৫৬ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু: উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশব্যাপী হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ঢাকা কার্যালয়ের তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৬টি জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে এবং ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। বেসরকারি তথ্যানুযায়ী, ইতিমধ্যে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হলেও রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগকেও সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমান সংক্রমণের হার প্রতি ১০ লাখে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরগুলোতে ১-এর নিচে ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, করোনা মহামারিকালীন টিকাদানে সৃষ্ট বাধা এবং নিয়মিত ডোজ থেকে শিশুদের বাদ পড়া এই সংকটের মূল কারণ। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা, যারা গত দুই বছরে টিকার পূর্ণ ডোজ পায়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দ্রুত দেশব্যাপী উচ্চমানের হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন চালুর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এছাড়া নজরদারি জোরদার করা, ভিটামিন এ নিশ্চিত করা এবং জনবল সংকট দূর করে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদি দ্রুত উচ্চ হারে টিকাদান নিশ্চিত করা না যায়, তবে নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ও মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।