হুমকিদাতার চোরাই সিমকার্ডের সূত্র ধরে উদ্ধার হয় নিখোঁজ আরাফাতের লাশ

0

 

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ নড়াইলের পঞ্চম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্র আরাফাত বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিলো। কোথাও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা পিতা ওবাইদুর রহমান শিকদার থানায় একটি জিডি করেন। সেই জিডি তদন্ত করতে গিয়ে একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সন্ধান পান যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা। ওই নম্বর দিয়ে আরাফাতের পিতাকে হুমকি দিয়েছিলো অজ্ঞাত ব্যক্তি। কিন্তু সেই নম্বরের মালিককে খুঁজে পেলেও হোঁচট খেতে হয় পিবিআই সদস্যদের। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, সিমকার্ডটি চুরি হয়ে গেছে। তবে হাল না ছেড়ে ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে হুমকিদাতাকে শনাক্তের পর আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ আরাফাতের সন্ধান পান তদন্ত সংস্থার সদস্যরা। অবশ্য জীবিত নয়, নিখোঁজ আরাফাতের লাশ মেলে। কীভাবে ওবাইদুর রহমান শিকদারের হুমকিদাতাকে শনাক্ত ও আটক এবং নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র আরাফাতের লাশ উদ্ধার করা হয় হাল না ছাড়া সেই অভিযান সম্পর্কে পিবিআই’র একজন কর্মকর্তা জানান, আরাফাতের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার বোড়ামারা গ্রামে। চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২২ সালের ১২ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে তার পিতা ওবাইদুর রহমান শিকদার সদর থানায় জিডি করেন। ১৪ মার্চ এই জিডি হাতে পাওয়ার পর পিবিআই যশোরের এসআই স্নেহাশিস দাশসহ টিমের সদস্যরা তদন্ত শুরু করেন। তারা এ সময় জানতে পারেন, আরাফাত নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তি ওবাইদুর রহমান শিকদারের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে একটি মেসেস পাঠিয়েছিলো। এতে লেখা ছিলো ‘তুই খুব বড় একটা জিনিস হারাতে চলেছিস’। এছাড়া পরে ফোন করে তার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিলো। কিন্তু যে ফোন নম্বর দিয়ে মেসেস পাঠানো ও মুক্তিপণ চাওয়া হয় ওই নম্বরটি একজন নারীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা। নারীর ঠিাকানা বাগেরহাটে। তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, নম্বরটি অনেকদিন ধরে লোহাগড়ার একটি এলাকায় ব্যবহার হয়েছিলো। পরে এরই সূত্র ধরে ওই এলাকায় গিয়ে সিমকার্ড নম্বরের মালিক নারীকে খুঁজে বের করা হয়। কিন্তু ওই নারী পিবিআই কর্মকর্তাদের জানান, তিনি একটি মোবাইল ফোনসেটে নম্বরটি ব্যবহার করতেন। তবে ফোনসেটটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি ঘরে রেখে দিয়েছিলেন। তার ঘর থেকে নষ্ট ফোনসেটটি নিয়ে গেছে স্বামীর ভাইয়ের ছেলে। এরপর ওই নারীর স্বামীর ভাইপোর কাছে গেলে তিনি নষ্ট ফোনসেটটি নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেন। তবে কে কারা ফোনসেটের ভেতর থেকে সিমকার্ডটি খুলে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। নড়াইল সদর উপজেলার বোড়ামারা এলাকায় কোনো আত্মীয় আছে কি না তার কাছে জানতে চাইলে হ্যাঁ জানিয়ে তিনি বলেন, তৌহিদুর রহমান নামে এক আত্মীয়ের কিশোর ছেলে নাবিল তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। হয়ত সে ফোনসেট থেকে সিমকার্ডটি নিয়ে গেছে। এই তথ্য পেয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা ফের বোড়ামারা গ্রামে এসে সন্দেহভাজন নাবিলকে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে আরাফাতকে হত্যার কথা স্বীকার এবং হত্যায় তার সহযোগী মিলন হোসেনের নাম প্রকাশ করে। মিলন হোসেন একই গ্রামের সাহিদুর রহমানের ছেলে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিলন হোসেনকেও আটক করা হয়। পরদিন ১৫ মার্চ ভোরে আটক দুজনের দেখানো মতে, বাড়ি থেকে সামন্য দূরের একটি বাঁশবাগান থেকে নিখোঁজ আরাফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। আটক দুজন পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেন, কাঁঠাল খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ মার্চ তারা আরাফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিলো। দুপুরে তাকে বাঁশবাগানে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার লাশ বাঁশপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে দেয়। এরপর টাকা আদায়ের জন্য তারা আরাফাতের পিতার কাছে হুমকি দিয়ে মেসেস পাঠায় এবং ফোন করে।