পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিবর্তনের’ হাওয়া; প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূলকে পেছনে ফেলে জয়ের পথে বিজেপি

0
বঙ্গ রাজনীতিতে মেরুকরণ: দক্ষিণবঙ্গেও বিজেপির থাবা, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে চাপে তৃণমূল ।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার শুরুতেই পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ২৯৩টি আসনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে গেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের শক্তিশালী অবস্থানের পাশাপাশি এবার দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলের দুর্গেও বড় ধরনের ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির।

২০২১ বা ২০২৪-এর নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ বিজেপির প্রধান শক্তিকেন্দ্র থাকলেও এবারের লড়াই ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। গতবার কলকাতা, হাওড়া ও পূর্ব বর্ধমানে বিজেপি প্রায় শূন্য থাকলেও এবার এসব জেলায় তারা অভাবনীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে হুগলি, দুই মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানের সব কটি আসনে বিজেপির অগ্রগতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। হেভিওয়েট আসন নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদীয়ায় মতুয়া ভোট ব্যাংক নাগরিকত্বের প্রশ্নে আবারও বিজেপির ওপরই আস্থা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের অতি তৎপরতা, আড়াই লক্ষাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার (এসআইআর) প্রভাব সরাসরি ব্যালট বক্সে পড়েছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের ‘বাঙালি জাত্যাভিমান’ বনাম ‘বহিরাগত’ আখ্যান ভোটারদের বড় অংশ গ্রহণ করেনি। ১৫ বছরের অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি এবং বিজেপির ‘ডোল’ রাজনীতির পাল্টা প্রচারে কেল্লা ফতের পথে এগিয়ে চলেছে বিজেপি। দুপুর ১২টা বাজতেই রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির উৎসবে মেতেছেন বিজেপি কর্মীরা।