সন্ধ্যায় মৃদু বৃষ্টি, আসছে আরও শৈত্যপ্রবাহ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যশোরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এটি আরও জোরালো হয়ে আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে তাপমাত্রা কমে কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া অনুভূত হবে। এ অঞ্চলে দেখা দেবে আরও একটি শৈত্য প্রবাহ। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ভোর সকালের দিকে রেকর্ড করা হলেও বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি অনুভত হয়। সন্ধ্যার পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। তবে সেটি আজ ও কাল আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আওহায়া অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা জানান, ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি যশোরসহ দেশের কয়েটি জেলায় বৃষ্টি চলমান থাকবে। তবে যশোরের বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেলে ৬ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে এ অঞ্চলে । এসময় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রার ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে উঠানামা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আবহাওয়া অফিস জানায়, চলতি জানুয়ারি মাসে দুটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চল দিয়ে। জানুয়ারির ৬ তারিখ থেকে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকেরটা হালকা শৈত্য প্রবাহ হলেও শেষের দিকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হিসেবে রূপ নিতে পারে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোরসহ এ অঞ্চলে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়। এ সময়ে যশোরে তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। তবে সামনের শৈত্য প্রবাহে তাপমাত্রা এর চেয়েও নেমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। এদিকে যশোরসহ দক্ষিনাঞ্চলে যখন একের পর এক শৈত্যপ্রবাহ চলমান তখন মাঠে মাঠে চলছে বোরো চাষের প্রস্তুতি। বোরো আবাদের জন্য গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ অঞ্চলে ধানের বীজতলা প্রস্তুত করে কৃষক। সদ্য হয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে এসব বীজতলার কিছু কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও কৃষক নানা প্রযুক্তি গ্রহনের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় বলে কৃষি বিভাগ বলছে। তবে একটি শৈত্যপ্রবাহের দাগ কাটতে না কাটতেই এ অঞ্চলে আবারো শৈত্যপ্রবাহের আগমনের কথা শুনে কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, সামনের শৈত্যপ্রবাহে এ অঞ্চলের ধানের বীজতলার কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নির্ধারণ করছে শীত ও কুয়াশার তীব্রতার ওপর। তিনি বলেন, বিগত শৈত্যপ্রবাহ বিলম্বিত না হওয়ার কারণে ধানের চারার তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। সামনের শৈত্য প্রবাহ বিলম্বিত বা দীর্ঘ হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেসব বীজতলা বড় হয়ে গেছে সেগুলো হলুদ বর্ণ হয়ে গেলেও মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না। কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, যশোরে মোট ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা কৃষকে বীজতলাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে ক্ষেত পলিথিং দিয়ে ঢেকে ফেলার পরামর্শ দিয়েছি। অনেক কৃষক আমাদের পরামর্শ অনুসারে রাতের বেলায় বীজতলা পলিথিং দিয়ে ঢেকে রাখায় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। আশা করছি সামনের বিরূপ আবহাওয়ার সময়েও কৃষক এ পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।

ভাগ