২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশে ভর্তি: আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর

0
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২ সেপ্টেম্বর। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছতায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নতুন শ্রেণির পাঠদান।। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরুর নির্ধারিত সময়সীমা এগিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন ক্লাস শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পূর্বে এই আবেদন কার্যক্রম ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই কেবল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার্থীকে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মনোনয়ন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এই পুরো অনলাইন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। কারিগরি বোর্ড ও ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব কলেজ ও মাদরাসায় এই সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

প্রকাশিত খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা পরীক্ষাতীদেরও একই সাথে ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তবে ১০ সেপ্টেম্বর ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর যাদের ফলাফল পরিবর্তন হবে, তারা আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পাওয়া বা পছন্দসই কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা ২৩ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য, এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ পত্রের জন্য আবেদন করেছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পাঠানো প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন কোটা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছর ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। যেখানে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ নীতিমালা অনুসারে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ গত বছরের চেয়ে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং এমপিওভুক্তির ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ১,৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি ও সেশন চার্জ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে ৫,০০০ টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩,০০০ টাকা, জেলা সদরে ২,০০০ টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ১,৫০০ টাকা ফি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। অ-এমপিওভুক্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কলেজের জন্য ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।