবাধিকারের আরেকটি সূচক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। ২০১৯ সালে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে দিয়ে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকসহ অনেক সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, এ বছর রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা অপেক্ষাকৃত কম ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বরাবরের মতোই নাজুক। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ছেলেধরা গুজবকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন অনেক নিরীহ মানুষ।
আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বছরের বিভিন্ন সময়। এছাড়া সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য জাতিসত্বার ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করা গেছে। ২০১৮ সালের ৯ই মার্চ মাদকবিরোধী এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্রসফায়ার নয়, আত্মরক্ষার খাতিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছোড়ে। যা প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। বিগত বছরের মধ্যে এ বছরেও চিকিৎসা ক্ষত্রে অব্যবস্থাপনাসহ চিকিৎসক ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, ত্রুটি এবং চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর ভোগান্তি ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রগুলোর চলতি বছরের পর্যালোচনায় আসক বলছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হয়নি। উল্টো সরকারের পক্ষ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো অস্বীকার করা হয়েছে। লিখিত প্রতিবেদনে আসক বলছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৮৮ জনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ৩৫৬ জন আর মাদক বিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। এ ছাড়া, চলতি বছর আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আসক বলেছে, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা এসেছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দ্বারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হকসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২৮ জনকে নির্যাতনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। চলতি বছর আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড।
আসকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নিনা গোস্বামী প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান ২০১৯ সালে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে গ্রেপ্তারের পর ১৪ জন মারা যান। গ্রেপ্তারের আগে নির্যাতনে মারা যান ৬ জন এবং গুলিতে নিহত হয়েছেন আরো ১২ জন। অন্যদিকে এ বছর দেশের কারাগারগুলোতে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৫৮জন। এ বছর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৩৭ জন এবং তাদের শারীরিক নির্যাতনের কারণে ৬ জনসহ মোট ৪৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছে। ২০১৮ সালে এ ক্ষেত্রে মোট নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪ জন। এ বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ১৩ জন অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ৫ জনের সন্ধান পাওয়া গেলেও বাকি ৮ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানায় আসক।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৪১৩ টি। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ নারী। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৮১৮।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, এ বছর নারী উত্ত্যক্তকরণ যৌন হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। ২০১৯ সালে ২৫৮ জন নারী যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৪ পুরুষ। উত্ত্যক্তের কারণে ১৮ নারী আত্মহত্যা করেছেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে চার নারীসহ ১৭ জন খুন হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে বলে এ প্রতিবেদনে বলা হয়। ২০১৮ সালে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল ১৭০ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিখোঁজের পর মোট ৪৮৭ শিশু নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৪১৯টি। বছর জুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বাধা এসেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। এছাড়া এ বছর ১৪২ জন সাংবাদিক শারীরিক নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আর বছরের মাঝামাঝিতে ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে’ গুজব ছড়ানো হয়। হঠাৎ করে ছেলে ধরা আতঙ্কের মধ্যে নিরহ মানুষদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ বছর গণপিটুনিতে ৬৫ জন মারা যান। এসব বিষয় তুলে ধরে আসক সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশও করেছে। এগুলো হল- এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কাজ করতে সরকারকে সহযোগিতার করার সুপারিশ করা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন স্বাধীনভাবে তাদের ম্যান্ডেট বাস্তাবায়ন করতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা ও গুরুত্বারোপ করা হয়।










