হবিগঞ্জে কবরের পাশের রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে দুজন নিহত

0
হবিগঞ্জের বাহুবলে কবরের পাশের রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কবরের পাশের রাস্তা নিয়ে দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) দিনব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) ও একই গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদিত্যপুর ও আরিচাপুর— এই দুই গ্রামের মধ্যবর্তী চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে আদিত্যপুর গ্রামের মোসাহিদ মেম্বার এবং আরিচাপুর গ্রামের নাসির ও আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে দুই গ্রামের ২০০ থেকে ২৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে এই ঘটনার রেশ ধরে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে দুই পক্ষ আবারও দ্বিতীয় দফায় মারাত্মক সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলাল মিয়াকে সিলেট নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত একটি কবরের পাশের রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।