লোকসমাজ ডেস্ক॥ আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি ডনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচিত হন তাহলে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে পারেন তার মেয়ে ও উপদেষ্টা ইভানকা ট্রাম্প। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইভানকা। সিবিএস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইভানকা বলেছেন, তার প্রথম পছন্দ হবে তার নিজের সন্তান ও তাদের সন্তুষ্টি। তার পিতা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি কি তার প্রশাসনে অব্যাহতভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইভানকা একথা বলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
ইভানকা বলেন, সব সময় আমার সিদ্ধান্ত এমন নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের (সন্তান) প্রয়োজনটিকে আমার সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে। এমনই উত্তর তারা বাস্তবেই আমার কাছ থেকে পেতে চায়। সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ইভানকা আরো বলেন, গত প্রায় আড়াই বছরে আমি এই দেশের প্রায় সব রাজ্যে সফর করেছি।
এটা ছিল সুযোগের পথ করে দেয়া। ৩৮ বছর বয়সী ইভানকা বলেন, তার কাজ সম্পন্ন হয় নি। তার ভাষায়, আমরা অনেক করেছি। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।
তিনি কি অফিসিয়াল দায়িত্ব পালননের জন্য উদগ্রীব? এ প্রশ্নের উত্তরে হোয়াইট হাউজের এই উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে সত্যিকার অর্থে রাজনীতি কম আগ্রহের। ২০১৭ সাল থেকে ইভানকা ট্রাম্প ও তার স্বামী জারেড কুশনার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় তারা পালন করেছেন।
ট্রাম্প পুনঃনির্বাচিত হলে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে পারেন ইভানকা
বিফ চিলি অনিয়ন রাঁধবেন যেভাবে
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফ্রায়েড রাইস বা চাওমিনের সঙ্গে জমে বেশ। ঝাল ঝাল এই খাবারটি কেবল রেস্টুরেন্টে গিয়েই নয়, খেতে পারেন বাড়িতে বসেও। বলছি বিফ চিলি অনিয়নের কথা। বাড়িতে তৈরির আগে জানা থাকা চাই রেসিপি। চলুন জেনে নেয়া যাক-
উপকরণ:
২৫০ গ্রাম গরুর মাংস (পাতলা স্লাইস করে কাটা)
৫ টি রসুনের কোয়া
৪/৫ টি কাঁচা মরিচ
২ টেবিল চামচ সয়া সস
দেড় টেবিল চামচ গোল মরিচ গুঁড়ো
১ চা চামচ চিনি
১ টি চিকেন স্টক কিউব (বাজারে কিনতে পাওয়া যায়)
২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বড় করে খণ্ড করা
কর্নফ্লাওয়ার পরিমাণ মতো
১ টি ডিম
চাইলে এতে ক্যাপসিকাম কুচি এবং কাজু বাদাম যোগ করতে পারেন।
পদ্ধতি:
১ টেবিল চামচ সয়াসস, ১ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ডিম ও কর্ণফ্লাওয়ার খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে গরুর মাংস মেরিনেট করে রাখুন ১০ মিনিট। ১ কাপ গরম পানিতে চিকেন স্টকের কিউব গুলে আলাদা করে রাখুন।
এরপর একটি প্যানে তেল দিয়ে এতে দিন বাকি মশলাগুলো। মশলাতেই দিয়ে দিন মেরিনেটসহ বিফ। ভালো করে নেড়ে উলটে পাল্টে ভাজতে থাকুন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। মাংস ভাজা ভাজা হয়ে এলে এতে চিকেন স্টক দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে থাকুন।
মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে স্বাদ দেখে লবণ দিন। এরপর আরও ৫/৬ মিনিট চুলার উপরে রাখুন। মাংস সেদ্ধ হতে পানির প্রয়োজন হলে আরও পানি দিতে পারেন। মাংস ভালো সেদ্ধ হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ‘বিফ চিলি অনিয়ন’।
খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৭ জানুয়ারি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা মামলায় রোববার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রোববার প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রকিবুর রহমান এ তথ্য জানান। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে সমবেত হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাওয়ের জন্য রওনা হলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশে তাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে। পরিবহন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ওই ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সূত্র : বাসস
দূষিত বাতাসে বিশ্বে দ্বিতীয় ঢাকা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দূষিত বাতাসের নগরীর তালিকায় রবিবার সকালে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। সকাল ৮টা ০৬ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার স্কোর ছিল ২৮৯। যার অর্থ, এ শহরের বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। আর এ তালিকায় প্রথমে স্থানে আছে ভারতের দিল্লি এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে আফগানিস্তানের কাবুল। একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে, স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসাবে বিবেচিত হয়। যার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে নগরবাসী। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ্য রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
অপরদিকে, একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। আর সূচকের স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হওয়ার অর্থ হলো বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। মাত্রাতিরিক্ত মানুষের বসবাসের নগরী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাতাসে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি হতে দেখা গেলেও গ্রীষ্ম ও শীকতালে শহরটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, একটি নির্দিষ্ট শহরের প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে একিউআই সূচক তৈরি করা হয়। যার মাধ্যমে একটি শহরের বাতাস কতটুকু বিশুদ্ধ বা দূষিত এবং সেই সাথে ওই পরিস্থিতিতে কোন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সেই তথ্য দেয়া হয়। সূত্র : ইউএনবি।
উন্নয়ন পরিমাপে ‘মাথাপিছু সামাজিক শান্তি’
প্রফেসর ড. এম এ মান্নান
আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বহুল-উচ্চারিত একটি শব্দ ‘উন্নয়ন’। অর্থনীতি শাস্ত্রে জিডিপি বা জিএনপি দিয়ে উন্নয়নকে পরিমাপ করা হয়। কিন্তু এই উন্নয়নের চূড়ান্ত ফলকে আমরা কিভাবে বিচার করছি সেটি একটি প্রশ্ন। আমরা যখন ‘ন্যাশনাল ইনকাম একাউন্টিং’ করি তখন এমন অনেক কিছু বাদ দেয়া হয়; যেগুলো হিসাবের খাতায় যোগ হলে আমাদের মতো দেশগুলোর প্রকৃত আয় অনেক বেড়ে যেত। সমাজের সব অর্থনৈতিক কমকাণ্ড আমাদের মাথাপিছু আয়ের হিসাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের উন্নয়নকে কি আমরা ‘মাথাপিছু সামাজিক শান্তি’ (per capita social peace) দিয়ে বিচার করতে পারি না? সামাজিক শান্তিই তো উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থ তথা গরিব করদাতাদের যে টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করে সেটা আসলে একধরনের সামাজিক ঋণ। ওই শিক্ষার্থী তার কর্মজীবনে প্রবেশের পর কিভাবে এই ঋণ পরিশোধ করবে সেটি যেমন একটি বিকল্প চিন্তাধারা হতে পারে, তেমনি পারে সমাজে শান্তির প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করতে।
পশ্চিমা বিশ্বে এখন আর কোনো কল্যাণ রাষ্ট্র নেই। ইংল্যান্ডে একসময় কিছুটা ছিল। তখন শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেয়া হতো। কিন্তু মার্গারেট থেচার এসে সেগুলো বন্ধ করে দেন। ফলে শিক্ষাও এখন সেখানে বাজারের পণ্য। তুমি যদি মূল্য পরিশোধ করতে পারো তাহলে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। আমেরিকার ক্ষেত্রে এ কথা সত্য। পশ্চিমা সমাজে এ ধরনের খাতে খেটে খাওয়া মানুষের অবদান কম। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দেয়া হয়। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা খাতে। ভর্তুকির এই টাকা আসে খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে। আমাদের কর কাঠামোটিই এমন। সরকার একজন কারখানা মালিকের কাছ থেকে যে কর আদায় করছে তা ওই মালিক কৌশলে ক্রেতার ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। আর পণ্য ব্যবহারকারী হলো গরিব। এভাবে উপাদনগত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৮০-৯০ ভাগ কর গরিবের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। তাই আমি মনে করি যারা এসব গরিবের পয়সায় উচ্চশিক্ষা নিতে পেরেছে তাদের উচিত হবে এসব গরিবের ঋণ শোধ করা। এ জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। অথবা এমন কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ম্যাকানিজম থাকা উচিত, যার মাধ্যমে তারা ওই ঋণ পরিশোধ করতে পারে। একে আমি সামাজিক ঋণ বলি, যা একজন নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব বোধ থেকে পরিশোধ করা উচিত।
উন্নয়নের ধারণায় সম্প্রতি যে বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে তা হলো উন্নয়নের চূড়ান্ত ফলটি কী হওয়া উচিত। উন্নয়ন মানে কি শুধু দৃশ্যমান বস্তুগত উন্নয়ন নাকি মানসিক প্রশান্তি অর্জন। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়। যে উন্নয়ন বিষণœœতা তৈরি করে, ঘুম নষ্ট করে, নারী নির্যাতন বৃদ্ধি করে, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, সড়কে বের হলে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা থাকে না, অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে, হানাহানির জন্ম দেয় সেটি আসলেই উন্নয়ন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে। আমি মনে করি, আমাদের উচিত হবে মাথাপিছু সামাজিক শান্তি কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তার ভিত্তিতে উন্নয়নকে বিবেচনা করা। বিষয়টি নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। এই মাথাপিছু সামাজিক শান্তি কিন্তু গণনাযোগ্য একটি বিষয়। দু’টি গ্রুপের মধ্যে পরীক্ষাকালে এর একটি হয় নিয়ন্ত্রিত গ্রুপ আর অন্যটি হয় উন্মুক্ত গ্রুপ। নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের উপর ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, অন্যটির উপর হয় না। এর মাধ্যমে ওষুধটির সুফল-কুফল পরীক্ষা করা হয়। একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সামাজিক শান্তি কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা-ও সহজে পরীক্ষা করা সম্ভব। যেমন দেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে। আমরা দেখতে পারি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জেলা কোনটি। যেখানে হানাহানি কম, পারিবারিক সম্পর্ক ভালো, প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বেশি, আদালতে মামলার সংখ্যা কম, ইত্যাদি দিয়ে সহজেই একটি জেলার শান্তিপূর্ণ অবস্থার মূল্যায়ন করা হবে। মাথাপিছু আয় দিয়ে আর্থিক সামর্থ্যরে একটি হিসাব আমরা করছি। আমরা এভাবে মাথাপিছু সামাজিক শান্তির বিষয়টিও পরিমাপ করতে পারি। এই সামাজিক শান্তি পরিমাপের ব্যবস্থা হলো উন্নয়নের বিকল্প চিন্তাধারা।
এটি দিয়ে আমরা দৃশ্যমান উন্নয়নের চূড়ান্ত ফলটি দেখতে চাচ্ছি। আমরা যেসব কাজ করছি তা সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে সেটি দিয়েও উন্নয়নকে বিচার করতে হবে। শুধু গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণ করলেই হবে না। মানুষ যেন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এমন উন্নয়ন করা হলো, যে কারণে শব্দদূষণ ঘটে মানুষের ঘুম কেড়ে নিল। এমন সড়ক, মেট্রোরেল, পাতাল রেল তৈরি করা হলো যে কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেল। মানুষ বিশুদ্ধ বাতাসের অভাবে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। ঢাকা এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। তাহলে আমরা কিভাবে উন্নত হচ্ছি? যে উন্নয়নে জীবনের নিরাপত্তা নেই, ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিরাপদে চলার নিশ্চয়তা থাকবে না সেটা উন্নয়ন হতে পারে না। তাই আমি আমাদের নীতি প্রণেতাদের অনুরোধ করব একটি সামাজিক শান্তি সূচক তৈরি করতে। উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্যটি হবে আমাদের বিচার্য বিষয়। যে উন্নয়ন বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয় সেটি উন্নয়ন নয়। আমাদের দৈন্য এখানেই। আমাদের দৈন্য সম্পদের নয়, ধ্যানধারণার। এই অবস্থা তৈরি হয়েছে কারণ আমরা পশ্চিমাদের উচ্ছিষ্ট ধ্যানধারণাগুলো গ্রহণ করছি। এটা প্রায় প্রতিটি স্বল্পোন্নত দেশের একটি দুঃখজনক প্রবণতা ও ধরন। আমরা তাদের কাছ থেকে এসব ধ্যানধারণা গ্রহণ করছি, যারা এখন সেগুলো বাতিল করে দিচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলো এক হয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন করেছে, অভিন্ন মুদ্রা ইউরো চালু করেছে। যদিও এটা নিয়ে সমস্যা চলছে; কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছে জাতিরাষ্ট্র ধারণা দিয়ে আগামীতে চলা যাবে না।
সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরেই তা থেকে বেরিয়ে আসতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। ঠিক তখনই আমরা জাতিরাষ্ট্র ধারণাকে আরো আঁকড়ে ধরতে হানাহানি করছি। তাই আমি বলছি, একবিংশ শতকে ওই উচ্ছিষ্ট ধ্যানধারণা দিয়ে কোনো অনুন্নত দেশের পক্ষে কথিত উন্নত দেশ হওয়া সম্ভব নয়। এসব দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর উচিত হবে তাদের নিজের সমাজ, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও চেতনার আলোকে একটি নিজস্ব উন্নয়নের মডেল তৈরি করা। তার ওপরেই উন্নয়নের বুনিয়াদটি তৈরি করতে হবে। আমরা যদি সেই বুনিয়াদটি তৈরি করতে পারতাম তাহলে অনেক শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পথে অগ্রসর হতে পারতাম। সেটি না থাকায় উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে আজকের পরিস্থিতি ঠিক সেই কারণেই। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে সেখানে মুসলমানদের আঘাত করতে নতুন নাগরিকত্ব আইন করা হয়েছে। কিন্তু সেই আঘাত লেগেছে সেখানকার সনাতন মূল্যবোধ, সমাজ, সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্যের ওপর। ফলে সব বিশ্বাসী মানুষ আইনটির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। সবার বিশ্বাস, ধারণা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে এই বিল। এই আইন যে কাউকে আঘাত করতে পারে- সেই ভীতি তৈরি হয়েছে সবার মনে। এটা একান্তভাবে পশ্চিমা ধারণা থেকে এসেছে। আর সেটি করতে গিয়ে পুরো ভারতে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আসলে আমরা অনুকরণ করা শিখেছি। কিন্তু আত্মস্থ করা শিখিনি। অনুকরণ করা চুরি করারই নামান্তর। অন্যদিকে আত্মস্থ করার মানে হলো অন্যের কাছে থেকে গ্রহণ করা বিষয়গুলো নিজের উপযোগী করে তৈরি করে নেয়া। অনুকরণ করা সহজ কিন্তু আত্মস্থ করা কঠিন। প্রকৃত উন্নয়নে সেই কঠিন কাজটি করতে হবে আমাদের।হ
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড; সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা
hmct2004@yahoo.com
কলারোয়ায় উত্তরণের ওয়াশ মেলা অনুষ্ঠিত
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ওয়াশ মেলা উপলে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে র্যালিটি পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিণ করে। এরপর কলারোয়া গার্লস হাইস্কুল চত্বরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। মেলায় ৮টি স্টলে সচেতনতামূলক প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল। কলারোয়া পৌরসভা, এনজিও সংস্থা উত্তরণ-সফল প্রকল্প, হোপ ফর দি পুওরেস্ট (এইচপি) ও প্র্যাকটিক্যাল একশনের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলারোয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রধান শিক মনিরুজ্জামান বুলবুল, সহকারী মাধ্যমিক শিা অফিসার হারুন-অর-রশীদ, কলারোয়া গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক বদরুজ্জামান বিপ্লব, পৌর সচিব তোষার কান্তি দাশ, প্রকৌশলী ওজিহুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার সোরওয়ার্দ্দী, পৌর কাউন্সিলর মেজবাহ উদ্দিন লিলু, শেখ জামিল হোসেন, আলফাজ উদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক শেখ মাহফুজুর রহমান মাফুজ।
নতুন বছরে ভিভোর প্রথম ফোন এস১ প্রো
লোকসমাজ ডেস্ক॥ নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে আসছে বহুজাতিক চীনা কোম্পানি ভিভোর নতুন ফোন এস১প্রো। আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ফোনটি কেনার জন্য প্রিবুকিং দিতে পারবেন আগ্রহী ক্রেতারা।
ভিভো বাংলাদেশ জানায়, কোম্পানির মধ্য ক্রয়সীমার ফোনগুলোর মধ্যে ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রযুক্তি বিবেচনায় এস১প্রো অনেক উন্নত ও সুসংহত। ভিভোর এস সিরিজের এ তৃতীয় ফোনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা। এ মূল্যসীমার মধ্যে বাজারের সেরা ফোন হিসেবে এটিকে গ্রাহকরা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) এর প্রিবুকিং শুরু হয়েছে।
ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির এই ফোনে পাঁচটি ক্যামেরা যুক্ত করেছে ভিভো। এর মধ্যে রিয়ার ক্যামেরা চারটি এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা একটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রিয়ার ক্যামেরাগুলো যথাক্রমে ৪৮, ৮, ২, ২ মেগাপিক্সেলের এবং সেলফি ক্যামেরাটি ৩২ মেগাপিক্সেলের। ফোনটির ক্যামেরায় সুপার ম্যাক্রো প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনেক ছোট বস্তুও ক্যামেরায় ধারণ করা যাবে।
আট জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি রমের এস১ প্রো’র মেমোরি মাইক্রো এসডির মাধ্যমে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। আরও রয়েছে চার হাজার ৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি। সুপার অ্যামোলয়েড টাচস্ক্রিন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ফোনটির ডিসপ্লে ৬ দশমিক ৩৮ ইঞ্চি এবং রেজ্যুলুশন ১০৮০ বাই ২৩৪০ পিক্সেল।
আবার
লোকসমাজ ডেস্ক॥ আর কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে নতুন বছর। আর নতুন এই বছরে নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের ‘গাঙচিল’ সিনেমার বাকি অংশের কাজ আবার শুরু করতে যাচ্ছেন পূর্ণিমা। তিনি বলেন, চলতি বছর দুটি সিনেমা নিয়ে সময় কেটেছে। একটির নাম ‘জ্যাম’, অন্যটি ‘গাঙচিল’। দুটি সিনেমায় দুই ধরনের চরিত্রে দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবেন। এরমধ্যে গত মাসে ‘গাঙচিল’-এর বেশকিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন বছরে আবার এ সিনেমার কাজ শুরু হচ্ছে। নোয়াখালীতে সিনেমাটির শুটিংয়ে অংশ নেব আমি।
এখানে এনজিওকর্মী হিসেবে অভিনয় করছি। এবার টানা ছবিটির কাজ শেষ করবেন নির্মাতা। আর এরপর ‘জ্যাম’ ছবির কাজ শুরু হবে বলে জানা যায়। পূর্ণিমার এ দুটি সিনেমার পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দাদের জীবনের নানা ঘটনা ‘গাঙচিল’ ছবির প্রধান উপজীব্য। এদিকে, পূর্ণিমা চলতি বছর শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচারণামূলক কাজে অংশ নিয়েও আলোচনায় ছিলেন। ‘প্রাণ আপ’-এর বিশেষ উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাত দিনব্যাপী কম্বল বিতরণ করেন তিনি। বছর শেষে আবারো ‘ছড়াই ভালোবাসার উষ্ণতা’ শীর্ষক এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেন তিনি। পূর্ণিমা এ প্রসঙ্গে বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব তো রয়েছেই, পাশাপাশি একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবেও দেশের মানুষের জন্য সব সময়ই আমি কিছু না কিছু করার চেষ্টা করি। ‘ছড়াই ভালোবাসার উষ্ণতা’ ঠিক তেমনই একটি কাজ। আমি চাই শীতার্ত মানুষের পাশে সকলে থাকুক। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের অবাক করেন পূর্ণিমা। অল্প বয়সে রূপালি পর্দায় নায়িকা হিসেবে ঝলমলে এক অভিষেক হয়েছিল তার। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবিতে পূর্ণিমা নায়ক হিসেবে পান চিত্রনায়ক রিয়াজকে। এরপর ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, টাকা’, ‘সুভা’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মাটির ঠিকানা’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পান দর্শকপ্রিয়তা। ২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে দফতরি কাম প্রহরীদের অবস্থান কর্মসূচি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চাকরি জাতীয়করণসহ সার্বক্ষণিক ডিউটি বাদ দিয়ে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নির্ধারণসহ ৫ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরীরা। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল থেকেই এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান। অবস্থান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার কর্মচারীকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই দাফতরিক কাজ ও রাতের প্রহরী দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করলেও তারা ন্যায্য বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত।
দফতরি কাম প্রহরীরা জানান, তাদের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। নেই কোনও নৈমিত্তিক ছুটি। এসব সমস্যা নিয়ে তারা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করেন। ২০১৯ সালে ওই মামলার রায়ে ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নির্ধারণ করতে বলেন আদালত। তারা আরও জানান, কিন্তু এই ঘটনার এক বছর পার হতে চললেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনও কিছু জানানো হয়নি। তাই তাদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। পাঁচ দফ দাবি হলো—দফতরি কাম প্রহরীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা, আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা, আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা, বেতন বৈষম্য দূর করা এবং নৈমিত্তিক ছুটির ব্যবস্থা করা। অবস্থান কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় দেড় হাজারের বেশি দফতরি কাম প্রহরী অংশ নেন।
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। একই সময় ফুটপাতে পাওয়া গেছে আরও তিনটি ককটেল। গতকাল রবিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতের কাছে একটি মোটরসাইকেলের ওপর ককটেলটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পথচারী ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এরপর কাছেই ফুটপাতে আরও তিনটি কালো টেপে মোড়া ককটেল পাওয়া যায়। পুলিশ তখন পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনটি ককটেলের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, মোটরসাইকেলে করে এসে এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলকে হয়রানি করার জন্য এটি সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। এটা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে।’









