যশোরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৩০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।  মঙ্গলবার শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কোতয়ালি থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর পলাশ কুমার বিশ্বাসের নেতত্বে এসআই আনসারুল হক, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ রকিবুজ্জামানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য বিএনপির কর্মসূচিতে লাঠিচার্জে অংশ নেন।
যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হকসহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী জানান, সদ্য সমাপ্ত ডামি নির্বাচন বর্জন করায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল প্রচারপত্র বিলি করা হয়। শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে প্রচারপত্র বিলি শুরু হয়। দড়াটানা মোড় থেকে কর্মসূচি শুরুর পর হাজী মুহাম্মদ মহসিন রোডের কাপুড়িয়াপট্টির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় একদল পুলিশ অতর্কিত চারদিক থেকে নার্গিস বেগমসহ নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশ নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে বাজারের অলিগলির পথে তাড়া করে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। পরে সেখান থেকে নার্গিস বেগমসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা হাটখোলা রোড দিয়ে বের হয়ে আসার পথে সিটি প্লাজার সামনে পুলিশ আবারও লাঠিচার্জ করে।
আঘাতের শিকার হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল ইসলাম, জেলা মহিলাদলের সভানেত্রী রাশিদা রহমান, সদর উপজেলা মহিলাদলের সভানেত্রী হাসিনা ইউসুফ, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম, মাসুদুর রহমান, মহিলাদল নেত্রী শামসুন্নাহার পান্না, সেলিনা পারভিন শেলি, আনোয়ারা পারভিন আনু, হালিমা লতিফ, সুফিয়া বেগম, হেলেনা পারভিন, ফাইনারা বর্ণা, যুবদল নেতা আব্দুর রউফ, সাবু হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাজমুস সাদিক সবুজ, ছাত্রদল নেতা শেখ হাসান ইমাম, নিয়াজ মাহমুদ শিশির, শাওন ইসলাম সবুজসহ ৩০জন নেতা-কর্মী আহত হন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, দিনের সূচনা বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে। আগামী দিনে দেশের জনগণ শেখ হাসিনার কতটা অসহিষ্ণু আচরণের শিকার হবেন, এই ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। প্রচারপত্র বিতরণের মত শান্ত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে তারা ভয় পায়। কারণ তারা জানে জনগণ বিএনপির ডাকে ভোট বর্জন করেছে। এখন যদি তারা (জনগণ) বিএনপির ডাকে রাস্তায় নামে তাহলে আওয়ামী লীগের অবস্থা কী হবে সেটি শেখ হাসিনা ভালো করেই জানেন।
এ বিষয় কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকেদের বলেন, লাঠিচার্জের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। পুলিশের লাঠিচার্জ করার কথা নয়।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শহরের আর এন রোড এলাকায় বিএনপি,অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।