লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পরমযোগী গ্রহ শনি মহারাজ, দেবগুরু বৃহস্পতি ও প্রেমের দেবতা শুক্রাচার্যের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে মীন রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। ভাইবোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহবিবাদের মীমাংসা হওয়ায় গোটা পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জন করা শ্রেয় হবে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা কর্মে হয়রানিমূলক দূরবদলি অপরদিকে দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার সমান হবে। বাড়ির ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বৈদ্যুতিক মিটার জলের কল আসবাবপত্র ও যানবাহন মেরামতে শ্রম অর্থ দুটোই ব্যয় হবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। যার ফলে আপনাকে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতে হবে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] কর্ম অর্থ মোক্ষ সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিদেশগমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দুটোই সমানতালে শুভফল প্রদান করবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহকার্য সুসম্পন্ন হবে তথা ওই বিবাহে প্রচুর উপার-উপঢৌকনও প্রাপ্ত হবেন।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] ভাগ্যলক্ষ্মী প্রসন্ন হওয়ায় সফলতা আপনার চরণ স্পর্শ করবে। নিত্যনতুন স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। আজকের রোপণ করা বৃক্ষ ভবিষ্যতে ফুলফল ও সংকটকালে ছায়া দিয়ে বাঁচাবে। প্রেমিকযুগলের প্রেম বিবাহের মাধ্যমে সমাজে স্বীকৃতি পাবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ক্রয়-বিক্রয় অস্ত্রশস্ত্র বহন ও অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা সমীচীন হবে। অবশ্য সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে। লৌকিকতায় যেমন ব্যয় হবে তেমনি উপহারপ্রাপ্ত হবেন।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] বিবাহযোগ্যদের বিবাহ প্রেমিকযুগলের প্রেমের স্বীকৃতি এমনকি সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। সপরিবারে কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষ আপনার উন্নয়ন ও প্রভাব-প্রতিপত্তির বাড়বাড়ন্ত দেখে পিছু হটতে বাধ্য হবে। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝামেলার অবসান ঘটবে। লটারি ফাটকা জুয়া রেশ শেয়ার হাউজিং এড়িয়ে চলার আবশ্যকতা রয়েছে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] হাত বাড়ালেই সফলতাপ্রাপ্ত হবেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম ফুলেফেঁপে উঠবে। জীবনসাথী শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। জীবনসাথী শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জনীয়।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে। আয় বুঝে ব্যয় করুন নচেৎ সঞ্চয়ে হাত পড়বে। পরিবারের কোনো বয়স্ক লোকের শরীর-স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ায় তাদের নিয়ে হাসপাতালে চক্কর কাটতে হবে। এতদসত্ত্বেও মন সুর সংগীত ধর্ম আধ্যাত্মিকতা ও পরোকপারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] ধন উপার্জনের সব পথ খুলে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণমুক্তি শুধু নয়, সঞ্চয় হবে প্রচুর। শিক্ষার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা প্রাপ্ত হবেন।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষের সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে আপনি দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলবেন। প্রেম রোমান্স বিনোদন ভ্রমণ বিবাহ বিনিয়োগ বন্ধুত্ব শুভ তথা সুদূরপ্রসারী হবে।
আজকের রাশিফল
বিমানবন্দরে ভিআইপি কারা?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য পৃথক লাউঞ্জ রয়েছে। কারা এসব লাউঞ্জ ব্যবহার করবেন তার নির্দেশনাও রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু শাহজালালে এসব নিয়ম আর নির্দেশনা উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধতনদের ভিআইপি সুবিধা নেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এমন ‘ভিআইপিদের’ আনাগোনায় আসল ভিআইপিদেরও অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অনৈতিকভাবে যারা ভিআইপি সুবিধা নেন তাদের দাপটে বিমানবন্দর কর্মকর্তারাও অনেক সময় অসহায় বোধ করেন। গুরুতর অপরাধকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা এই সুবিধা নেয়ার তথ্য প্রকাশ হওয়ায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এও বলেছেন, নিয়ম না মানলে ‘ভিআইপিদের’ বিমানে চড়াই বন্ধ হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন বিমানবন্দরের সরজমিন তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১ টা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরগামী একটি ফ্লাইট ধরতে এক ব্যক্তি তার এক সহকর্মীকে নিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ চামেলীতে প্রবেশ করেন। চামেলী দিয়ে একুশে পদক পাওয়া ব্যক্তি, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিদেশ যাওয়া ব্যক্তিরা প্রবেশ করেন। সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। তিনি নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নেতার ভাই বলে পরিচয় দেন। তার পরিচয় পাওয়ার পর কর্তব্যরত কর্মকর্তারা তাকে জানান যে, এই লাউঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি নেই তার। এ কথা শুনে ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। বিভিন্নস্থানে ফোন দেয়া শুরু করেন। বাধ্য হয়ে ওই কর্মকর্তা তাকে আর কোন কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যান। বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের দাবি প্রায় প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাদের। ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একাধিকবার নির্দেশনা প্রদান করলেও কথিত ভিআইপিদের কাছে তা গুরুত্বহীন।
শাহজালালের চামেলী লাউঞ্জ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সমাট্র। ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেপ্তার এই নেতা কাড়ি কাড়ি ডলার নিয়ে সিঙ্গাপুরে যেতেন ক্যাসিনো খেলতে। তিনি ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতেন। বছরের পর বছর তিনি এ সুযোগ নিয়ে আসলেও তা প্রকাশ পায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর। নানা অপরাধকাণ্ডে জড়িত এমন অনেকে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বিভিন্ন মাধ্যমে এ তথ্য সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি তিনি বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। সর্বশেষ বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কড়া বার্তা দেন। এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ কাপ্টেন তৌহিদুল আহসান মানবজমিনকে জানান, ‘ভিআইপি লাউঞ্জের নিরাপত্তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। প্রটোকলের বাইরে যাতে কেউ ওই লাউঞ্জ ব্যবহার করতে না পারে সেইক্ষেত্রে দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা।
বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রের ভিআইপিরাই মূলত বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন। অন্য কারও ব্যবহার করার এখতিয়ার নেই। শাহাজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ মূলত ৪ টি। সেগুলো হলো, রজনীগন্ধা, বকুল, দোলনচাপা ও চামেলী। রজনীগন্ধা রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ ভিআইপিরা ব্যবহার করেন। আর বকুল ব্যবহার করেন এডিশানাল সেক্রেটারি পদদারি ও সমমর্যাদার ব্যক্তিরা। এছাড়াও দোলনচাপা ব্যবহার করেন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, চ্যামেলী ব্যবহার করেন একুশে পদক পাওয়া ব্যক্তি, সংবাদপত্রের এডিটর ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিদেশ ভ্রমণরত বেসরকারি কর্মকর্তাগণ। কিন্তু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিমানবন্দরের নিয়ম না মেনে নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই প্রবেশ, শরীর ও ব্যাগ তল্লাশিতে বাঁধা, অস্ত্র বহনের নিয়ম না মানা, অতিরিক্ত দর্শনার্থী নিয়ে প্রবেশসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসহযোগিতা করেন ভিআইপিরা। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বিমানবন্দরের। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হলেও মানা হয় না নির্দিষ্ট নিয়মনীতি। বিমানবন্দরের ভিআইপি নীতিমালা অনুযায়ি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গমন ও প্রত্যাবর্তনের সময় সংবর্ধনা দেয়ার জন্য দুইজন দর্শনার্থীকে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সরজমিনে দেখা গেছে, ভিআইপিরা তাদের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে ভেতরে নিয়ে যান। আর রাজনৈতিক দলের নেতা হলে তারা অনেক নেতাকর্মী নিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই অতিরিক্ত লোকজন ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ নষ্ট করে। নিয়ম অনুযায়ী দর্শনার্থীদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা আগেই বিমানবন্দরের পরিচালককে অবহিত করতে হবে। ভিআইপি লাউঞ্জের স্বাভাবিক পরিবেশ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন কোনও ব্যক্তিকে দর্শনার্থী হিসেবে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ না দেয়ার বিষয়টি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে অগ্রাধিকার পাওয়া ব্যক্তিরা নিজের ভ্রমণ ছাড়াও বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ ও জামাতাকে যাত্রী হিসেবে বিদায় বা অভ্যর্থনা দেয়ার সময় ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন।
সূত্র জানায়, যারা অবৈধভাবে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে থাকেন তারা নিজেরা অধিকাংশ সময় ক্ষমতাসীন লোকজনের আত্মীয় বা একান্ত কাছের ঘনিষ্ট বলে দাবি করেন। কর্তৃপক্ষ যদি তার কাছে পরিচয় জানতে চান তাহলে তাদের লোকজনকে সরাসরি ফোন কলে ধরিয়ে দেন। সূত্র জানায়, ভিআইপি লাউঞ্জ অপব্যবহারে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছেন সিনেমা পাড়ার অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা। তাদের সেখানে ঢুকতে না দিলে তারা সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিদের কাছে ফোনে নালিশ করেন বা অভিযোগ দেন। বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা তাদের সুযোগ দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভিআইপি টার্মিনালের দায়িত্্বরত একজন কর্মকর্তা জানান, ভিআইপি না হয়েও অনেকেই ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। এতে নানা সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। কিন্তু, চাকুরির স্বার্থে তা সহ্য করতে হয়। এ ব্যাপারে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট প্রটোকল ছাড়া কেউ যদি ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে তাহলে এটি বিমানবন্দরের নীতিমালা লঙ্ঘন হবে।
সিদ্ধান্ত বদল, সীমান্তে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরছে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক কভারেজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দুই দিনের মাথায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি। বিটিআরসি থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর বুধবার সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক চালু করতে কাজ শুরু করেছে দেশের চার অপারেটর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক বন্ধে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, বুধবার (গতকাল) থেকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।” এর আগে গত রোববার রাতে বিটিআরসির নির্দেশনা পেয়ে সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। তাতে চার অপারেটরের প্রায় দুই হাজার বিটিএস বন্ধ করতে হয়েছে জানিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, এই পদক্ষেপের ফলে সমস্যায় পড়বে সীমান্ত এলাকার প্রায় কোটি গ্রাহক।
নতুন নির্দেশনা আসার পর অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বুধবার বলেন, “বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসারে আমরা ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকার বিটিএস সচল করার কাজ শুরু করেছি। যেহেতু এখানে অনেক বিটিএস জড়িত, সবগুলো একই সময়ে চালু করতে হয়ত একটু সময় লাগতে পারে।” সীমান্তে নেটওয়ার্ক বন্ধের কারণ বা দুই দিনের মাথায় তা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নেটওয়ার্ক বন্ধের কারণ জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সোমবার বলেছিলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে বিটিআরসি এ নির্দেশনা দিয়েছে।” তবে নাম প্রকাশ না করে দুই কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশমুখী অনুপ্রবেশ বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সীমান্তে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত এসেছিল।
নাগরিকত্ব আইন : বিকল্পপন্থা অবলম্বন করতে পারে ভারত
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যেসব রাজ্য নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি বা বিরোধিতা করেছে, সেখানে বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ওইসব রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পুরোপরি অনলাইনভিত্তিক করতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। খবরে বলা হয়, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে ভারতের বেশকিছু রাজ্যে বিরোধিতার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এটি বাস্তবায়নের জন্য অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্রগুলো বলেছে, এমন পরিকল্পনা করছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা মনে করছে, নাগরিকত্বের জন্য বর্তমান প্রক্রিয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম আছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বাতিল করে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে করার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আরো একধাপ এগিয়ে যেতে চায়। তাতে সব পর্যায়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের অবসানে সক্ষম হবে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানে উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাতিল করার দাবি সংবলিত একটি প্রস্তাব পাস করেছে কেরালা বিধানসভা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সংবিধানের ৭ম শিডিউলের অধীনে ইউনিয়ন লিস্ট হিসেবে নাগরিকত্ব আইন হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারগুলো এই আইন বাস্তবায়ন প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। সিএএ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নির্যাতিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যারা ভারতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন তাদেরকে এই আইনের অধীনে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কিন্তু কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরা এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলে দিয়েছেন তাদের রাজ্যে তারা এই আইন বাস্তবায়ন করবেন না। কারণ এই আইনটি ‘অসাংবিধানিক’। তাদের রাজ্যে এই আইনের কোনো স্থান নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আপনাদের (বিজেপি) ম্যানিফেস্টোতে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ইস্যুর পরিবর্তে দেশকে বিভক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হবে? এটা আমি মানবো না। আপনারা লোকসভা এবং রাজ্যসভায় জোর করে আইন পাস করে নিয়েছেন। কারণ, আপনাদের পাস করার মতো সদস্য ছিলেন। কিন্তু আমরা দেশকে ভাগ করতে দেবো না। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করার এখতিয়ার বা ক্ষমতা নেই কোনো বিধানসভার।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রক্ত দিয়ে গণস্বাক্ষর!
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যতীক্রমভাবে পালন করেছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একাংশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটা, শোভাযাত্রা কিংবা ভিন্ন ধর্মী আনন্দঘন কর্মসূচি থাকলেও এবার তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে গণস্বাক্ষর করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বুধবার জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে এক বিশাল মিছিল বের করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট অতিক্রম করে শায়েস্তানগরে দলীয় কার্যালয়ে সামনে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রক্তাক্ত গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সৈয়দ রুহুল আমিন জনি, জসিম মাহমুদ, যুগ্ম-সম্পাদক আহমেদ নিয়াজ, শাহ মুর্শেদ আলম, মারুফ আহমেদ, মহসিন আলী মিশু, রাজিব আহমেদ হৃদয়, মনিরুল ইসলাম মনি, এ.কে বদরুদ্দোজা রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মাজহারুল ইসলাম রাব্বি, আরিফ খান জয়, আমিনুল ইসলাম বাব্বি, আরিফিন আবিদাল রিয়াদ, নরুল আমিন নাছিম, সোহাগ আহমেদ, শাহ ইমন আলী, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ নেতা জুয়েল আহমেদ প্রমুখ।
ছাত্রদলের হাতে কোন সহপাঠী রক্তে রঞ্জিত হয়নি, আবরারের মতো জীবন দিতে হয়নি- অমিত
মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাত্র গণজমায়েতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক ছাত্র সংগঠন। তাদের রয়েছে সোনালী অতীত। কোন নেতা-কর্মীর দ্বারা সহপাঠী রক্তে রঞ্জিত হয়নি। কোন সহপাঠী শোষিত নির্যাতিত হয়নি। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরারের মতো কাউকে জীবন দিতে হয়নি। সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়নি। তারা বরাবরাই মেধার আলোয় বিকশিত হয়ে নির্যাতন নির্যাতিত, নিপীড়ন শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলে। বহুদলীয় গণতন্ত্র সামাজিক ন্যায়-বিচার শোষণহীন সমাজ, উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গণ গড়াই ছাত্রদলের মূল লক্ষ্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে বিএনপি কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত ছাত্র-গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, আজ যখন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তখন অবৈধ সরকারের মিথ্যা মামলার গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি। যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আপোষহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সরকারের দীর্ঘদিন ধরে তাকে কারাবন্দি করে রয়েছে। জনগণ এই অবৈধ সরকারের ভয়াল দুঃশাসন অপশাসনের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত চায়। তারা মনে করেন এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তিনি বলেন, নতুন বছরে উঠেছে নতুন সূর্য। এই বছরেই হবে অবৈধ সরকারের পতন। ছাত্রদল আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার এশাদ আর ওয়ান ইলেভেনের মঈন উদ্দীনের পতন ঘটিয়েছিল। নতুন বছরে স্বাধীনতার মহানায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী তাদের রহমানের ঘোষণায় ছাত্রদলের রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করবে। মুক্ত হবে দেশের গণতন্ত্র, প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন, সাম্য মানবাধিকর। বন্ধ হবে সীমান্ত হত্যা বিচার বহির্ভুত হত্যা। ছাত্র গণজহমায়েতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল বারী রবু, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শামসুন্নাহার পান্না, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বাবু, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান, জেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান বাবলু। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর রায়হান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর বিশ্বাস, মনিরামপুর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম রানা, কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজনু হুসাইন, যুগ্ম সম্পাদক বাবুল রানা, নওয়াপাড়া পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন, শার্শা উপজেলা ছাত্রদল নেতা খান মো. আলী রাজা, ছাত্রদল নেতা সোহেল আহমেদ, আজিম হোসেন, রনি ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে সকাল ৯টায় বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় কারবালা কবরস্থানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় নেতৃবৃন্দ প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও শহীদ ছাত্রনেতাদের কবর জিয়ারত করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দ দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
কূটনীতিতে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ দিয়ে শুরু ২০২০ সাল!
হাসান ইবনে হামিদ
২০১৯ সালের খতিয়ানটা উল্টালে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মাঝে যে চ্যালেঞ্জগুলো আমরা দেখি তার মধ্যে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অন্যতম। শুধু দুই দেশের সরকার না বরং জনগণের মাঝেও এক উদ্বেগ নিয়ে ২০২০ সালের আগমন ঘটেছে। বছরের একদম শেষপ্রান্তে এসে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় রেখা টেনে দিয়েছে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। এক ধরনের প্রকাশহীন অনুভূতির মাঝেই বছরের শেষ সময়টুকু পাড় করল এ দুই দেশ। কিন্তু বিদায়ী বছরের প্রায় পুরোটা সময় পূর্ববর্তী বছরের ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় ছিল।
২০০৯ সালের পর থেকে একের পর এক ঘটনা ও দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কের সমাধান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের দেশছাড়া করা, ট্রানজিট দেওয়া, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দিল্লির পাশে থাকা। অপরদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দিল্লি ঢাকার বাইরে না যাওয়া, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য পরিকাঠামো খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া এবং সবশেষে মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতের সাহায্য করার ইচ্ছে প্রকাশ করা এক ভিন্ন বার্তাই দেয়। কিন্তু সম্প্রতি এই সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়েছে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন!
ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার আসামে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) করেছে। বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে পাস করেছে। তারপর রাষ্ট্রপতি সই করায় বিলটি আইনে পরিণত হয়। ১৯ লাখ লোক কোনও কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তারা এনআরসি থেকে বাদ পড়ে গেলেন। এ আইন নিয়ে গোটা ভারতে তুলকালাম, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্দোলন এই ইস্যুতে হচ্ছে, যা এখনো চলমান। ফলে বাংলাদেশে নতুন করে অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন এ পরিস্থিতি বাংলাদেশ কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটি বিরাট এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে বছরের শেষভাগে নরেন্দ্র মোদির সরকার এনআরসি ইস্যুতে নতুন ঘোষণাও দিয়েছে। গত ২১ ডিসেম্বর সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায় থেকে জানানো হয়, নাগরিকত্ব প্রমাণে ভারতীয় নাগরিককে জন্মস্থান বা জন্ম তারিখ সংক্রান্ত প্রামাণ্য নথি অথবা একসঙ্গে দুটো জমা করালেই হবে। অন্যকোন তথ্য প্রমাণাদির দরকার নেই। ওই একটি বা দু’টি প্রামাণ্য নথিতেই বহু তথ্য থাকে, ফলে অন্য কোনও নথিপত্রের প্রয়োজন নেই। এখন দেখার বিষয়, এই ঘোষণার পর কতটুকু শান্ত হয় ভারত! কেননা ইতোমধ্যে এই এনআরসি ইস্যুতে এক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যা সরকার এবং জনগণের মাঝে এক দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে। তাই এই সম্পর্কের মাঝে দাঁড়ানো দেওয়াল ভাঙতে হলে ভারত সরকারকে আরও কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা জনগণের আস্থা অর্জনের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না!
এদিকে, কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে যে মন কষাকষি চলছিল তাতে ঘৃতাহুতি হয়েছে নয়া নাগরিকত্ব আইন পাস। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে এক বন্ধনীতে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার বার উল্লেখ, ফের ভারত থেকে শরণার্থী যাওয়ার আশঙ্কা, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কলকাতা সফরে কেন্দ্রের কোনও প্রতিনিধির না থাকা— সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা তীব্র হয়েছে। তার জেরে সম্প্রতি দু’জন বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করে দিয়েছে ঢাকা। এই অবস্থায় প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ভরসাযোগ্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের চলতি গ্রহণ-দশা কাটাতে, বাড়তি পদক্ষেপ করতে চাইছে সাউথ ব্লক। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মার্চে বাংলাদেশ সফর অবশ্যই সেই উদ্যোগের প্রধান বিষয় হিসেবে তারা দেখছেন। তাছাড়া কূটনীতিকরা বলছেন, হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে পরবর্তী বিদেশ সচিবের দায়িত্বে এনেও বাংলাদেশ-সহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে বার্তা দিতে চাইছে মোদি সরকার। বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হিসেবে আগে বিদেশ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন হর্ষবর্ধন। ঢাকায় শুধু ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বই সামলাননি, সে দেশে তার জনপ্রিয়তাও ছিল বিপুল। তাই কূটনীতিক ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা রাষ্ট্রচিন্তকরা হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে বিদেশ সচিবের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মান ভাঙাতে চাইছে ভারত। এমনটাই মনে করছেন তারা।
এটা সত্যি যে, ভারত-বাংলাদেশ ২০২০ সাল শুরু করতে যাচ্ছে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে। তার মধ্যে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন যে অন্যতম তা আগেই উল্লেখ করেছি। বাকি রইল তিস্তা। তিস্তা চুক্তি দুই দেশের প্রধান আলোচ্য বিষয়, এ নিয়ে জল বহুদূর গড়িয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিক থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারণে আটকে আছে তিস্তা তা কম বেশি সবারই জানা। ২০১৮ সালের ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী এক সমাবর্তনে অংশ নিয়ে সেখানে এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘অনেক অর্জনের মধ্যে কিছু বকেয়াও রয়েছে, যা উল্লেখ করে এমন সুন্দর অনুষ্ঠানের অঙ্গহানি করতে চাই না আমি!’ এই বক্তব্য কিসের ইঙ্গিত বহন করে তা পুরো সম্মেলনস্থলের সকলেই বুঝতে পেরেছিলেন! শুধু তাই না সেই সফরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিংয়েও এই তিস্তা নিয়ে খুঁনসুটি করতে ভুলেননি শেখ হাসিনা। মূলত খুব আন্তরিকতার সঙ্গেই প্রতিবারের আলোচনায় তিস্তা এসেছে পরোক্ষভাবে। তিস্তা নিয়ে উভয় দেশের আন্তরিকতার কোনও ঘাটতি নেই কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাংবিধানিক ক্ষমতা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতোই প্রকট যে প্রাদেশিক সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে তাদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে আমরা আশা রাখব এই জটিলতা কাটিয়ে ভারত সরকার দ্রুতই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিস্তা ছাড়াও অসংখ্য অমীমাংসিত বিষয় ছিল যা মীমাংসিত হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে এখনও দু’দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ঠিকমতো হয়ে উঠছে না। তবে উভয় দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েই সেই সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে চাইছে। ভারত-বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই পারে সকল সমস্যা সমাধান করতে। এই বিশ্বাস থেকেই ছিটমহল সমস্যা, সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ, অর্থনৈতিক ট্রানজিট বিরোধ, বন্দি বিনিময় চুক্তির কার্যকারিতা, সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়েছে।
মূলত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয় ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। এর আগে ভারত-বাংলাদেশ বন্দী বিনিময় চুক্তির কার্যকারিতা প্রত্যক্ষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। অবশেষে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম) শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়।
অর্থনৈতিক ট্রানজিট নিয়েও দু’দেশের মধ্যে শীতল একটা সম্পর্ক চলছিল। অবশেষে ট্রানজিট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুনভাবে মোড় নেয়। শুধু আর্থিকভাবে নয়, দীর্ঘ মেয়াদেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই ট্রানজিটের মাধ্যমে। তবে উভয় দেশকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যেন সন্ত্রাসীদের চারণভূমি না হয়ে উঠে এই ট্রানজিট করিডোর। দু’দেশের সম্পর্কের মাঝে বিষফোঁড়া হল সীমান্ত হত্যা, সীমান্ত হত্যা নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সীমান্ত হত্যা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই আছে। যেমন, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তকে বলা হয় মৃত্যুফাঁদ। কারণ পৃথিবীর সবচাইতে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে এই সীমান্তে। অতীতে যেখানে সীমান্ত হত্যা ছিল প্রতি বছরে প্রায় ১০০ এর উপরে বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০ এর নীচে। যাই হোক, কোনও হত্যাকাণ্ডই কাম্য নয় এবং এই সীমান্ত হত্যা বন্ধে দু’দেশকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই। উল্লেখ্য, পূর্বের যেকোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে এই সীমান্ত হত্যা অনেক কম। তবে এই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে হবে।
২০১৪ সালের ৮ জুলাই নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে। বাকি ছয় হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার পেয়েছে ভারত। এই রায়ে উভয় রাষ্ট্রই খুশি এবং দু’দেশই একে বিজয় হিসেবে দেখছে। এই বিজয় বন্ধুত্বের বিজয়, এই বিজয় বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের বিজয়। কেননা, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা, যা উভয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল, তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হল।
ছিটমহল সমস্যার সমাধান আসে ২০১৫ সালে। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট রাত ১২:০১ মিনিটে দুই দেশ ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আওতায় একে অন্যের অভ্যন্তরে থাকা নিজেদের ছিটমহলগুল পরস্পরের সঙ্গে বিনিময় করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল, ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (৭১১০ একর জমি) ভারতের অংশ হয়েছে। আর ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭,১৬০ একর জমি) বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সাবলীল সম্পর্ক ধরে রেখেই সমস্যার মূলোৎপাটন করেছে। বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে। এই সম্পর্ক এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে হাসিনা-মোদির হাত ধরে। একের পর এক দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান করেছেন তারা। তাই ২০১৯ সালের শেষভাগে এসে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে তা খুব একটা কাম্য নয়। বিগত দশ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে সে সূত্র ধরে এটা বলাই যায়, ২০২০ সাল এক নতুন উত্তাপে শুরু হলেও তা খুব একটা স্থায়ী হবে না। আমরা আশা রাখছি, এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে সকল জটিলতা খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠবে ভারত। ‘গণভবন’ থেকে ‘জনপথ রোড’ এর দূরত্ব আসবে কমে , নতুন বছরে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কের এক নব সূর্যের অপেক্ষায় আমরা!
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০
নড়াইল অফিস ॥ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু পরে সংঘর্ষে আসলাম গাজী (৩৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত আসলাম ওই গ্রামের ইদ্রিস গাজীর ছেলে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন নারীসহ ১০ জন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত আসলাম গাজীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান। কালিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকরাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, কালিয়ার চালিতাতলা গ্রামের কাদের মোলা ও ইদ্রিস গাজী সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলে আসছিল। এর জের ধরে বুধবার সকালে ওই গ্রামের খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয়পরে লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পরে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়। লাশের ময়না তদন্ত হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।বাকি আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসভবনে ছাত্রলীগের হামলা-ভাঙচুর
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পটুয়াখালীর বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা সড়কে অবস্থিত আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসভবন সুরাইয়া ভিলায় এ হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।
প্রত্যদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী রড, লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসভবন সুরাইয়া ভিলার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় তারা। জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনই আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পটুয়াখালীর বাসভবন সুরাইয়া ভিলার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাসভবনের ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র এবং জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করে তারা। ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম অভিযোগ করে বলেন, বাসভবনের ভেতরে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।
বাগদাদে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের মার্কিন দূতাবাস অবরোধের হুমকি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটিকে ঘিরে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দূতাবাসের চারপাশে তাঁবু খাটিয়েছেন এবং বলছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবরোধ উঠিয়ে নেবেন না। মঙ্গলবার এসব বিক্ষোভকারী মিছিল করে বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এ মার্কিন দূতাবাসের দিকে যায় এবং দূতাবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা দূতাবাসের একটি অংশে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকদিন আগে একটি আধা-সামরিক বাহিনীর ক’জন সদস্য মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাগদাদের পথে নামেন।
আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েকজন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা শোভাযাত্রাকারীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে গ্রিন জোনের দিকে যান। ওই এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ওই জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়। ইরান-সমর্থিত কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলা চলে গত রোববার। এতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা ঐ বিমান হামলা চালিয়েছেন। ওদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামিনি শিয়া আধাসামরিক বাহিনী কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে, একথা বলার পর খামিনি তার নিন্দা করেন।
ট্রাম্প টুইটারে এক পোস্টে লেখেন, যে কোন প্রাণহানি ও দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে।’ “এটা কোন সতর্কবাণী না, এটা একটা হুমকি,” তিনি মন্তব্য করেন। ওদিকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের ওপর ঢিল ছোঁড়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে, যে অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানিয়েছেন, আরও ৭৫০ জন মার্কিন সৈন্য সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫,০০০ সৈন্য মোতায়েন আছে। সূত্র: বিবিসি










