২২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক; সচল হলো সান্তাহার রুট

0
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিকে উপজেলার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বগুড়ার আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায় আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ৯ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ায় কয়েক হাজার ঘরমুখো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার ফলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের তিন জোড়া, নীলফামারী-খুলনা রুটের দুই জোড়া এবং রাজশাহী-নীলফামারী রুটের বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের দুই জোড়া ট্রেন আটকা পড়ে। সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় আটকা পড়া যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পারাপার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভবে ‘হিউম্যান ফেইলিয়র’ বা চালক ও স্টাফদের দায়িত্বহীনতাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছয়টি বগি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামত ছাড়া লাইন সচল করা সম্ভব ছিল না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।