স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের চুড়িপট্টি হাজি আব্দুল করিম রোডের ‘এ রহিম ট্রের্ডাস’ এর স্বত্বাধিকারী মরহুম শেখ আব্দুর রহিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্যবসায়ী শেখ আব্দুর রউফ বাচ্চুর সহধর্মিণী মাছলিমা খাতুন ইন্তিকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ব্রেনস্ট্রোক করে ঢাকার নিউরো সাইন্স হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ১১ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্বামী, ২ পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর যশোর শহরের চৌরাস্তায় কোতয়ালি জামে মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে একই মসজিদে এদিন সকাল ৮ টার দিকে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জুবায়েদ তৌফিক সিদ্দিকী শাহীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকেলে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জানাজা শেষে তাঁকে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহী যশোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা যশোর জেলা বিএনপির সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কোতয়ালি জামে মসজিদের সাবেক মুতাওয়াল্লি শেখ ফারুক সিদ্দিকীর পুত্র। মাছলিমা খাতুন ও জুবায়েদ তৌফিক সিদ্দিকী শাহী উভয়ের নামাজে জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ স্থানীয় বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি শরিক হয়েছিলেন।
শহরের চুড়িপট্টির ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের সহধর্মিণীর ইন্তিকাল
ক্যারাম খেলা নিয়ে খুন
বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের চিতলমারীতে ক্যারাম খেলাকে নিয়ে বিরোধে শহিদ শেখ (৩৫) নামের এক দিনমজুর খুন হয়েছেন। এসময় তার ভাই সাহিদ শেখ (৩২) আহত হন। গতকাল মঙ্গলবার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদ ওই গ্রামের ফজলুল শেখের ছেলে। চিতলমারী থানা পুলিশের ওসি মীর শরিফুল হক বলেন, গত রোববার ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে গোলযোগে ুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শহিদ শেখের ক্যারাম বোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলেন প্রতিবেশী লুৎফর ও তার লোকজন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে গতকাল বেলা ১২ টার দিকে পুনরায় বাকবিতন্ডা হয়। পরে লুৎফরের লোকজনের হামলায় শহিদ শেখ ও তার ভাই সাহিদ শেখ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিতলমারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদ শেখকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে আহত সাহিদ শেখকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খুনের এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ধান সংগ্রহে রামপালে কৃষকদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ রামপালে প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্তকরণে নানা অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকৃত কৃষকরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। একাধিক সূত্র মতে, সরকারিভাবে আমন ধান সংগ্রহের ল্েয প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের কথা। এজন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় রামপাল উপজেলার সদর ইউনিয়নে তালিকা চুড়ান্তকরণ ও লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের ল্েয কৃষকদের ডাকা হয়। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানষ কুমার দাস ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে তড়িঘড়ি করে একটি ত্র“টিপূর্ণ তালিকা তৈরি করেন। এতে স্থানীয় কৃষক ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ পরিষদের সদস্যরা চরম ােভ প্রকাশ করেন এবং প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের দাবি জানান। এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানষ কুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। অভিযোগের বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামিল হাসান জামু জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়সারা গোছের কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মন্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করা হবে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ
আকরামুজ্জামান ॥ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ। ১৯৭৯ সালের এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ সারাদেশে নানা কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে। ছাত্রদলের ইতিহাস গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যে মন্ডিত। ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত দেশ ও জনগনের স্বার্থরক্ষার্থে প্রত্যেকটি আন্দোলনে এসংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। শহীদ জিয়ার নিজ হাতে গড়া এই ছাত্র সংগঠনটি তার সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ে ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে সুনাম অর্জন করেছে এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার আদর্শে চলা জনপ্রিয় এই ছাত্রসংগঠনটির সাথে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ল-কোটি ছাত্র-ছাত্রী জড়িত, যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে লালন করে।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রদলের জন্ম ছিল একটি অবশ্যম্ভাবী ঘটনা। দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রসমাজের দীর্ঘ দিনের গভীর প্রত্যাশাকে ধারণ করেই ছাত্রদলের উদ্ভব ও বিকাশ। ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করা হয় এমন এক সময় যখন ছাত্রসমাজের মধ্যে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ইস্যু, বিদেশি মতবাদ ইত্যাদি নিয়ে ঘাত-প্রতিঘাত ও বিশৃঙ্খলা লেগেই ছিল। বিশেষ করে ছাত্রলীগের তান্ডবে দেশের ছাত্র সমাজের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমে সাবেক মন্ত্রী আ স ম মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাত্রদলের দায়িত্ব দিলেন সাথে সহযোগী হিসাবে দিলেন এস এ বারী। ২৬ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভু তত্ত্বের তরুণ শিক ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেনকে বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করেন। এরপর থেকে সারাদেশে সংগঠনটি অতি জনপ্রিয় দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির ভিত্তি হবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ল্য হবে উৎপাদনমূখী শিা ব্যবস্থা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সুখী ও সসমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক বক্তব্য তৎকালীন ছাত্রসমাজের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ছাত্রদলের পতাকা তলে সমবেত হতে থাকে। বছর যেতে না যেতেই দেশের বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে এতদিনের বিরাজিত শূন্যতা পূরণের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আজ সে সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। যে উদ্দেশ্য সামনে রেখে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজ সে ল্যপূরণে ছাত্রদল পুরোপুরি সফল হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় যশোরেও নানা কর্মসূচি গ্রহন করেছে যশোর জেলা ছাত্রদল।
প্রাথমিক সমাপনীতে যমজ তিন বোনের কৃতিত্ব
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নওমী নাজ, অদ্রিকা নাজ ও মৃত্তিকা নাজ যমজ তিন বোন। এবছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) অংশ নিয়ে তারা জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা যশোর নবকিশলয় প্রিক্যাডেট স্কুল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ করে। যমজ এ তিন বোনের বাবা হাবিবুর রহমান ও মাতা নাসিমা খাতুন। বর্তমান যশোর শহরের শঙ্করপুর চোপদার পাড়ায় বসবাস করছেন তারা। নওমী, আদ্রিকা ও মৃত্তিকার ভবিষ্যত সফলতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।
চৌগাছায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা নিলেন ১০ হাজার রোগী
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় ঢাকাস্থ চৌগাছা সমিতির উদ্যোগে দু দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প শেষ হয়েছে। গত সোমবার ক্যাম্প শুরু হয়ে তা মঙ্গলবার শেষ হয়। দুদিনে চৌগাছা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ১০ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ জানিয়েছে। রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি পেয়েছেন ফ্রি ওষুধ। এ ধরনের সেবা কার্যক্রম চলমান রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী, তাদের স্বজনসহ এলাকাবাসী। সূত্র জানায়, চৌগাছার কৃতি সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকাস্থ চৌগাছা সমিতি একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গত সোমবার থেকে মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ মাঠে ক্যাম্প করে এ অঞ্চলের হাজার হাজার রোগীকে সেবা প্রদান হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগী দেখেন। সোমবার সকাল নয়টায় কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মঙ্গলবার খুব সকাল থেকেই পুনরায় রোগী দেখতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। এদিনও সকাল থেকে রোগীর উপচে পড়া ভিড় ল্য করা যায় কলেজ ক্যাম্পাসে। রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রায় দু শ স্বেচ্ছাসেবককে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে। দুদিনের এ ক্যাম্পে প্রায় ১০ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন, পেয়েছেন ফ্রি ওষুধ। সেবা নিতে আসা চৌগাছা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোবারক হোসেন জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে আছেন। হৃদরোগের কারণে তার শরীরের একাংশ অচল হয়ে গেছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। সেবা পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। এ ধরনের ক্যাম্প অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি। পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলা থেকে সেবা নিতে আসা ময়না বেগম জানান, মাথা ব্যথা আর শরীর অবশ হওয়া রোগে তিনি দীর্ঘদিন ভুগছেন। অনেক কষ্ট হলেও শেষমেষ তিনি ডাক্তারের সাাত পেয়েছেন। ডাক্তার খুব ভালো করে তার কথা শুনে ব্যবস্থাপত্র ও ফ্রি ওষুধ দিয়েছেন। আড়পাড়া গ্রামের আরজিনা খাতুন জানান, অল্প কাজ করলেও শুধু হাঁফ লাগে, যে কারণে কোন কাজ শেষ করতে পারিনা। এখানে ডাক্তার দেখিয়ে খুব ভাল লাগছে। ডাক্তার সাহেব খুব ভালো করে দেখেছেন, আবার ওষুধও দিয়েছেন। শেষদিনে সমিতির সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (এলপিআর) মুহম্মদ হাবিবুর রহমান খাঁন, সাধারণ সম্পাদক যুগ্ম সচিব এম ইদ্রিস সিদ্দিকী, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের অধ্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. এম মোস্তানিছুর রহমান, পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ক্যাম্প অবস্থান করেন এবং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন সেবা নিতে আসা এ জনপদের হাজারো মানুষসহ এলাকাবাসী।
বিদায়ী বছরে ধর্ষণ বেড়ে দ্বিগুণ: আসক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য মতে, এ বছর বাংলাদেশে এক হাজার ৪১৩ জন নারী ধর্ষিত হয়েছেন। আর ৩৮৮ জন মানুষ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ‘ শিকার হয়েছেন। এ বছর গুমের অভিযোগের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও বছরজুড়ে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক ছিল’ বলে আসকের অভিমত। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মধ্যে নারী ধর্ষণ, দলবেঁধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হতাহতের বহু ঘটনা ঘটেছে। আর বছরের মাঝামঝিতে এসে ‘ছেলেধরা’ গুজবে গণপিটুনিতে অনেক নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস কাবে ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতি-২০১৯: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যবেণ’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন আসক কর্মকর্তারা।
আসকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নিনা গোস্বামী প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও দলবেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ নারী এবং ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮১৮। এ বছর নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও যৌন হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে বলে আসকের পরিসংখ্যান। তারা বলছে, ২০১৯ সালে ২৫৮ জন নারী যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৪ পুরুষ। উত্ত্যক্তের কারণে ১৮ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে চার নারীসহ ১৭ জন খুন হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ বছর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিখোঁজের পর মোট ৪৮৭টি শিশু নিহত হয়েছে, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪১৯টি। ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হওয়ার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০১৮ সালের ৯ মার্চ মাদকবিরোধী এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আত্মরার খাতিরেই আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী গুলি ছোড়ে। যা প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে এ বছর ১৮৭ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০১৯ সালে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে ১৪ জন মারা যান। গ্রেপ্তারের আগে নির্যাতনে মারা যান ছয়জন এবং গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও ১২জন। “এ বছর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৩৭ জন এবং তাদের শারীরিক নির্যাতনের কারেণ ছয় জনসহ মোট ৪৩ জন মারা গেছেন।” এ বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ১৩ জন অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তিতে পাঁচজনের সন্ধান পাওয়া গেলেও বাকি আটজন এখনও নিখোঁজ বলে আসকের ভাষ্য। বছরজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ‘বাঁধা এসেছে’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া এ বছর ১৪২ জন সাংবাদিক শারীরিক নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে এ বছর দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ৭২টি প্রতীমা ভাংচুর, হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে আহত হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫১ জন ব্যক্তি। আর বছরের মাঝামাঝিতে ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে’ গুজব ছড়ানো হয়। হঠাৎ করে ছেলে ধরা আতঙ্কের মধ্যে নিরীহ মানুষদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ বছর গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৬৫ জন। এসব বিষয় তুলে ধরে আসক সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশও করেছে। এগুলো হল- এ পর্যন্ত সংঘটিত সব গুম, অপহরণ ও ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকণ্ডের’ অভিযোগ তদন্তে নিরপে কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ল্য অর্জনে কাজ করতে সহযোগিতা দিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আসকের মহাসচিব আহমিনা রহমান, নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পাইকগাছায় অনার্স পড়–য়া অভিমানী ছাত্রীর আত্মহত্যা
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্রী পূজা রাণী (২২) আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বসতঘরের সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার নিকট আত্মীয় মানস কান্তি ঘোষ জানান, পূজা তার মায়ের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। থানায় এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সে হরিঢালী গ্রামের মৃণাল কান্তি ঘোষের মেয়ে। মৃণাল ঘোষ কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে মৃত সৃষ্টি ময়রার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাইকগাছায় মৎস্যআড়ত বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছায় অবৈধ নতুন মৎস্যআড়ৎ বন্ধের দাবিতে পাইকগাছা মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির নেতৃত্বে ২২ ব্যবসায়ী সংগঠন মানববন্ধন করেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার সরদার। এ সময় বক্তব্য রাখেন ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন ইকবাল, দাউদ শরীফ, বিপ্লব দাশ, শুভংকর শীল, উত্তম কুমার সাধু, মনোহর রঞ্জন সানা, শহিদুল ইসলাম খোকন, আসলাম পারভেজ প্রমুখ।
পাইকগাছায় ৯০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ৯০ পিস ইয়াবাসহ অভিজিত নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। সে উপজেলার পাটনিখালী গ্রামের শংকর ঢালীর ছেলে। থানার এসআই পলাশ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় অভিজিতের চলাফেরা সন্দেহজনক হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে এ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।










