স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যশোরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এটি আরও জোরালো হয়ে আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে তাপমাত্রা কমে কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া অনুভূত হবে। এ অঞ্চলে দেখা দেবে আরও একটি শৈত্য প্রবাহ। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ভোর সকালের দিকে রেকর্ড করা হলেও বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি অনুভত হয়। সন্ধ্যার পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। তবে সেটি আজ ও কাল আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আওহায়া অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা জানান, ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি যশোরসহ দেশের কয়েটি জেলায় বৃষ্টি চলমান থাকবে। তবে যশোরের বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেলে ৬ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে এ অঞ্চলে । এসময় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রার ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে উঠানামা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আবহাওয়া অফিস জানায়, চলতি জানুয়ারি মাসে দুটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চল দিয়ে। জানুয়ারির ৬ তারিখ থেকে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকেরটা হালকা শৈত্য প্রবাহ হলেও শেষের দিকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হিসেবে রূপ নিতে পারে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোরসহ এ অঞ্চলে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়। এ সময়ে যশোরে তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। তবে সামনের শৈত্য প্রবাহে তাপমাত্রা এর চেয়েও নেমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। এদিকে যশোরসহ দক্ষিনাঞ্চলে যখন একের পর এক শৈত্যপ্রবাহ চলমান তখন মাঠে মাঠে চলছে বোরো চাষের প্রস্তুতি। বোরো আবাদের জন্য গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ অঞ্চলে ধানের বীজতলা প্রস্তুত করে কৃষক। সদ্য হয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে এসব বীজতলার কিছু কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও কৃষক নানা প্রযুক্তি গ্রহনের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় বলে কৃষি বিভাগ বলছে। তবে একটি শৈত্যপ্রবাহের দাগ কাটতে না কাটতেই এ অঞ্চলে আবারো শৈত্যপ্রবাহের আগমনের কথা শুনে কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, সামনের শৈত্যপ্রবাহে এ অঞ্চলের ধানের বীজতলার কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নির্ধারণ করছে শীত ও কুয়াশার তীব্রতার ওপর। তিনি বলেন, বিগত শৈত্যপ্রবাহ বিলম্বিত না হওয়ার কারণে ধানের চারার তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। সামনের শৈত্য প্রবাহ বিলম্বিত বা দীর্ঘ হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেসব বীজতলা বড় হয়ে গেছে সেগুলো হলুদ বর্ণ হয়ে গেলেও মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না। কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, যশোরে মোট ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা কৃষকে বীজতলাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে ক্ষেত পলিথিং দিয়ে ঢেকে ফেলার পরামর্শ দিয়েছি। অনেক কৃষক আমাদের পরামর্শ অনুসারে রাতের বেলায় বীজতলা পলিথিং দিয়ে ঢেকে রাখায় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। আশা করছি সামনের বিরূপ আবহাওয়ার সময়েও কৃষক এ পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।
সন্ধ্যায় মৃদু বৃষ্টি, আসছে আরও শৈত্যপ্রবাহ
১১ বছর আগের হত্যা চেষ্টা মামলায় এক বছর কারাদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১১ বছর আগে যশোর শার্শা উপজেলার পাঁচভুলোটে মারপিট ও হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন তাকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের এই আদেশ দেন। একই সাথে তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ৭ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী পাঁচভুলোট গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচভুলোট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ ঢালীর সাথে আসামিদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধলে ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর সকালে আসামিরা তাকে মারপিট এবং হত্যার চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় আব্দুল মজিদ ঢালীর স্ত্রী মনজিলা আকতার ৮ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত দণ্ড প্রদান করেন।
শার্শায় সাড়ে ৭ কেজি সোনা চোরাচালান মামলায় আটক যুবকের রিমান্ড মঞ্জুর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শায় সাড়ে ৭ কেজি সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত সন্দেহে মাসুদ রানা নামে এক যুবককে গত বুধবার আটক করেছে ঢাকার সিআইডি পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তার ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতে সিআইডি পুলিশ তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছিল। মাসুদ রানা শার্শা উপজেলার গোকর্ন গ্রামের আলী হোসেন সরদারের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট রাতে শার্শার শিকারপুর বিওপি’র বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় নারিকেলবাগান এলাকায় টহল দেয়ার সময় দেখতে পান, কয়েক ব্যক্তি ভারত সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। এ সময় বিজিবি সেখান থেকে মহিউদ্দিন তরফদার শান্তি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। তবে অন্যরা পালিয়ে যান। পরে বিজিবি শান্তির কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ২২৪ পিস সোনার বার উদ্ধার করে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া ২ ব্যক্তির ফেলে দেয়া ব্যাগ থেকে আরো ৪শ’ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার মোট ওজন ৭ কেজি ৪৫০ গ্রাম। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে চোরাচালান দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে শার্শা থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি প্রথমে শার্শা থানা পুলিশ এবং পরে ঢাকার সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর আরশেদ আলী মণ্ডল ওই সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত সন্দেহে মাসুদ রানাকে আটক ও ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নওয়াপাড়া প্রেস কাবের নির্বাচন : সভাপতি আসলাম হোসেন সম্পাদক মোজাফ্ফর
স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর) ॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া প্রেস কাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ১৩ টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রার্থীদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ১ জানুয়ারি সকালে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, সদস্য সুন্দলী এসটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ও নওয়াপাড়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত ফলাফলে নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি আসলাম হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক দৈনিক লোকসমাজ ও ইনকিলাব এবং সহ-সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যান্যরা হলেন, যুগ্ম সম্পাদক দৈনিক কালের কণ্ঠের অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি সৈয়দ জাহিদ মাসুদ তাজ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান, দপ্তর ও গণসংযোগ সম্পাদক শাহিন আহমেদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম এম আলাউদ্দিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম হোসেন, তথ্য প্রযুক্তি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক তারিম আহমেদ ইমন। নির্বাহী সদস্য গাজী রেজাউল করিম ও আলাউদ্দিন খান হিরা।
যশোরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেয়া ১৪ পুলিশ সদস্যকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রে চাকরি নেয়া ১৪ জন পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও তারা মিথ্যা পরিচয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায়’ পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়েছেন। শুধু আটক নয়, বেতনসহ যোগদানের পর থেকে তারা সরকারের যে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তাও তাদের ফেরত দিতে হতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদপে নিবে। পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ওই ১৪ জন যশোরে বিভিন্ন সময় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির জন্য অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর মৌলিক প্রশিণ গ্রহণ শেষে তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদের দাখিলকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যাচাই বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ওই সকল মুক্তিযোদ্ধা সনদ সঠিক নয়। অর্থাৎ ভুয়া। এরই প্রেেিত গত ৩০ ডিসেম্বর যশোর পুলিশের আরওআই (রিজার্ভ অফিস ইনসপেক্টর) এম মশিউর রহমান উল্লিখিত ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় পৃথক ৪ টি মামলা দায়ের করেন। ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৫/৪২০/৩৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও বেআইনিভাবে পিতার নামে ভুয়া বা জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র তৈরি করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ভর্তি হওয়ার অপরাধ আনা হয়েছে।
এদিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নেয়া ১৪ জনকে আটক করা হবে কি-না জানতে চাইলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আটকের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মামলা যখন হয়েছে তখন তো তারা আটক হবেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিষ্ময় প্রকাশ করে আরো বলেন, কত বড় সাহস যে তারা পুলিশের চাকরিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ সনদ দাখিল করেছেন। অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এতোদিন তারা যে বেতন-রেশন সুবিধা নিয়েছেন তা তাদের ফেরত দিতে হবে। এছাড়া সরকার তাদের পেছনে আর যে আনুসাঙ্গিক অর্থ ব্যয় করেছে তাও ফেরত দিতে হবে। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় পদপে নেবে। উল্লেখ্য, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশ কনস্টেবল পদে যারা চাকরি করছেন তারা হচ্ছেন-যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের দিপন বিশ্বাসের ছেলে নব কুমার বিশ্বাস (খুলনা আরআরএফে কর্মরত), সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কাওছার আলীর মেয়ে সোনিয়া খাতুন (রংপুর পিটিসি), অভয়নগর উপজেলার নাউলী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে মিনাজ হোসেন (খুলনা পিটিসি), সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (খুলনা পিটিসি), বাঘারপাড়া উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে নাসির উদ্দিন (খুলনা পিটিসি), সদর উপজেলার নরসিংহকাঠি গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে দেবাশীষ বিশ্বাস, ঘোপ ছাতিয়ানতলা গ্রামের সাইফুর রহমানের ছেলে রানা হাসান (ঢাকার এন্টিটেরোরিজম ইউনিট), চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ), সদর উপজেলার সুড়া গ্রামের সাধন সিংহের ছেলে বিপদো সিংহ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), নরসিংহকাঠি গ্রামের অজিত বিশ্বাসের ছেলে অমিত কুমার বিশ্বাস (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), আন্দোলপোতা গ্রামের বাশারত হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান (নড়াইল পুলিশ), সুড়া গ্রামের কুমারেশ সিংহের ছেলে সুজল সিংহ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ), বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালি গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে বাপ্পি মাহমুদ (ঝিনাইদহ পুলিশ) এবং চৌগাছার কোটালিপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে আলিম উদ্দিন (ঝিনাইদহ পুলিশ)।
কেশবপুরে সরকারিভাবে চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুর খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে চাতাল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান, যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলী খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা, কেশবপুর প্রেসকাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লায়লা আফরোজা, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা আবুল হাসান, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল হাসান, উপখাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমীন প্রমুখ। উপজেলা ধান/চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, কেশবপুর খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ৩৬৩ মেট্রিক টন নতুন ধান থেকে উৎপাদিত চাল ৩৬ টাকা কেজি দরে কেনা হবে। আগামী ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলবে।
নওয়াপাড়া প্রেসকাব নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন
স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ যশোর অভয়নগরের নওয়াপাড়া প্রেসকাব নির্বাচনে বিজয়ী সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কেশবপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এরা হলেন-সংগঠনের সভাপতি জয়দেব চক্রবর্ত্তী, সহসভাপতি আব্দুল হাই সিদ্দিকী ও মাস্টার আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম ও শাহিনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক উৎপল দে, কোষাধ্য মশিয়ার রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ, সাংবাদিক জাহীদ আবেদীন বাবু, তন্ময় মিত্র, মদন সাহা অপু প্রমুখ।
কালিয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সচিব আটক
কালিয়া (নড়াইল) সংবাদাতা ॥ সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার অর্থ স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নামে আত্মসাতসহ ইউপি সদস্যদের স্বার জাল করার অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউপি সচিব মো. মহিদুল ইসলামকে আটক করেছেন কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা। জয়নগর ইউপি মেম্বার মো. কামরুল ইসলাম কর্তৃক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগের তদন্তকালে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়। আটক ইউপি সচিবকে নড়াগাতি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদে চৌধুরী আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনাসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করে আসছেন। ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভূমি হস্তান্তর ফিসের টাকা, সরকারের নির্ধারিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের টিআর, কাবিখা, কাবিটা, কর্মসৃজন প্রকল্প ও এডিপির বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ৬ হাজার পরিবারের কাছে বাড়ির হোল্ডিং নম্বর প্লেট বিক্রির ৬ লাখ টাকা, সরকারি করের টাকা, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভিজিডির সুবিধা ভোগীদের জমাকৃত টাকাসহ সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার টাকা এবং এলজিএসপির বরাদ্দকৃত ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৭ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া ইউপি সদস্যদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ করেন কামরুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিযোগটির তদন্তভার দেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর। ফলে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন ইউএনও। তদন্তকালে জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যানসহ ইউপি সচিব মো. মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা, ভিজিডি, বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা পরিবারের সদস্যসহ স্বজনদের নামে আত্মসাত ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে তদন্ত কর্মকর্তা (ইউএনও) তাৎণিকভাবে সচিব মহিদুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এদিকে জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী আলাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কুচক্রীমহল তার রাজনৈতিক সুনাম নষ্টসহ হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন। কালিয়া উপজেলা নির্বাহী মো. নাজমুল হুদা বলেন, তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইউপি সচিব মহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
কালিয়ায় সংঘর্ষে আহত আসলাম গাজীর মৃত্যু
কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ নড়াইলের কালিয়ায় সংঘর্ষে আহত আসলাম গাজী (৪০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার সকালে কালিয়া উপজেলার চালিতাতলা গ্রামে দু পরে সংঘর্ষে আসলাম গাজীসহ ৫ জন আহত হন। ঘটনার দিন চালিতাতলা খালে মাছ ধরা নিয়ে কাক্কা মোল্যা ও ইদ্রিস গাজী গ্র“পের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় মারা যান আসলাম। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চাচিকে কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় কম্পিউটার প্রশিক্ষক খুন,আটক ৩
কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ নড়াইলের কালিয়ায় চাচিকে কুপ্রস্তাব দেয়ার প্রতিবাদ করায় জহিরুল মোল্যা (২৫) নামে এক কম্পিউটার প্রশিক্ষক খুন হয়েছেন। গত বুধবার রাতে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি বাজারে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত জহিরুল মোল্যা নড়াগাতি গ্রামের আকুব্বার মোল্যার ছেলে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে থেকে নড়াগাতি গ্রামের মৃত তায়জল মোল্যার ছেলে জাহিদুল মোল্যা কম্পিউটার প্রশিক্ষক জহিরুল মোল্যার বিধবা চাচিকে উত্যক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ফলে জহিরুল এর প্রতিবাদ করেন। ঘটনার প্রতিবাদ করা ও লোক জানাজানিকে কেন্দ্র করে ওই দু জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরই জের ধরে বুধবার রাত আটটার দিকে নড়াগাতি বাজারে জাহিদুল ও তার লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয় জহিরুলের। এক পর্যায়ে তারা জহিরুলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে রাত নয়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। এরা হচ্ছেন-নড়াগাতি গ্রামের টুটুল লস্কার (৩২), রনি লস্কার (২৮) ও হান্নান মোল্যা (৫৫)। নড়াগাতি থানা পুলিশের ওসি মো. আলমগীর কবির বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজন করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।










