হাঁটু পানি-কাদা মাড়িয়ে চলা সেই রাস্তা সংস্কার করলেন ইউএনও

0

মাগুরা সংবাদদাতা॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের চরপাচুড়িয়া গ্রামবাসীর কোমর পানি আর হাঁটুকাদা মাড়িয়ে গ্রামবাসীর সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের ওউদ্যেগ নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল। মধুমতি নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কটির ২০০ গজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি দুই কিলোমিটার রাস্তায় একহাঁটু কাদা। প্রতিদিন নানা কাজে সারাদিনে চার-পাঁচবার উপজেলা শহরে তাকে ২০০ গজ সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পানি ও দুই কিলোমিটার রাস্তায় ভয়াবহ কাদা মাড়িয়ে চলতে হয় তিন গ্রামের দশ হাজার মানুষকে। বিকল্প কোনো সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় চড়পাচুড়িয়াসহ পাশ্বর্বতী তিন গ্রামের দশ হাজার মানুষ নিরুপায় হয়ে এই পথ উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। এ পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার বা পাকাকরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এই সড়ক দিয়ে চর পাচুড়িয়াসহ ফরিদপুরের বোয়ালমারি উপজেলার চরনারানদিয়া, রায়পাশা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি সংস্কারের উদ্যেগ নেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল। তিনি বালুর বস্তা ফেলে প্রাথমিকভাবে সড়কটি চলাচলের ব্যাবস্থা করেছেন।
সরেজমিনে আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এলাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার স্বচিত্র খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল ও সহকারি কমিশনার মো. দবির উদ্দিন বেহাল সড়কটি পরিদর্শন করেন। রাস্তার কাজ শুরুর উদ্যেগ নেন। মধুমতি নদীর পানিতে ডুবে যাওয়া প্রায় ২০০ ফুট রাস্তার ওপর বালুর বস্তা ফেলে চলাচলের উপযোগী হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এ গ্রামটির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার সঙ্গে বিরোধ ছিলো। প্রায় দুই বছর আগে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। সীমানা বিরোধের কারণে এখানে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যায়নি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত মধুমতি নদী পাড়ের চর পাচুড়িয়া গ্রামটিতে নুন্যতম কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (৬০) আ. সবুর মিয়া জানান, উপজেলা সদরে বাস করে আমরা চরম অবহেলিত। এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার। উপজেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য। নানা কাজে উপজেলা শহরে যেতে হয় পানি ও কাদা মাড়িয়ে। ইউএনও সাহেব বস্তা ফেলে আপাতত একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রমানন্দ পাল জানান, চরপাচুড়িয়াবাসীর সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মধুমতির পানি কমলে রাস্তাটি নির্মাণে দ্রুত সম্ভব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।